‘মেড ইন বাংলাদেশ’ জার্সিতে বিশ্বকাপ খেলছে কেপ ভার্দে
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে নিজেদের অভিষেক ম্যাচে ঐতিহাসিক এক লড়াই উপহার দিয়েছে কেপ ভার্দে। গত রাতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে পশ্চিম আফ্রিকার দেশটির ফুটবলারদের গায়ে যে জার্সিটি ছিল, তা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের কারখানায়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, জার্সির কাপড়টি তৈরি হয়েছে ঢাকার ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন বাংলাদেশের কারখানায়। পরবর্তীতে জার্মান স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড 'কাপেলি স্পোর্ট'-এর তত্ত্বাবধানে ঢাকার একটি কারখানায় চূড়ান্তভাবে জার্সিগুলো প্রস্তুত করা হয়।
গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপক সৌমিক বর্মন আজ (১৬ জুন) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'কেপ ভার্দে জাতীয় দলের জার্সিগুলো বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে এবং এতে 'মেড ইন বাংলাদেশ' লেবেল যুক্ত রয়েছে।'
তিনি আরও জানান, '২০১৯ সাল থেকে কাপেলি স্পোর্ট আমাদের নিয়মিত ক্রেতা এবং তখন থেকেই আমরা তাদের অর্ডারগুলো সরবরাহ করছি।' ঢাকার উত্তরা এলাকায় তাদের কারখানাটি অবস্থিত।
এদিকে, ইয়াংওয়ান কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে জার্সিতে ব্যবহৃত কাপড়টি তাদের কারখানায় উৎপাদিত এবং তা কাপেলি স্পোর্টকে সরবরাহ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে কাপেলি স্পোর্ট ঢাকার নিজস্ব উৎপাদন কেন্দ্রে জার্সিগুলো তৈরি করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইয়াংওয়ান কর্পোরেশনের একজন কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, 'কাপেলি স্পোর্ট একটি জার্মান ব্র্যান্ড। ঢাকায় তাদের 'গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলিং লিমিটেড' নামে নিজস্ব উৎপাদন সুবিধা রয়েছে। ইয়াংওয়ান শুধুমাত্র তাদের কাপড় সরবরাহ করেছে। আমাদের কাপড় ব্যবহার করেই জার্সিটি তৈরি করা হয়েছে।'
বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে কেপ ভার্দের অধিনায়ক ও গোলরক্ষক ভোজিনহার অসাধারণ নৈপুণ্যে স্পেনের বিপক্ষে ০-০ গোলে ড্র করতে সক্ষম হয় দলটি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে পশ্চিম আফ্রিকার দেশটির জন্য এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেনের নিয়ন্ত্রণে বল থাকলেও ভোজিনহার রক্ষণ দেয়াল ভাঙতে পারেনি তারা। স্প্যানিশ কোচ ম্যাচে লামিনে ইয়ামালের মতো তরুণ প্রতিভাদের মাঠে নামিয়ে আক্রমণ জোরদার করলেও ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় তা ব্যর্থ হয়। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্তে মিকেল ওয়ারজাবালের হেড বারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া ছাড়াও ফেরান তোরেস ও আইমেরিক লাপোর্তের দুর্দান্ত সব শট রুখে দেন ভোজিনহা। পুরো ম্যাচে তিনি মোট ৭টি দর্শনীয় সেভ করেন।
এই ম্যাচটি ভোজিনহার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেও একটি নতুন রেকর্ড যোগ করেছে। ৪০ বছর বয়সে বিশ্বকাপ অভিষিক্ত হয়ে তিনি ইতিহাসের দ্বিতীয় বয়স্কতম খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন। তালিকায় তার ওপরে রয়েছেন মিশরের এসাম এল হাদারি, যিনি ৪৫ বছর বয়সে বিশ্বকাপে অভিষিক্ত হয়েছিলেন।
