দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান পাকিস্তানের ১০০ ক্রিকেটার

তার পরিচয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সফরে পাকিস্তান দলে অভিষেক সামি আসলামের। ওই সিরিজেই টেস্ট এবং ওয়ানডে অভিষেক হয় তার। এরপর পাকিস্তানের হয়ে ১৩টি টেস্ট ও ৪টি ওয়ানডে খেলেছেন বাঁহাতি এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। কিন্তু এই সামি আসলামই এখন যুক্তরাষ্ট্রের।
পাকিস্তানের ক্রিকেট ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন পাকিস্তানের এই ক্রিকেটার। ঠিকানা বদলালেও পেশা বদলায়নি তার। যুক্তরাষ্ট্রেও তার কাজ ক্রিকেট খেলা, অপেক্ষায় আছেন নাগরিকত্ব পাওয়ার। নতুন ঠিকানায় ভালোই সময় কাটছে বলে জানিয়েছেন সামি। তবে তার দেওয়া একটা খবরে ঘুম হারাম হয়ে যেতে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি।
গত বছর পাকিস্তানের ক্রিকেট ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো ২৫ বছর বছর বয়সী সামি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের একশোর' বেশি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতে চান। ইতোমধ্যে তার সঙ্গে প্রথম শ্রেণির সেই সব ক্রিকেটারের যোগাযোগ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের একটি ক্রিকেট ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সামি বলেন, 'পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরের অনেক ক্রিকেটার যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হতে চায়, আমি এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি। প্রথম শ্রেণির একশো'র বেশি ক্রিকেটারের আমাকে ফোন করেছে, তারা সবাই খোঁজখবর নিচ্ছে। এমনকি পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটের সেরা পারফরমাররাও এখানে আসতে চায়।'
নিজেদের ক্রিকেটকে শক্তিশালী করতে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন দেশ থেকে ক্রিকেটার নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট। এই মুহূর্তে তাদের চোখ অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের দিকে। তবে পাকিস্তানের কয়েকজন ক্রিকেটার চুক্তি স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি আছেন বলে জানান সামি।
তিনি বলেন, 'এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট অনেক বেশি অস্ট্রেলিয়ান ও দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটারদের এখানে আনতে চাইছে। তবে অনেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার এখানে আসতে মরিয়া ও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কয়েকজন চুক্তি স্বাক্ষর করার কাছাকাছিও আছে।'
যুক্তরাষ্ট্রে ভালোই সময় কাটছে সামির। পাকিস্তানের ক্রিকেট ছেড়ে গেলেও এ নিয়ে বিন্দু পরিমাণ আক্ষেপ নেই তার। সামির ভাষায়, 'যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার অনুমতি পেতে তিন বছর লাগবে, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে আমি খেলার জন্য বিবেচিত হব। একটু আক্ষেপও নেই আমার। পাকিস্তানের ক্রিকেটে দুই বছর হতাশায় ডুবে থাকার পর এখানে খুবই ভালো আছি।'
কী কারণে পাকিস্তান ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঠিকানা গেড়েছেন, সেটাও জানিয়েছেন তিনি। সামি বলেন, 'গত ৫-৬ বছরে ঘরোয়া ক্রিকেটের সব সংস্করণে পারফর্ম করার পরও নির্বাচকদের উপেক্ষা পেয়েছি, ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। দলে নেওয়া হলেও দুই-এক ম্যাচ খেলিয়ে বাদ দেওয়া হতো। কঠিন কন্ডিশনে পারফর্ম করার পরও বাদ পড়েছি। কেউ কেউ ১০ ম্যাচে ব্যর্থ হলেও সুযোগ পায়, আমি দুই ম্যাচ খারাপ করলেই বাদ।'
গত বছর সামি আসলামের যুক্তরাষ্ট্র চলে যাওয়া ছিল পাকিস্তানের ক্রিকেটে আলোচিত ঘটনা। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে পাকিস্তান দলে জায়গা পাওয়া এই ক্রিকেটার জাতীয় দলের হয়ে খেলেন ১৩ টেস্ট ও ৪ ওয়ানডে। টেস্টে ৭ হাফ সেঞ্চুরিতে ৩১.৫৮ গড়ে ৭৫৮ রান করেন তিনি। ৪ ওয়ানডেতে ছিল না কোনো হাফ সেঞ্চুরি। ২০১৭ সালে বাদ পড়ার পর আর ডাক মেলেনি। হতাশায় গত বছর যুক্তরাষ্টে চলে যান সামি।