অর্ধশত কোটি টাকা মূল্যের আমেরিকান ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার তালেবানের দখলে
আফগানিস্তানকে সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য অগ্রসরমান তালেবান যোদ্ধারা ৬o লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫০ কোটি টাকার বেশি) মূল্যের একটি মার্কিন ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার নিজেদের দখলে নিয়েছে। এর পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ আমেরিকান সরঞ্জামও নিজেদের হস্তগত করেছে তারা।
এর আগে রাশিয়া নির্মিত দখলকৃত হেলিকপটারে চড়ে তাদেরকে আফগানিস্তানের আকাশপথে ত্রাস সৃষ্টি করতে দেখা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, রাশিয়ার তৈরি একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টারে করে কান্দাহার শহরের উপর দিয়ে চক্কর দিচ্ছে তালেবান বিদ্রোহীরা।
তার চাইতেও গুরুতর ব্যাপার হলো, তালেবানরা আমেরিকান ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টারও দখল করতে সক্ষম হয়েছে। ২০০১ সালে রিডলি স্কট পরিচালিত ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র 'ব্ল্যাকহক ডাউন' নির্মিত হয়েছিল সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে মার্কিন বাহিনীর পরাজয়কে কেন্দ্র করে।
আফগান সরকারের যেসব পাইলট রুশ নির্মিত হেলিকপ্টারগুলো পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তারা তালেবানদের কাছে হার স্বীকার করেন।
অন্যদিকে, মার্কিন হেলিকপ্টারগুলো বাড়তি যন্ত্রাংশের অভাবে উড়তে পারেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে তালেবান যোদ্ধারা ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার চালানোর মতো যথেষ্ট জ্ঞান বা কৌশল অর্জন করবে, সেরকম সম্ভাবনা দেখা না গেলেও; এই ঘটনা নিঃসন্দেহে হোয়াইট হাউজকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলবে।
কারণ আফগানিস্তান থেকে তালেবানদের চিহ্ন মুছে দিতে হোয়াইট হাউজ প্রতিবছর আফগান সামরিক বাহিনীকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্রশস্ত্র ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে যাচ্ছিল। কিন্তু, তালেবানের কাছে সরকারি বাহিনীর এই অসহায় পরাজয়ের ফলে আমেরিকার সেই বিনিয়োগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। কারণ এই মুহূর্তে সেসব অস্ত্র খোদ তালেবানরাই দখল করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে তালেবানদের অস্ত্র দখল করার অসংখ্য ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছিল ঠিকই- কিন্তু আজকের মতো একটি অত্যাধুনিক ও মূল্যবান হেলিকপ্টার দখল করা আসলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের বার্তা দিচ্ছে।
কাবুল প্রদেশের দখল নেওয়ার পর এর পশ্চিমের হেরাত শহরে একটি গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে আজ ছবি তুলতে দেখা গেছে তালেবান যোদ্ধাদের। এর বাইরেও আরও দুটি প্রদেশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর শহরতলির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তারা।
তালেবান কর্তৃক টানা আক্রমণের শিকার হয়ে আফগানিস্তানের চতুর্থ বড় শহর, মাজার-ই-শরীফে'রও পতন ঘটেছে।
আফগানিস্তান থেকে শেষ মার্কিন সৈন্যদল প্রত্যাহার করে নেওয়ার তিন সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকতেই আফগানিস্তানের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা দখল করে ফেলেছে তালেবান। প্রবেশ করেছে রাজধানী কাবুলেও। এই মুহূর্তে তারা সরকারের সঙ্গে ক্ষমতা হস্তান্তরের আলোচনা করছে।
তবে পুরোপুরি তালেবান শাসনের আশঙ্কায় বিভীষিকাময় দিন পার করছেন আফগানিস্তানের সাধারণ নাগরিকরা। আফগানিস্তানের মোট ৩৪টি প্রদেশের ২৪ টিই এখন তালেবানদের হাতে।
- সূত্র: ডেইলি মেইল
