অ্যান্টিবডি-ভিত্তিক ওষুধের সফল পরীক্ষা করেছে ব্রিটিশ-সুইস ফার্মা অ্যাস্ট্রাজেনেকা
ব্রিটিশ-সুইস মালিকানাধীন ওষুধ প্রস্তুতকারক অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবার কোভিড-১৯ অ্যান্টিবডি-ভিত্তিক ওষুধ পরীক্ষায় সফলতা পেয়েছে। এতে নতুন আশার আলো জেগেছে করোনাভাইরাস সৃষ্ট রোগটির অবসানে চিকিৎসা উদ্ভাবনের সম্ভাবনা ঘিরে। কোম্পানিটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে টিকা আবিষ্কারের গবেষণাতেও জড়িত।
লন্ডন পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত অ্যাস্ট্রাজেনেকা বর্তমানে ভ্যাকসিন উৎপাদনের বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় সবার চাইতে এগিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। নতুন ওষুধ পরীক্ষার ব্যাপারে তারা জানায়, তাদের তৈরি AZD7442- ফর্মুলায় দুই ধরনের মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডির মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি নিরাপদ এবং যাদের শরীরে দেওয়া হয়, তারা এর প্রতিক্রিয়াও সহ্য করতে পেরেছেন। ইতোমধ্যেই, ১৮ থেকে ৫৫ বছরের ৪৮ জন স্বেচ্ছাসেবীর দেহে মিশ্রণটি প্রয়োগ করে এ ফলাফল পাওয়া গেছে।
এদিকে সফল ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ঘোষণার পর লন্ডন বাজারে কার্যদিবসের শুরুতেই অ্যাস্ট্রাজেনেকার শেয়ারের দর ১% বাড়ে। শেয়ারপ্রতি হাতবদল হয় ৮৭ পাউন্ড বা ১১৪ মার্কিন ডলারে।
মূলত সংক্রমণের শিকার হলেই মানবদেহে রক্তকণিকায় তৈরি হয় কোভিড-১৯ প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি। এর আগে রেজেনেরন, এলি লিলি, রোচে এবং মলিউকিউল্যার পার্টনার্স- এর মতো কিছু জৈব-প্রযুক্তি কোম্পানি প্রাকৃতিক অ্যান্টিবডির রাসায়নিক গঠনের উপর ভিত্তি করে- ওষুধ প্রস্তুতের গবেষণা শুরু করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের শীর্ষ বিজ্ঞানীরাও অ্যান্টিবডি ভিত্তিক ওষুধকে সম্ভাবনাময় বলেই মনে করছেন।
গবেষণাগারে তৈরি এমএবি বা অ্যান্টিবডি মানবদেহে থাকা জৈব-রাসায়নিক উপাদানটির সঙ্গে সামঞ্জস্যপুর্ণ। এধরনের সংশ্লেষিত এমএবি করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণে বাড়াতে পারে। বর্তমানে কয়েক ধরনের ক্যান্সারের চিকিৎসাতেও এ পদ্ধতিটি সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউসি অ্যান্টিবডি ভিত্তিক ওষুধকে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে নিশ্চিত বাজি জয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন। গত জুনেই এ ধরনের ওষুধ গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা'কে দুই কোটি ৩৭ লাখ ডলার তহবিল দেয়।
নতুন ওষুধের ব্যাপারে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ওষুধ গবেষণা বিভাগের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মেনে পাঙ্গেলোস বলেন, ''অ্যান্টিবডির মিশ্রণের সঙ্গে এর আয়ুষ্কাল বৃদ্ধিকারী প্রযুক্তিকে যুক্ত করেছি আমরা। তাই এটি অনেক বেশি ফলদায়ক যেমন হয়ে উঠবে, ঠিক তেমনি বাড়বে এর স্থায়িত্বও। স্বাভাবিকভাবেই এর ফলে জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধের সক্ষমতা শক্তিশালী হবে।''
বিশ্ব মহামারি প্রতিরোধের চেষ্টায় আলোচনার কেন্দ্রে স্থায়ী সমাধান ভ্যাকসিন গবেষণা থাকলেও- তার পাশাপাশি বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কারের চেষ্টাও থেমে নেই। গত রোববারই- ইতোপূর্বে সংক্রমিত ব্যক্তি দেহের রক্তের প্লাজমা অসুস্থ রোগীর দেহে প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে মার্কিন সরকার।
চলতি সপ্তাহের গোঁড়াতেই ব্রিটিশ দৈনিক- ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, আগামী নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিড-১৯ প্রার্থী ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দিতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প।
