মেসি বনাম এমবাপ্পে: কাতার শেখের স্বপ্নের ফাইনাল
কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্স। যারাই জিতুক না কেন, কাতারের জয় সুনিশ্চিত! কীভাবে? আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসি এবং ফ্রান্সের সেরা খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পে, দুজনই যে ক্লাব ফুটবলে খেলেন ফরাসি ক্লাব পিএসজির হয়ে। আর পিএসজির মালিকপক্ষ কাতারের বর্তমান শেখ, তামিম বিন হামাদ আল থানি।
এক অর্থে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়েও ফাইনালে উপস্থিত থাকছেই কাতার। হোক সেটা পরোক্ষভাবে, আর্জেন্টিনা বা ফ্রান্সের মধ্যে যারাই জিতুক, বড় জয়টা হবে কাতারেরই!
কাতারের ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজন করাটাও আরও বেশি স্বার্থক হয়েছে তাদেরই মালিকানাধীন ক্লাবের সেরা দুই খেলোয়াড় ফাইনালে উঠাতে। ২০০৫ সালে কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের সূচনা করেন হামাদ আল থানি। যার মাধ্যমে পিএসজিকে কিনে নেন তিনি। নাসের আল খেলাইফিকে ক্লাব পরিচালনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
খেলাইফিই পিএসজির যাবতীয় খেলোয়াড় বেচাকেনা দেখাশোনা করে এসেছেন। তার হাত ধরে পিএসজিতে খেলেছেন জলাতান ইব্রাহিমোভিচ, থিয়াগো সিলভা, মার্কো ভেরাত্তির মতো খেলোয়াড়েরা। ২০১৭ সালে তো বার্সেলোনা থেকে নেইমারকে কিনেছিলেন প্রায় ২৪০০ কোটি টাকা দিয়ে! এখন পর্যন্ত যেটি বিশ্বরেকর্ড হিসেবে টিকে আছে।
সেই বছরেই খেলাইফি নিয়ে আসেন আগের বছর ফ্রান্সের ঘরোয়া লীগে দুর্দান্ত খেলা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে, যদিও সেটি ছিল আরেক ফরাসি ক্লাব মোনাকো থেকে ধারে। ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে দ্যুতি ছড়িয়ে জেতার পর এমবাপ্পেকে পাকাপাকিভাবে কিনে নেয় পিএসজি। ১৯ বছর বয়সী এমবাপ্পের জন্য তাদেরকে গুনতে হয় ১৯০০ কোটি টাকা। যা কোনো টিনেজারের দলবদলের ক্ষেত্রে বিশ্বরেকর্ড।
নেইমার, এমবাপ্পেকে এনেই ক্ষান্ত হননি খেলাইফি। ২০২১ এর জুনে সুযোগমতো সবচেয়ে বড় দাওটা মারেন তিনি। বার্সেলোনার টালমাটাল অবস্থায় ক্লাব ছাড়তে বাধ্য হন লিওনেল মেসি, সেই সময়ই মেসিকে পিএসজিতে নিয়ে আসেন খেলাইফি।
যদিও মেসির জন্য বার্সেলোনাকে কোনো টাকা দিতে হয়নি পিএসজির। কারণ বার্সেনলোনার সঙ্গে চুক্তি শেষে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে পিএসজিতে যোগ দিয়েছিলেন মেসি। যা খেলাইফির জন্য আরও বড় জয় ছিল।
মরক্কো এবং ফ্রান্সের মধ্যেকার খেলায় উপস্থিত ছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। ম্যাচশেষে কাতারের বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে বন্দনা করেন তিনি। ফ্রান্সের ফুটবলে কাতারের অবদান তো আর অস্বীকার করার উপায় নেই।
ফাইনালে আর্জেন্টিনা বা ফ্রান্সের যারাই জিতুন না কেন, কাতারের বিজয়গাঁথাও লেখা হবে একইসঙ্গে। বহু বিতর্ক পেছনে ফেলে একটি সফল এবং অসাধারণ বিশ্বকাপ উপহার দিয়েছে কাতার, ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যা ভক্তদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে আজীবন।
