রিজেন্ট হাসপাতাল কেলেঙ্কারি: স্বাস্থ্যের সাবেক মহাপরিচালকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন
রিজেন্ট হাসপাতাল কেলেঙ্কারির ঘটনায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।
বাকি আসামিরা হলেন- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপ-পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. ইউনুস আলী, সহকারি পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. শফিউর রহমান, গবেষণা কর্মকর্তা ডা. দিদারুল ইসলাম এবং রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম।
তবে ডা. আজাদসহ পাঁচজন বর্তমানে জামিনে আছেন, সাহেদ কারাগারে।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আসাদ মো. আসিফুজ্জামান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর গণমাধ্যমকে বলেন, এর আগের দিন আসামিদের মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে দাখিল করা আবেদনগুলো খারিজ করে দেন বিচারক আসিফুজ্জামান।
পরে এ মামলার বিচার শুরুর জন্য ৪ জুলাই দিন ধার্য করেন তিনি।
গত বছরের সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আবুল কালাম আজাদ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। মামলায় আবুল কালামের নাম না থাকলেও তদন্তে নাম আসায় অভিযোগপত্রে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।
২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর করেন আসামিরা।
সরকার পরিচালিত ল্যাব নিপসোমে কোভিড-১৯ রোগীদের নমুনা পরীক্ষায় তারা ১.৩৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
২০২০ সালের ১৫ জুলাই রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদকে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
একই বছরের ৭ জুলাই ভুয়া কোভিড-১৯ সার্টিফিকেট প্রদান ও অন্যান্য অপকর্মের অভিযোগে রাজধানীর রিজেন্ট হাসপাতালের প্রধান কার্যালয় এবং উত্তরা ও মিরপুরে হাসপাতালের দুটি শাখা সিলগালা করে দেয় র্যাব।
র্যাবের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ১০ হাজার মানুষের নমুনা সংগ্রহ করেছিল রিজেন্ট হাসপাতাল।
তাদের মধ্যে মাত্র ৪,২০০ জন কোভিড-১৯ পরীক্ষার আসল সার্টিফিকেট পেয়েছেন, বাকিগুলো জাল।
দেশে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মুখে ২০২০ সালের ২১ মার্চ রোগীদের চিকিৎসার জন্য রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ একাধিক সচিব উপস্থিত ছিলেন।
সমালোচনার মুখে ২০২০ সালের জুলাইতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।
