‘মেন্টর দিয়ে কী লাভ হয়, আমাকে একটু বলতে পারবেন?’- প্রশ্ন মাশরাফির
হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলে তামিম ইকবালকে গণভবনে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাশরাফি বিন মুর্তজার মাধ্যমে তামিমকে ডেকে তার সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা করেন তিনি, নির্দেশনা দেন অবসর ভেঙে ফেরার। তিন ঘণ্টার সেই আলোচনার মাঝে মাশরাফিকে বিশ্বকাপে মেন্টর হিসেবে চান তামিম, মেলে প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সঙ্কেতও।
সেই বৈঠকের পর দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে আলাপকালে মাশরাফি জানান, এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী তাকে ভাবতে বলেছেন। কিন্তু মাশরাফির মত ছিল এমন, 'তিনি আমাকে বলেছেন ভাবতে। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, দল ঠিক আছে। এখানে বাড়তি কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই।' তিনি এও বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিলে সেটা মানতেই হবে। আবারও একই কথা বললেন মাশরাফি। তিনি জানালেন, মেন্টরের কী কাজ, তিনি তা জানেন না।
ওয়ানডের সফলতম অধিনায়ক যে ভারতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে মেন্টরের দায়িত্ব নিতে চান না, সেটা বিভিন্ন সময়ে তার বক্তব্যে বোঝা গেছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশের হয়ে শেষ ওয়ানডে খেলা মাশরাফির কোনো চাওয়া নেই, বরং প্রশ্ন আছে বিশ্বকাপ মেন্টর লাগবে কেন। বুধবার ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের একটি অনুষ্ঠানে মাশরাফি বলেন, 'আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আমি যেমন আছি, ভালো আছি। কোনো সমস্যা নেই। দল ভালো করুক, ভালো করবে। এটাই আমার চাওয়া।'
'মেন্টর দিয়ে কী লাভ হয়? আমাকে একটু বলতে পারবেন? আমি জানি না, ও (তামিম) কেন চাচ্ছে! মেন্টর জিনিসটা তো... অন্য জিনিস। মেন্টরের কাজটা কী, আমি জানি না। (দলের প্রয়োজন) সে রকম পরিস্থিতি এলে, সে রকম হলে তখন বলা যাবে। এখন এই মুহূর্তে আমাকে প্রশ্ন করলে, এর উত্তর নেই। এখানে আমি কী উত্তর দেব? যদি সে রকম কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয় ভবিষ্যতে, সেরকম কিছু হয়, তখন আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে কিছু বলা যাবে। এই মুহূর্তে আমি তো ও রকম কিছু দেখি না।' যোগ করেন সাবেক এই অধিনায়ক।
বিশ্বকাপে মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করার বিষয়ে কোনো ভাবনাই নেই মাশরাফি। তার ভাষায়, '(তামিমের চাওয়া মেন্টর হিসেবে) সেটা ভিন্ন জিনিস। আমার কোনো মাইন্ড সেট-আপ নেই। আমি আগেও বলেছি, আমার এ রকম কোনো মাইন্ড সেট-আপ নেই। আপনারা যে প্রশ্ন করছেন, এই প্রশ্নের উত্তরও নেই আমার কাছে। তো আমি কোনো কিছু জানি না। আমার বর্তমানে কী কাজ, সেটা শুধু জানি। কাল যেটা কাজ আসবে, সেটা করব। পরশু দিনের কথা বলা বা কালকের চিন্তা করার এখন আমার সময় নেই।'
তবে আগের মতো করেই মাশরাফি জানালেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে তিনি প্রস্তুত থাকবেন, 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিছু ডিজায়ার করলে সেটা ভিন্ন জিনিস। সেটার সাথে তর্কে যাওয়ার বা কথা বলার সুযোগ নেই। এই মুহূর্তে আমি আপনাদের কী বলতে পারি! আমি কিছুই বলতে পারি না। কালকে কী পরিস্থিতি হবে, সেটা আমরা কেউ জানি না। সে রকম কোনো কিছু ঘটলে তখন দেখা যাবে। এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, দল ভালো থাকা, দলের ভালো খেলা। যেটা আমরা সবাই আশা করছি।'
