আজ বিএনপির সমাবেশ; রাজপথে থাকবে আওয়ামী লীগও
চারদিনের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির পর ১০ দফা দাবিতে আজ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগে সমাবেশ করবে বিএনপি ও এর সমমনা দলগুলো।
বিএনপির কর্মসূচি চলাকালে সব বিভাগের রাজপথে একইসাথে অবস্থান করবে আওয়ামী লীগও। রাজধানীজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করবে বলে জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দল।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "ঢাকা শহরে নীরব মিছিলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা লক্ষণীয়। সরকার যত বেশি নির্যাতন করবে, আমাদের আন্দোলন তত শক্তিশালী হবে। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমেই চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হতে পারে।"
সারাদেশে সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে পৌঁছেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। চলমান আন্দোলনে ব্যাপকভাবে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে বিএনপির সিনিয়র নেতারা প্রস্তুতিমূলক সভা ও লিফলেট বিতরণ করছেন বলে জানিয়েছে দলটির সূত্র।
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ব্যাপক জনসমাবেশ নিশ্চিত করতে ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক বৈঠক হয়েছে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।
বিএনপির একাধিক নেতা টিবিএসকে বলেন, তারা ধীরে ধীরে চূড়ান্ত আন্দোলনের দিকে যাচ্ছেন। যেকোন সময় চূড়ান্ত আন্দোলন করতে প্রস্তুত দলের নেতাকর্মীরা। এসব আন্দোলনকে নষ্ট করার লক্ষ্যে সরকারি সব উস্কানি এড়াতে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তারা আরও বলেন, বছরের ১০ ডিসেম্বর থেকে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়া বিএনপিকে পুনরুজ্জীবিত করাই বিভাগীয় সমাবেশের লক্ষ্য। সমাবেশের মাধ্যমে বিরোধী দলের সাংগঠনিক শক্তি স্পষ্ট করা হবে।
কুমিল্লা বিভাগ: জানা গেছে, কুমিল্লার টাউন হল ময়দানে আজ দুপুর ২টায় সমাবেশ হবে। এতে প্রধান অতিথি বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন উপস্থিত থাকবেন।
রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহীর সোনা মসজিদ মোড়ে দুপুর ২ টায় অনুষ্ঠিত হবে সমাবেশ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
খুলনা বিভাগ: খুলনা সিটি করপোরেশনের সামনে সোসাইটি মোড়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন স্থায়ী কমিটি সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
বরিশাল বিভাগ: বরিশাল জেলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর আব্দুল মঈন খান।
চট্রগ্রাম বিভাগ: স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি অফিসের সামনে অনুষ্ঠিত হবে সমাবেশ।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠে দুপুর ২ টায় অনুষ্ঠিত হবে সমাবেশ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সিলেট বিভাগ: সিলেট রেজিস্ট্রার মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান।
ফরিদপুর বিভাগ: ফরিদপুর কমলপুর হাইস্কুল মাঠে দুপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু।
রংপুর বিভাগ: রংপুর মহানগর বিএনপি অফিসের সামনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বিএনপি ভাইস-চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান।
বিএনপির পাশাপাশি আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে সমাবেশ করার কথা গণতন্ত্র মঞ্চের।
'১২ দলীয় জোট' বিজয় নগর পানির ট্যাংক পাম্প সংলগ্ন সকাল ১১টায়, 'জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট' পুরানা পল্টন আলরাজী কমপ্লেক্স প্রিতম ভবনের উল্টোদিকে সকাল ১১টা, 'গণফোরাম ও পিপলস পার্টি' মতিঝিল নটরডেম কলেজের উল্টোদিকে বিকেল ৪টা এবং 'গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য' জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১টায় ও 'এলডিপি' এলডিপি কারওয়ান বাজার এফডিসি সংলগ্ন এলাকায় বিকেল ৩টায় সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে।
বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, বিএনপি ধাপে ধাপে চূড়ান্ত আন্দোলনের দিকে যাচ্ছে। যেকোনো সময় চূড়ান্ত আন্দোলনে নামতে নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে এসব আন্দোলন কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করার নানা পায়তারা থাকবে, সেগুলোকে ভেস্তে দিয়েই দাবি আদায় করতে হবে। যুগপৎ আন্দোলনের সাথে জড়িত সকল দলকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত সমাবেশের কর্মসূচি দেয়নি। তবে আগের মতোই শনিবার সকাল থেকে রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
তিনি বলেন, "কোনো অবস্থাতেই বিএনপিকে ছাড় দেওয়া হবে না। কোথাও কোনো সহিংসতা ও নৈরাজ্যের আভাস পাওয়া মাত্রই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।"
নেতারা বলছেন, বিএনপি ও তার মিত্রদের আগের কর্মসূচি ঘিরে সম্ভাব্য নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস ঠেকাতে মাঠে অবস্থান ছিল তাদের।
১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশ, ৩০ ডিসেম্বরের গণমিছিল, ১১ জানুয়ারির গণঅবস্থান এবং পরে চার দিনের পদযাত্রাসহ সব কর্মসূচি ঘিরে সর্বাত্মক পাহারায় ছিলেন তারা।
আজও একই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ থাকবে। বিশেষ করে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের দিকে সতর্ক নজর রাখা হবে।
