বিশ্বকাপ ফুটবলের শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনা: ফিফা প্রধানের পদত্যাগ চাইলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বকাপ ফুটবলের শেয়ার বিক্রির ২০ বিলিয়ন ডলারের বিতর্কিত পরিকল্পনাটি আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক বিরোধিতার মুখে ভেস্তে যাওয়ার পর এবার ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম।
শুক্রবার সকালে ইনফান্তিনোর অন্যতম শীর্ষ উপদেষ্টা এবং গোল্ডম্যান স্যাকস-এর সাবেক বিনিয়োগ ব্যাংকার কার্লোস কর্ডেরো পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগ করে তিনি এই প্রস্তাবিত পরিকল্পনাকে একটি 'বাজে চুক্তি' হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে উয়েফা এবং কনকাকাফ এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। শুক্রবার সকালে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে ইনফান্তিনোর জন্য এটি এক চূড়ান্ত আঘাত হিসেবে দেখা দেয়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এই পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর মন্তব্য করে বলেছেন, 'এটি ছিল একটি আপত্তিকর প্রস্তাব। এ ধরনের পরিকল্পনা সামনে আনার সাহস করা থেকেই বোঝা যায় যে, এই সংস্থাটি পরিচালনার জন্য ফিফা প্রেসিডেন্ট সঠিক ব্যক্তি নন।'
ইনফান্তিনোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কার্লোস কর্ডেরো তার বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, এই প্রস্তাবের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তিনি বলেন, 'ফিফা প্রেসিডেন্টের একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা, সাবেক ব্যাংকার এবং আজীবনের ফুটবল ভক্ত হিসেবে ফিফা যখন বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বিক্রির কথা ভাবছে, তখন আমি চুপ করে থাকতে পারি না। এই চুক্তিটি ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'ফিফার হাতে এমনিতেই বিশাল অর্থভাণ্ডার রয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ১৫ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব এসেছে। যদি ফুটবলের উন্নয়নের জন্য আরও বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়, তবে ফিফা তা তাদের নিজস্ব তহবিল থেকেই দিতে পারে। এর বিপরীতে ৪.২ বিলিয়ন ডলার তোলার জন্য ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের স্থায়ী অংশীদারিত্ব বিক্রি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটি স্রেফ ফুটবলের ভবিষ্যৎ বন্ধক রাখা।'
বৃহস্পতিবার উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ সর্বসম্মতিক্রমে এই পরিকল্পনার প্রতিবাদে ফিফার টুর্নামেন্ট বয়কটের ঘোষণা দেয়। এরপর উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও এর বিরোধিতা শুরু করে। শুক্রবার ভোরে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) জানায়, তারা উয়েফা ও কনকাকাফের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে। এর ফলে ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে প্রস্তাবটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট পাওয়া এখন ইনফান্তিনোর জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফিফার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা 'টেলিগ্রাফ স্পোর্টস'-কে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'এএফসির এই অবস্থান ছিল 'কিলার পাঞ্চ' বা শেষ আঘাত। ইনফান্তিনোর এই চুক্তি এখন চিরতরে শেষ।'
প্রাথমিকভাবে ফিফা বেশ আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছিল। তারা দাবি করেছিল, তারা 'ফুটবল বিক্রি' করছে না এবং তারা এই নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। ছোট দেশগুলোকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে ফিফা বলেছিল, প্রতিটি সদস্য দেশের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার অধিকার আছে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, ফিফার সর্বশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইনফান্তিনোর নামের কোনো উল্লেখ ছিল না।
এই বিনিয়োগের নেপথ্যে রয়েছে 'থ্রাইভ ইটারনাল' নামের একটি বিনিয়োগকারী গ্রুপ, যার নেতৃত্বে আছেন জশুয়া কুশনার। জশুয়া মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই।
এদিকে, এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই ফিফা আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্বকাপের দল সংখ্যা ৬৪-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। 'টেলিগ্রাফ স্পোর্টস' একটি নথি দেখেছে যেখানে বলা হয়েছে, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ভোট গ্রহণের লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছে।
