জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ কর্মকর্তাদের এবারও ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) এবং ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার আগে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নিউ ইয়র্ক সফর বাধাগ্রস্ত হলো।
এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, 'যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নে তাদের ব্যর্থতা এবং শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ন করে—এমন চলমান কর্মকাণ্ডের ফলে যুক্তরাষ্ট্র পিএলও সদস্য ও পিএ কর্মকর্তাদের ভিসা পাওয়ার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি করবে।'
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছে, তারা সরাসরি আলোচনার বাইরে আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো, ইসরায়েলের সাথে বিরোধকে আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চোখে দণ্ডপ্রাপ্ত হামলাকারী ও তাদের পরিবারকে ভাতা দেওয়ার মাধ্যমে মার্কিন আইন লঙ্ঘন করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘের সদর দফতর চুক্তি অনুসারে জাতিসংঘে পিএ মিশন একটি বিশেষ ছাড় বজায় রাখবে, যা তাদের নিয়মিত কর্মীদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়—এমনকি কিছু নির্দিষ্ট কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকলেও।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে চলতি মাসেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার এক ঢেউ পরিলক্ষিত হওয়ার পর, ধারণা করা হচ্ছিল এ বছর সাধারণ পরিষদের ভাষণে আব্বাসের মূল জোর থাকবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় এবং দ্বিপাক্ষিক সমাধান (টু-স্টেট সলিউশন) বাস্তবায়নে নতুন গতি সঞ্চারের ওপর। পাশাপাশি গাজার ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির দ্রুত সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস আক্রমণের দিকেও বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার কথা ছিল তার।
গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা সত্ত্বেও, কোনো ইসরায়েলি কর্মকর্তা সমমানের মার্কিন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হননি।
গত বছরের এই নিষেধাজ্ঞা ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা ও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সমালোচনার মুখে পড়ে। তারা জানান, এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘের নিউ ইয়র্ক সদর দপ্তরে আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের যাতায়াত করতে দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার লঙ্ঘন।
তাদের মতে, ইসরায়েলি নেতাদের সুরক্ষা দিয়ে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের এভাবে আলাদা করে নিশানা করা, আলোচনা সাপেক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ওয়াশিংটনের ঘোষিত প্রতিশ্রুতিকে ক্ষুণ্ণ করে।
