চলন্ত বাসে ডাকাতি ও যৌন নিপীড়ন; তিন দিন পর মির্জাপুর থানায় মামলা
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় রাজশাহীগামী চলন্ত বাসে ডাকাতি এবং নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনার তিন দিন পর মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাসের যাত্রী নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ওমর আলী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে মামলাটি দায়ের করেন।
মির্জাপুর থানার ওসি মোশারফ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "আমরা এজাহার পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মামলাটি লিপিবদ্ধ করেছি। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।"
তিনি বলেন, "বাসের যাত্রীকে গাড়িতে করে নাটোরের বড়াইগ্রাম থেকে নিয়ে এসে মামলা দায়ের করা হয়েছে।"
গত সোমবার রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে আসা ইউনিক রোড রয়েলসের আমরি ট্রাভেলস-এর একটি বাসে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
যাত্রীদের ভাষ্যমতে, সোমবার রাত ১১টায় ঢাকার গাবতলী থেকে বাসটি ছাড়ে। রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে বাসে ডাকাতি শুরু হয়। তিন ঘণ্টা ধরে ডাকাতি শেষে ঘুরিয়ে একই জায়গায় বাসটি নিয়ে গিয়ে রাত ৩টা ৫২ মিনিটে ডাকাতেরা নেমে যায়। এরপর বাসের চালক, তার সহকারী ও সুপারভাইজার নানা টালবাহানা করতে থাকে। তারা বলেন, তাদের গাড়িতে তেল নেই।
অবশেষে যাত্রীদের চাপের মুখে পড়ে তারা রাজশাহীর উদ্দেশে বাস ছাড়েন। যাত্রীরা প্রথমে বাসটি নিয়ে মামলা করার জন্য টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় যান। সেখানে তখন ওসি ছিলেন না বলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার পরে বাসটি বড়াইগ্রামে থানায় ঢোকানো হয়।
এদিকে, বাস সুপারভাইজার, চালক এবং চালকের সহকারীকে প্রাথমিকভাবে আটক করা হলেও, তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় তারা জামিনে মুক্তি পান।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বরইগ্রাম প্রশাসনিক আদালত তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন বলে আদালত সূত্র থেকে জানা গেছে।
তাদের জামিন এই শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যেহেতু ঘটনা মির্জাপুর থানা এলাকার অন্তর্ভুক্ত, তারা মির্জাপুর পুলিশ স্টেশনে হাজির হবেন।
