জাপানে নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখল এলডিপি
জাপানের ক্ষমতাসীন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) পার্লামেন্টে একক দল হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পেরেছে। বিষয়টিকে মাত্র এক মাস আগে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া ফুমিও কিশিদার জন্য বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এলডিপি রোববারের সাধারণ নির্বাচনে নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনের মধ্যে ২৭৬টি আসনে জয় পেয়েছে। এর ফলে জোট শরিক কোমেইটোকে ছাড়াই শাসনকাজ পরিচালনা করতে পারবে এলডিপি।
৬৪ বছর বয়সী কিশিদা এই মাসের শুরুতে এলডিপির নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।
এলডিপি কয়েক দশক ধরে জাপানের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসলেও মহামারি মোকাবেলায় যথাযথ ভূমিকা না রাখতে পারায় বেশ সমালোচিত হয়েছে।
কিশিদার পূর্বসূরি ইয়োশিহিদে সুগা মাত্র এক বছর ক্ষমতায় থাকার পর গত সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন।
কোভিড-১৯ মহামারির মাঝে জনসাধারণের উদ্বেগ সত্ত্বেও টোকিও অলিম্পিক চালিয়ে যাওয়া, পর্যটন শিল্পে তার 'গো টু' নামক ভ্রমণ কর্মসূচি, সরকারের সমালোচনাকারী একটি বিজ্ঞ দলকে সরিয়ে দেওয়া এবং বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবা খরচের নীতিতে একটি 'জুনিয়র কোয়ালিশন পার্টির' সঙ্গে সমঝোতা করায় কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী সুগা। জনপ্রিয়তা কমে আসতে শুরু করে তার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতায় আসার পর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই পদত্যাগ করেন তিনি।
কিশিদা দীর্ঘদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রীর পদকে নিজের লক্ষ্য বানিয়ে রেখেছিলেন। সুগার পদত্যাগ তার সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথকেই সুগম করেছে। ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন কিশিদা।
নির্বাচনের প্রাথমিক জরিপে দেখা গিয়েছিল, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য জোট শরিক কোমেইটো পার্টির ওপর নির্ভর করতে হবে এলডিপিকে। তবে নির্বাচনের ফলে দেখা গেছে, দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য এলডিপির প্রয়োজন ছিল ২৩৩টি আসন, যেখানে পেয়েছে ২৬১টি আসন। আর জোট শরিক কোমেইটো পেয়েছে ৩২টি আসন। সব মিলিয়ে এই জোটের আসন দাঁড়িয়েছে ২৯৩টি।
নির্বাচনের আগে কিশিদা মহামারি মোকাবেলায় কয়েক ট্রিলিয়ন ইয়েন ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। রোববার নির্বাচনের রাতে জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকেকে তিনি বছর শেষ হওয়ার আগেই অতিরিক্ত বাজেটের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
কে এই ফুমিও কিশিদা
ফুমিও কিশিদা জাপানের একটি রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তার দাদা মাসাকি কিশিদা ও বাবা ফুমিতোকে কিশিদা দুজনেই ছিলেন নিম্নকক্ষের সদস্য।
ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮২ সালে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন কিশিদা। ১৯৯৩ সালে তিনি আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হন। ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ওকিনাওয়া বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ছিলেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার আগে কেউই এতোদিন ধরে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেননি।
- সূত্র- বিবিসি
