মহানাটকীয় ম্যাচে টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করল মরক্কো
মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল দ্বিতীয় ইউরোপীয় দল। প্যারাগুয়ের কাছে হেরে জার্মানির বিদায়ের পর এবার দেশের বিমান ধরছে নেদারল্যান্ডসও।
মরক্কো-জার্মানি ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলের ড্র দেখার পর অতিরিক্ত সময়ে আর গোল হয়নি, তারপর টাইব্রেকারে গড়িয়েছে ম্যাচ। তাই জয়ী দল নির্ধারণে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে দিল মরক্কো।
শেষ পর্যন্ত মহানাটকীয় এই টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে উঠে গেছে মরক্কো।
টাইব্রেকারে দুই দল মিলিয়ে নেওয়া ১০টি শটের মধ্যে পাঁচটিই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। গোলরক্ষকরা রুখতে পারেন মাত্র একটি।
এই হারে বিশ্বকাপে ডাচদের টাইব্রেকার-জুজু আরও দীর্ঘায়িত হল। বিশ্বমঞ্চে পাঁচ টাইব্রেকারের মধ্যে মাত্র একটিতে জয়ের নজির রয়েছে তাদের।
ম্যাচের সমাপ্তি রুদ্ধশ্বাস হলেও, এর আগের সময়েও চরম নাটকীয়তা দেখা গেছে। ৭২ মিনিটে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন কোডি গাকপো। চলতি বিশ্বকাপের সম্ভবত সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল সেই গোল।
বল জালে জড়ানোর পরেই হাঁটু ভেঙে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন গাকপো। গর্ভাবস্থায় সদ্য শিশুপুত্রকে হারিয়েছেন গাকপো ও তার সঙ্গিনী নোয়া ফান ডার বাই। উঠে দাঁড়িয়ে দুহাত আকাশের দিকে তোলার সময় গাকপোর চোখের পানি বাঁধ মানেনি।
তবে নাটকের তখনও অনেক বাকি। অতিরিক্ত সময়ে মরক্কোর হয়ে সমতা ফেরান ইসা দিয়োপ। এরপর ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভেরব্রুগেনের অনবদ্য একটি সেভ। তারপর সেই স্নায়ুক্ষয়ী টাইব্রেকার।
যেভাবে মঞ্চস্থ হলো নাটকীয় টাইব্রেকার
দিনের দ্বিতীয় টাইব্রেকারে নামার আগে চিত্রনাট্য তৈরিই ছিল। একদিকে ডাচ গোলরক্ষক ভেরব্রুগেন দুরন্ত ছন্দে। অন্যদিকে মরক্কোর ইয়াসিন বুনু পেনাল্টি বাঁচানোতে সিদ্ধহস্ত। ২০২২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্পেনের দুটি শট রুখে দিয়েছিলেন তিনি। জানুয়ারিতে আফ্রিকা কাপ অভ নেশন্সে নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধেও দুটি পেনাল্টি বাঁচিয়ে দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন বুনু।
প্রথম ডাচ শটে অবশ্য বুনুর কিছুই করার ছিল না। তেয়ুন কুপমেইনার্স ডান দিকের নীচের কোণ দিয়ে বল জালে জড়ান। এরপর মরক্কোর নিল এল আয়নাউইয়ের জোরালো শট ক্রসবারে লাগে। নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ এসে যায় জাস্টিন ক্লুভার্টের সামনে।
কিন্তু তা আর হয়নি। বুনুর নড়াচড়া বোঝার জন্য থমকে শট নেন ক্লুভার্ট। বল বাঁ দিকের পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফলে একটি চমকপ্রদ পরিসংখ্যানও বজায় রইল। বিশ্বকাপ বা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ১১০ মিনিটের পরে বদলি হিসেবে নামা শেষ ১১ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে নয়জনই টাইব্রেকারে গোল করতে ব্যর্থ হলেন।
এরপরও চলল নাটক। খুব কাছ থেকে ফের ভেরব্রুগেনের মুখোমুখি হন সুফিয়ান রাহিমি। এবারও ডাচ গোলরক্ষক বল আটকে দিয়েছিলেন। কিন্তু বল তার শরীরের নিচ দিয়ে গলে, পায়ে লেগে গোললাইন পেরিয়ে যায়।
পরের দুটি শট ছিল স্বাভাবিক। নেদারল্যান্ডসের ভেঘহর্স্ট ও মরক্কোর চেমসদিন তালবি সহজেই গোল করেন। ফল দাঁড়ায় ২-২।
কিন্তু এরপর ছোট রান-আপ নিয়ে কুইন্টেন টিম্বার বল মারেন মাঠের বাইরে। অন্যদিকে মরক্কোর হাকিমিও ক্লুভার্টের মতো ঠিক একই পোস্টে বল মেরে বসেন।
আটটি শটের পর গোল হয়েছিল মাত্র চারটি। তখনও আরও একটি শট মিস হওয়া বাকি। ক্রিসেনসিয়ানো সামারভিল মাঝখান বরাবর শট নেন। কিন্তু বুনু ডান দিকে সরে গিয়ে প্রায় অবলীলায় বাঁ হাত দিয়ে বলটি বের করে দেন। ফলে মরক্কোকে জেতানোর সুযোগ এসে যায় ইসমাইল সইবারির সামনে।
সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন সইবারি। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে অন্যতম রুদ্ধশ্বাস এক টাইব্রেকার জিতে শেষ ষোলোয় পৌঁছে যায় মরক্কো।
আগামী ৪ জুলাই হিউস্টনে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে কানাডার মুখোমুখি হবে মরক্কো।
