নাঈম ভেল্কিতে শেষ বিকেলে স্বস্তি
প্রতিপক্ষ স্কোরকার্ডে বড় রান যোগ করতে না পারলেও কিছুটা আফসোস হয়ে থাকলো সকালের প্রথম কয়েক ঘণ্টা। দুটি ক্যাচ মিস না হলে হয়তো স্কোরকার্ডটা আরও বেশি পছন্দ হতো বাংলাদেশের। প্রথম দিন শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ২২৮ রান, সফরকারীদের হাতে উইকেট আছে ৪টি।
শেষ বিকেলে স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশ শিবিরে। প্রায় পুরোদিন ধরে বাংলাদেশকে ভোগানো জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ক্রেইন আরভিনকে ফিরিয়ে স্বস্তি এনে দেন ৪ উইকেট নেওয়া নাঈম হাসান। এরআগেই অবশ্য ১০৭ রানের মহা কার্যকর এক ইনিংস খেলেন টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পাওয়া আরভিন।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে জিম্বাবুয়ে। টেস্ট মেজাজে অতি সাবধানি শুরু করেও সুবিধা করতে পারেনি ক্রেইগ আরভিনের দল। দলীয় ৭ রানেই জিম্বাবুয়ে শিবিরে আঘাত হানেন আবু জায়েদ রাহি। জিম্বাবুয়ের ওপেনার কেভিন কাসুজাকে ফিরিয়ে দেন ডানহাতি এই পেসার।
দারুণ শুরু পেয়েও খুব একটা লাভ হয়নি। রাহির কণ্ঠে সুর মিলিয়ে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিতে পারেননি বাকি বোলাররা। শুরুতেই উইকেট হারানোর চাপ সামলে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন আরেক ওপেনার প্রিন্স মাসভাউরে ও অধিনায়ক আরভিন।
এই জুটিতে ছন্দ পেয়ে যায় সফরকারীরা। দ্বিতীয় উইকেটে ১১১ রানের জুটি গড়ে তোলেন মাসভাউরে ও আরভিন। দলীয় ১১৮ রানে গিয়ে বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দেন স্পিনার নাঈম হাসান। ৬৪ রান করা মাসভাউরেকে থামান তিনি।
দ্বিতীয় উইকেট নেয়ার পর বল হাতে শাসন করতে শুরু করে বাংলাদেশ। কিছুক্ষণ পরই ব্রেন্ডন টেলরকে সাজঘর দেখিয়ে দেন দিনের সেরা বোলার নাঈম। এরপর সিকান্দার রাজাকেও উইকেটে টিকতে দেননি ডানহাতি তরুণ এই অফ স্পিনার। ১৮ রান করা সিকান্দারকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন নাঈম।
অন্যপাশে ভাঙনের সুর বাজতে থাকলেও তাতে কান দেননি আরভিন। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক খেলে গেছেন ধীর-স্থির মাথায়। টিমিসেন মারুমাও অধিনায়ককে সঙ্গ দিতে পারেননি। আবু জায়েদ রাহির এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন তিনি।
দিনের খেলার বাকি তখন ১০ বল। মনে হচ্ছিল রেজিস চাকাভাকে নিয়ে দিন শেষ করে ফেলবেন আরভিন। কিন্তু নাঈম সেটা হতে দেননি। দারুণ এক ডেলিভারিতে আরভিনকে পরাস্থ করেন তরুণ এই স্পিনার। ২২৭ বলে ১৩টি চারে ১০৭ রান করেন আরভিন। নাঈম ৪টি ও রাহি ২টি উইকেট নেন।
এদিন বাংলাদেশের বোলিং বিভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন নাঈম। প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করতে তাকেই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছেন অধিনায়ক মুমিনুল। এক স্পেলেই টানা ৩২ ওভার বোলিং করেছেন নাঈম।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড:
জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস: ৯০ ওভারে ২২৮/ (ক্রেইগ আরভিন ১০৭, মাসভাউরে ৬৪; রাহি ২/৫১, নাঈম ৪/৬৮)।
