জুলাইয়ে মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ ১৬ সেপ্টেম্বর
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ওপর ১৬ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম লিটন আহমেদ। পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন ও এম হাসান ইমাম।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন বিষয়ে উভয় পক্ষের (রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ) শুনানি হয়েছিল। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে গত ২০ আগস্ট আদেশ দেওয়ার দিন ধার্য ছিল।
এর মধ্যে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তর করেন। তারপর বুধবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২-এ আবার এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
এ মামলার ২৬ আসামির মধ্যে সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা সালাউদ্দিনসহ ৮ আসামি কারাগারে রয়েছেন। সাবেক সংসদ সদস্য হাবিব হাসান, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, উত্তরা বিভাগের সাবেক ডিসি কাজী আশরাফুল আজীমসহ এই মামলার ১৮ আসামি পলাতক রয়েছেন।
এ মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরে গণ-অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে সহযোগিতার পাশাপাশি আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে পানি ও বিস্কুট বিতরণ করছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ।
ওই সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। সতীর্থ আন্দোলনকারীরা তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একই দিন উত্তরা এলাকায় জাহিদুজ্জামান তানভীন, শেখ ফাহমিন জাফর, মো. শাকিল হোসেন, মো. সাব্বির হোসেন ও সজিব সরকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া সেদিন উত্তরায় এপিসির (সাঁজোয়া যান) পেছনের চাকায় পিষ্ট করে উবারচালক মোখলেসুর রহমান দুর্জয়কে হত্যা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই উত্তরা এলাকায় রিদোয়ান শরীফ, মো. ছাব্বির ইসলাম, মো. আসাদুল্লাহ ও নাঈমা সুলতানাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
