গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ কীভাবে বহাল থাকে, প্রশ্ন টিআইবির
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যু ও তার বাবাকে ঠিকাদারি লাইসেন্স করে দেওয়ার প্রলোভনের অভিযোগসহ নানা ঘটনায় আলোচিত সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ কীভাবে বহাল থাকে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি বলেছে, দলীয় তদন্তে 'নৈতিক স্খলন' প্রমাণিত হয়ে দল থেকে বহিষ্কার, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এবং পরে মরিয়মের অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের পরও তার সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকা সংসদের মর্যাদার জন্য প্রশ্ন তৈরি করেছে।
একইসঙ্গে মরিয়ম খাতুনের মৃত্যু ও তার আগে মেয়েটির সঙ্গে ঘটা 'যৌন ব্ল্যাকমেলের' নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের দাবিও জানিয়েছে সংস্থাটি।
আজ মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জনপ্রতিনিধিদের জন্য বিশেষায়িত ও বাধ্যতামূলক নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়নের দাবি জানায়।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী বলা যায় না। তবে সংসদ ও সংসদ সদস্যদের মর্যাদাহানিকর পরিস্থিতির জন্য দায়ী ব্যক্তির জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, গাজী নজরুল ইসলামের সংসদীয় অবস্থান নিয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা জাতীয় সংসদ ও নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট করতে হবে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, একজন জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে ধারাবাহিক গুরুতর অভিযোগ ও নৈতিক প্রশ্ন জাতীয় সংসদের মর্যাদার জন্য উদ্বেগের বিষয়। ফৌজদারি দায় নির্ধারণ করবে আদালত। তবে সংসদ সদস্যের নৈতিকতা, ক্ষমতার ব্যবহার ও জনগণের আস্থার প্রশ্নে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংসদের।
সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদের বিষয়টি উল্লেখ করে টিআইবি বলেছে, নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ড হলে একজন ব্যক্তি সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হন। ফলে শুধু অভিযোগ, গ্রেপ্তার, রিমান্ড বা দলীয় তদন্তের সিদ্ধান্তের কারণে গাজী নজরুলের সাংবিধানিক অযোগ্যতা তৈরি হয় না।
তবে গুরুতর নৈতিক স্খলন, স্বার্থের সংঘাত, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্নকারী আচরণের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে টিআইবি। একই সঙ্গে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সেক্সটরশনসহ সব অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
টিআইবি বলেছে, সংসদ সদস্যদের নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়নের দাবি তাদের পুরোনো। ২০১০ সালে 'দ্য মেম্বার্স অব পার্লামেন্ট কনডাক্ট বিল, ২০১০' সংসদে উত্থাপিত হলেও তা আইনে পরিণত হয়নি। ওই প্রস্তাবে ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রভাব ব্যবহার না করা, স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে চলা এবং নিয়োগ, পদোন্নতি বা বদলিতে সুপারিশ না করার মতো বিধানের কথা ছিল।
সংস্থাটি আরও জানায়, ২০২৪-পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবেও সংসদ সদস্যদের জন্য পৃথক 'মেম্বার অব পার্লামেন্ট কনডাক্ট অ্যাক্ট' প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের সম্পদ বিবরণী প্রতিবছর হালনাগাদের বিধানসহ আইন প্রণয়নের প্রস্তাবও এসেছে।
টিআইবির ভাষ্য, সমস্যা চিহ্নিত হওয়ার পরও জনপ্রতিনিধিদের জন্য কার্যকর নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়ন না করার কারণ স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
