ফুটবল বিশ্বকাপে সহোদর, সহযোদ্ধা যারা
লাইবেরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়েহ ছিলেন এককালের নামজাদা ফুটবলার। জিতেছেন ব্যালেন ডি'অরের মতো পুরস্কার। রেকর্ড করাতে পিছিয়ে নেই তাঁর ছেলে টিমোথি-ও। দিন দুয়েক আগেই তিনি অনন্য এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন যুক্তরাষ্ট্র দলের হয়ে খেলে। বাবার চেয়ে ভিন্ন দেশের জাতীয় দলের হয়ে খেলেই টিমোথি ইতিহাস সৃষ্টি করেন।
ফুটবলের বংশগত ঐতিহ্য থাকা একমাত্র খেলোয়াড় অবশ্য নন তিনি। এবারের কাতার বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন পাঁচ জোড়া সহোদর ভাই। তবে তাদের সবাই আবার একই দলের হয়ে খেলছেন না।
লুকাস এবং থিও হার্নান্দেজ
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে হাঁটুতে চোট পাওয়ায় এবারের বিশ্বকাপ আসর থেকে বাদ পড়েন ফ্রান্স দলের ডিফেন্ডার লুকাস হার্নান্দেজ। মাঠে লুকাসের বদলী খেলোয়াড় হিসেবে নামেন তাঁরই ভাই থিও হার্নান্দেজ।
জাতীয় দলে এক হয়ে খেললেও, ক্লাব ফুটবলে ভিন্ন পথযাত্রী দুজনে। লুকাস বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখে, আর থিও আছেন এসি মিলানে।
আঁন্দ্রে এবং জর্ডান আয়েউ
মাঠে সাবলীল আয়েউ ভাইদের ২৬ জনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রেখেছেন ঘানার কোচ অটো আদ্দো।
২০১০ সালেই বিশ্বকাপ স্কোয়াডভুক্ত হন ৩২ বছরের আঁন্দ্রে। অন্যদিকে, ২০১৪ সালে সে সুযোগ পান জর্ডান। তাদের বাবা ছিলেন ঘানা জাতীয় দলের সাবেক ক্যাপ্টেন এবং চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ী– আবেদি পেলে।
এডেন ও থরগ্যান হ্যাজার্ড
বেলজিয়ামের হয়ে দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্বকাপে খেলছেন হ্যাজার্ড ভাইয়েরা। দুজনের মধ্যে থরগ্যান একজন উইঙ্গার, ভাই এডেনের মতো একজন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারও তিনি।
ক্লাব ফুটবলে স্পেনিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষে লড়েন এডেন। থরগ্যানের ক্লাব বরুসিয়া ডোর্টমুন্ড। তাদের আছে আরও দুই ভাই– তারাও পেশাদার ফুটবলার।
সের্গেই এবং ভানিয়া মিলিনকোভিচ- সাভিচ
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলবে সার্বিয়া। তাদের জাতীয় দলেও রয়েছেন দুই সহোদর– সের্গেই এবং ভানিয়া মিলিনকোভিচ- সাভিচ।
দুজনের মধ্যে সের্গেই হলেন লাজিও ক্লাবের সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার। তোরিনোর টিমের গোলরক্ষক হলেন ভানিয়া।
তবে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে গোলরক্ষক হিসেবে সার্বিয়ার কোচ আস্থা বেশি রাখেন প্রিড্রাগ রাকোভিচের ওপর। তাই এবারের আসরে ভানিয়া মাঠে নামার সুযোগ নাও পেতে পারেন।
ইনাকি এবং নিকো উইলিয়ামস
ক্লাব ফুটবলে একই দলের হয়ে খেলেন এ দুই ভাই। কিন্তু, বিশ্বকাপে দুই ভাই ভিন্ন ভিন্ন পতাকার প্রতিনিধি। ইনাকি তার জন্মভূমি ঘানার হয়ে খেলছেন। এদিকে নিকোর জন্ম স্পেনে, বলতে গেলে তিনিও খেলছেন জন্মভূমির হয়েই। জন্মস্থল আর জাতীয়তা যাই হোক– দুই ভাই ভ্রমণের বেলায় অভিন্ন আত্মা। কিন্তু, জীবনে এবার প্রথমবারের মতো আলাদা হয়ে সফর করছেন তারা।
