‘অবসর নিচ্ছি না; কোচ কথা রাখেননি’: ১,৭০০ শব্দের বিবৃতিতে পর্তুগাল কোচের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতিভঙ্গের অভিযোগ রোনালদোর
পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুসের বিরুদ্ধে কথা না রাখা এবং গত সপ্তাহে জাতীয় দল থেকে তার আকস্মিক বিদায় নিয়ে মিথ্যা তথ্য তুলে ধরার অভিযোগ করেছেন তারকা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে পর্তুগালের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এবং পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ১ হাজার ৭৪০ শব্দের এক দীর্ঘ বিবৃতিতে ৪১ বছর বয়সী রোনালদো এসব অভিযোগ করেন।
এতে গত সপ্তাহে চারটি নেশনস লিগ ম্যাচের মাঝপথে পর্তুগাল শিবির ছাড়ার জন্য সতীর্থ ও সমর্থকদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।
তবে তিনি বলেছেন, ২৭ সেপ্টেম্বর নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে ৩০ মিনিট খেলানোর কথা বলেছিলেন জেসুস। কিন্তু তিনি সেই কথা রাখেননি। এরপর ৪৮ ঘণ্টা পর সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের সম্মতি অনুযায়ী যে বিবরণ দেওয়ার যে কথা হয়েছিল, সেটিও জেসুস রাখেননি।
এসব কারণেই তিনি এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান রোনালদো।
বিবৃতিতে রোনালদো জানান, তিনি পর্তুগালের হয়ে খেলা থেকে অবসর নিচ্ছেন না এবং 'এক বা একাধিক বিদায়ী ম্যাচ' খেলার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে একটি চিঠিও লিখেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পথে বিমানে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা তাকে সিদ্ধান্তটি থেকে সরে আসতে রাজি করান।
জাতীয় দলের শিবির থেকে আকস্মিকভাবে চলে যাওয়ার ঘটনায় যে শাস্তিই দেওয়া হোক, তা তিনি মেনে নেবেন বলেও জানান রোনালদো।
জর্জ জেসুস ও রোনালদোর মধ্যে সংকট নিয়ে এক বৈঠকের পর পর্তুগালের জাতীয় দলের শিবির থেকে আগেভাগেই চলে যান রোনালদো। এর ফলে নেশনস লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার পথে ডেনমার্ক ও নরওয়ের বিপক্ষে দলের জয়ে তিনি খেলতে পারেননি।
পরে প্রোয়েনসা বলেন, জেসুস ও রোনালদোর মধ্যকার বিরোধটি শুধু একটি 'ভুল বোঝাবুঝি' এবং রোনালদো জাতীয় দলে ফিরতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
পর্তুগালের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরটিপি নোটিসিয়াকে তিনি বলেন, 'এখন এই চারটি (নেশনস লিগের) ম্যাচ শেষ হয়েছে। আমরা সময় নিয়ে শান্তভাবে বসব এবং অবশ্যই এই ভুল বোঝাবুঝির সর্বোত্তম সমাধান খুঁজে বের করব।'
তিনি আরও বলেন, 'ফেডারেশন, কোচ ও খেলোয়াড়—এই তিন পক্ষই যখন পুরো প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে যায়, তখন এ ধরনের ভুল বোঝাবুঝি এমনিতেই মিটে যায়। আমি সবাইকে আবারও বলতে চাই: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এই জাতীয় দলের অংশ এবং কোচ যখনই প্রয়োজন মনে করবেন, তিনি দলের হয়ে মাঠে নামতে প্রস্তুত থাকবেন।'
এটি ছিল রোনালদোর ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার সুযোগ না পাওয়ার চতুর্থ ঘটনা।
এর আগে ২০০৬ বিশ্বকাপ ও ২০০৮ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তিনি বেঞ্চ থেকে মাঠে নামেননি, তখন অবশ্য পর্তুগালের পরের পর্বে যাওয়া নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। আরেকবার ২০২৪ ইউরোর প্রস্তুতি হিসেবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে তিনি মাঠে নামেননি।
ম্যাচের পর জেসুস বলেন, 'ক্রিস্টিয়ানোকে মাঠে নামানোর জন্য সময়টা সঠিক ছিল না।'
ম্যাচের পরিস্থিতির কারণে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছিলেন বলেও জানান জেসুস।
পরে রোনালদো বলেন, 'সময় হলে' তিনি 'পর্তুগালের সব মানুষকে' জাতীয় দল থেকে তার চলে যাওয়ার 'সত্য' জানাবেন।
ওই সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে জেসুস বলেন, তিনি রোনালদোকে জানিয়েছিলেন যে নরওয়ে ও ডেনমার্কের বিপক্ষে তিনি খেলবেন না। তিন দিন পরপর ম্যাচ খেলার ক্ষেত্রে রোনালদোর সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে তাদের দুজনের মধ্যে 'কোনো সমস্যা নেই' বলে জোর দিয়ে জানান জেসুস।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রোনালদোর এজেন্সি জেস্টিফুট এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) সঙ্গে যোগাযোগ করেছে দ্য অ্যাথলেটিক।
বিবৃতিতে রোনালদোর করা দাবিগুলো এখানে তুলে ধরা হলো।
বিরোধের শুরু যেভাবে
রোনালদো তার বিবৃতিতে দাবি করেন, বিশ্বকাপের পর রবার্তো মার্তিনেজ চলে যাওয়ার পর পর্তুগালের কোচ হিসেবে জেসুসকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেছিলেন।
তিনি জানান, এতে তিনি 'সত্যিই খুশি' হয়েছিলেন এবং এটি 'সঠিক সিদ্ধান্ত' ছিল।
রোনালদো বলেন, গ্রীষ্মে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসরের ক্রীড়া পরিচালক সিমাও কুতিনিও এবং জেসুসের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। সেখানে চারটি নেশনস লিগ ম্যাচে দলের সঙ্গে তার অংশগ্রহণ নিয়ে একটি পরিকল্পনা তাকে দেওয়া হয়। ওই ম্যাচগুলো ছিল ওয়েলসের বিপক্ষে ২৪ সেপ্টেম্বর, নরওয়ের বিপক্ষে ২৭ সেপ্টেম্বর, ডেনমার্কের বিপক্ষে ১ অক্টোবর এবং আবার নরওয়ের বিপক্ষে ৪ অক্টোবর।
রোনালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, জেসুস তাকে বলেছিলেন তিনি প্রথম ও চতুর্থ ম্যাচে খেলবেন। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচের জন্য নরওয়ে ও ডেনমার্ক সফরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন জেসুস।
তিনি বলেন, তিনি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ তিনি মনে করেছিলেন, তিনি না খেললেও অধিনায়ক হিসেবে দলের সঙ্গে না থাকা 'ভালো দেখাবে না'।
তিনি আরও বলেন, নরওয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের দিন দুপুরে জেসুস তাকে জানান যে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন এবং সেদিন রাতে তাকে ৩০ মিনিট খেলাবেন।
রোনালদো বলেন, তার শারীরিক পুনরুদ্ধার ও অনুশীলন পরিকল্পনার বাইরে হলেও তিনি এতে রাজি হন।
কিন্তু ওই ম্যাচে রোনালদো মাঠে না নেমে বেঞ্চেই বসে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
বিবৃতিতে বলেন রোনালদো বলেন, 'হেড কোচ তার কথা রাখেননি।'
তিনি আরও বলেন, 'ম্যাচ শেষে আমি শুধু চেয়েছিলাম, জয় দিয়ে সবকিছু শেষ হোক এবং আমাকে একা থাকতে দেওয়া হোক। আমি সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে যাইনি। এটি পুরোপুরি আমার দায়িত্বের ব্যর্থতা এবং এমনটা হওয়া উচিত ছিল না।'
রোনালদো বলেন, 'সেখানে যারা আমাদের সমর্থন করেছেন, সেই পর্তুগিজ জনগণের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আর যারা পর্তুগিজ নন, কিন্তু আমাকে দেখতে সেখানে গিয়েছিলেন এবং যাদের হয়তো আমি হতাশ করেছি, তাদের কাছেও ক্ষমা চাইছি।'
দ্বিতীয় বৈঠক
এরপর রোনালদো বলেন, নরওয়ের ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টা পর তিনি, জেসুস ও কুতিনিও আবার বৈঠকে বসেন।
তিনি এই বৈঠককে 'গভীর, অত্যন্ত খোলামেলা এবং কোনো ধরনের রাখঢাকহীন' আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেন।
রোনালদো বলেন, তারা তিনজন একমত হন যে সংবাদ সম্মেলনে জেসুস বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন এবং 'সত্যি কথা বলে বিষয়টির সমাপ্তি টানবেন'। এর মধ্যে থাকবে—রোনালদো কখনোই কত মিনিট খেলতে চান, তা বলেননি; তাকে খেলানোর সময়সূচি জেসুস নিজেই তৈরি করেছিলেন; এবং 'আমাকে ওয়ার্ম আপ করিয়ে পরে মাঠে না নামানোটা ভুল হয়েছিল'—এ কথাও তিনি বলবেন।
তিনি বলেন, জেসুস তাকে আলিঙ্গন করে বৈঠক শেষ করেন এবং গণমাধ্যমের সামনে ঘটনাটি সম্পর্কে এই কথাগুলো তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন। জেসুস সংবাদ সম্মেলনে কী বলবেন, তা নিয়ে একটি 'সংক্ষিপ্ত ডকুমেন্ট'ও তৈরি করা হয়। রোনালদো সেটি দেখে সম্মতি দেন এবং নথিটি ফের জেসুসের কাছে দেওয়া হয়।
রোনালদোর বিবৃতিতে জেসুসকে সংবাদ সম্মেলনে পড়ার জন্য দেওয়া নোটের সারসংক্ষেপ ছিল এ রকম:
'এই মৌসুমে জাতীয় দলের হয়ে ক্রিস্টিয়ানোর জন্য একটি পরিকল্পনা আমি নিজেই প্রস্তাব করেছি, অন্য কেউ নয়। এ নিয়ে আমাদের দীর্ঘ ও খুব ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।'
'আমি জানি, তিনি জাতীয় দলকে কতটা ভালোবাসেন এবং দলের জন্য তার আবেগ কতটা। বিশ্বে তার প্রভাব কতটা, তাও জানি। টানা ২৪ বছর জাতীয় দলে তার যে গুরুত্ব ও ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে, তার পরিমাণও বিপুল।'
'আমি ক্রিস্টিয়ানোর কাছে যে পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছি, তিনি তা মেনে নিয়েছেন। আমার কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি কখনো প্রশ্ন তোলেননি। তিনি ছিলেন আদর্শ, বিশ্বস্ত ও পেশাদার।'
'নরওয়ের ম্যাচটি তার জন্য তৈরি করা পরিকল্পনার অংশ ছিল না। তবে আমার মনে হয়েছিল, প্রথম ম্যাচের পর তিনি শারীরিকভাবে ভালোভাবে সেরে উঠেছেন। তাকে খেলানো লাগতে পারে বলে আমি তাকে জানিয়েছিলাম। ক্রিস্টিয়ানো এতে রাজি হয়েছিলেন।'
'পেলে বা দিয়েগো ম্যারাডোনার মতো মর্যাদার একজন খেলোয়াড়কে ওয়ার্ম আপ করতে নামিয়ে পরে ম্যাচে না নামানোটা আমার ভুল ছিল।'
'সব শেষে বলতে চাই: আমি জাতীয় দলে ক্রিস্টিয়ানোকে চাই। একটু নয়—আমি তাকে অনেক বেশি চাই। সৌভাগ্যবশত, তিনিও আমাকে বিশ্বাস করেন। আল নাসরে তিনি আমাকে বিশ্বাস করেছিলেন, এখানেও করছেন।'
'সমর্থকদের অভিবাদন না জানানোর বিষয়ে আমরা এরই মধ্যে কথা বলেছি। জাতীয় দলের হয়ে ২৩০টির বেশি ম্যাচ খেলা একজনকে পর্তুগালের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে আমার কাছ থেকে কোনো শিক্ষা নিতে হয় না।'
'এটি ছিল হতাশার একটি মুহূর্ত, তবে এটি অতীতের কোনো অর্জনকে মুছে দিতে পারবে না। তিনি এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি সবচেয়ে বেশি অটোগ্রাফ দেন, সবচেয়ে বেশি সেলফি তোলেন এবং সমর্থকদের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা দেখান। যেখানে কোনো সমস্যা নেই, সেখানে সমস্যা তৈরি করার দরকার নেই। আমরা যখন কষ্টে থাকি, তখনই প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেলি।'
এর পরিবর্তে জেসুস সংবাদ সম্মেলনে এমনভাবে কথা বলেন, যেটিকে রোনালদো 'আক্রমণাত্মক' এবং এমন একটি 'দম্ভপূর্ণ আচরণ' হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি মনে করে এই ধরনের আচরণ তার প্রাপ্য ছিল না।
রোনালদো জানান, জেসুসের কথা শুনে হতাশ হয়ে 'ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন' তিনি।
তিনি আরও বলেন, 'মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সত্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যতই কষ্ট হোক, তারা যেন আমাকে সত্যিটা বলে।'
এরপর যা ঘটে
রোনালদো বলেন, জাতীয় দলে তাকে আর প্রয়োজন নেই—এ কথা বলার সুযোগ আমি আগেই জেসুস ও এফপিএফকে দিয়েছিলাম। কিন্তু 'তারা সবাই একসঙ্গে বলেছিল যে জাতীয় দলে আমার জায়গা রয়েছে'।
প্রায় ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে কোনো কোচ বা জাতীয় দলের ম্যানেজারের কোনো টেকনিক্যাল বা কৌশলগত সিদ্ধান্তে তিনি কখনো 'হস্তক্ষেপ করেননি' বলেও দাবি করেন রোনালদো।
তিনি বলেন, 'ভালো হোক বা খারাপ, তারা আমাকে যা করতে বলেন, আমি তা মেনে নিই। আমি তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। তবে তারা যখন আমাকে দেওয়া কথা না রাখেন, তখন আমার মনে হয়, সেখানে আমার আর কোনো জায়গা নেই।'
নরওয়ের ম্যাচের পর ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় নিজের আচরণের জন্য সতীর্থ ও পর্তুগালের সমর্থকদের কাছে আবারও ক্ষমা চান রোনালদো।
তিনি বলেন, 'আমার এই কাজটি এফপিএফের মাধ্যমে মূল্যায়ন ও শাস্তির আওতায় আসা উচিত।'
বিবৃতির শেষদিকে জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনার দরজা খোলা রাখেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি উপলক্ষে এক বা একাধিক বিদায়ী ম্যাচ খেলার সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।
তিনি লেখেন, 'আমি আমার সব ভক্তকে এবং অবশ্যই সব পর্তুগিজ মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিতে পারি, আমাদের এক বা একাধিক বিদায়ী ম্যাচ হবে; এর জন্য সময় পাওয়া যাবে।'
'কিন্তু যখন আমি জাতীয় দলের কথা ভাবি, তখন আসলে প্রতিযোগিতার কথাই ভাবি। যেদিন আমার বাবার মৃত্যুর খবর আমাকে দেওয়া হয়েছিল, সেদিনও আমি এটাই ভেবেছিলাম।'
'আমি তখন জাতীয় দলের ক্যাম্পে ছিলাম এবং পরদিনের ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। দেশের জন্য আমি এমন কাজ করেছি, যা কোনো ক্লাবের জন্য কখনোই করতাম না।'
'তাই, আমি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলে, ক্লাবের হয়ে খেলতে থাকলে এবং আশা করি গোলও করতে পারলে, আমার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে তা শেষ করার পর জাতীয় দলের হয়ে খেলতে ও জিততে আমি প্রস্তুত থাকব—যেমনটা আজ পর্যন্ত সব সময় ছিলাম।'
