বিশ্বকাপ থেকে দক্ষিণ কোরিয়া বাদ পড়ায় ‘হতবাক’ প্রেসিডেন্ট, সরকারি তদন্ত চান
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার বিদায়ে 'সম্পূর্ণ হতবাক' হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। তিনি এ ঘটনা তদন্তের জন্য সরকারের সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিক ব্যর্থতার জেরে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান কোচ হং মিয়ং-বো।
প্রেসিডেন্ট লি দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএফএ) প্রধান কোচ হিসেবে হং মিয়ং-বোকে নিয়োগের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, কোচ নির্বাচনের ক্ষেত্রে 'যোগ্যতা'কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি।
প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন জানিয়ে রোববার হং বলেন, 'আমার জন্য এই দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি দায়িত্বপালন ছাড়া আর কিছু ভাবিনি।'
সাবেক এই ডিফেন্ডার দক্ষিণ কোরিয়ার হয়ে ১৩৬টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০১৪ সাল থেকে তিনি জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বকাপের ব্যর্থতার 'সব দায়' তিনি নিচ্ছেন বলে জানান।
শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়। গ্রুপে তৃতীয় হলেও সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলের মধ্যে জায়গা করতে না পারায় দক্ষিণ কোরিয়া নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি।
হং মিয়ং-বোর দল তিন ম্যাচে তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করে। তারা চেক প্রজাতন্ত্রকে হারালেও সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে যায়। গ্রুপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী দল হওয়া সত্ত্বেও গ্রুপ পর্ব শেষে নকআউটে ওঠার ভাগ্য নির্ভর করছিল অন্য ম্যাচের ফলের ওপর। শেষ পর্যন্ত তারা পরের পর্বে উঠতে পারেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশ্বকাপে দলের অংশগ্রহণের জন্য জনগণের করের অর্থ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
তিনি জনগণের 'গভীর হতাশার' জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং কী কারণে এমন ফল হলো তা তদন্ত করে কারণ বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সে জন্য ব্যবস্থা নিতে সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।
এক্সে দেওয়া পোস্টে লি লেখেন, 'শুধু এই অপ্রত্যাশিত ফলাফলে আমি শুধু বিস্মিত নই—সম্পূর্ণ হতবাক।'
তিনি আরও লেখেন, 'বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য জনগণের করের বিপুল অর্থ এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তা ব্যয় করা হয়। তাই আমি সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত, কারণ বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি রোধ ও উন্নয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।'
তিনি বলেন, 'এ ধরনের ঘটনা যাতে আর কখনো না ঘটে, সে জন্য আমরা দ্রুত ক্রীড়া প্রশাসনে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করব।'
এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে পরিচিত হং মিয়ং-বো ২০১৩ সালের পর ২০২৪ সালে আবারও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন।
তার নিয়োগের পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কেএফএকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়।
তাদের অভিযোগ ছিল, নিয়োগের ক্ষেত্রে অ্যাসোসিয়েশন নিজেদের নিয়ম ভঙ্গ করেছে এবং সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়াটিকে 'যৌক্তিক' বলে মনে হয়নি। তবে কেএফএ কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে।
প্রেসিডেন্ট লির অভিযোগ, 'নিয়োগদাতাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, যাচাই ও জবাবদিহির আওতায় আনা অসম্ভব বা অত্যন্ত কঠিন।'
তার দাবি, নেতৃত্ব নির্বাচনে 'জনস্বার্থ ও ব্যক্তিস্বার্থের' মধ্যে যথাযথ পার্থক্য করা হয়নি।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য দ্য অ্যাথলেটিক কেএফএর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
হং মিয়ং-বোর অধীনে বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দলটি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়।
