৫০ হাজার ডলারের মেশিনারি চালানের মাধ্যমে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২-এর রপ্তানি শুরু
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) অর্থনৈতিক অঞ্চল-২ (বেপজা জোন-২) থেকে প্রথমবারের মতো পণ্য রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় ৫০ হাজার ডলার মূল্যের তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ মেশিনারির একটি চালান পাঠানোর মধ্য দিয়ে অঞ্চলটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রথম রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান লিজ টোব্যাকো মেশিনারি কোম্পানি লিমিটেড গত ৩ সেপ্টেম্বর বেপজা থেকে রপ্তানির অনুমতি পায়। এরপর গতকাল তারা যন্ত্রপাতির এই চালান পাঠায়।
এ রপ্তানির মধ্য দিয়ে অপারেশনাল পর্যায়ে প্রবেশ করল অর্থনৈতিক জঞ্চল-২। ফলে বেপজার অধীনে ৮টি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) ও দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ মোট চালু শিল্পাঞ্চল হলো ১০টি।
বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২-এর নির্বাহী পরিচালক মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, এই রপ্তানি ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি রপ্তানি গন্তব্যে বৈচিত্র্য আনতে সাহায্য করবে।
তিনি আরও বলেন, 'ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ তুলনামূলক কম। এই প্রেক্ষাপটে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২ থেকে ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানি শুরু হওয়াটা বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং গন্তব্যে বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।'
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত লিজ টোব্যাকো মেশিনারি শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি তামাকজাত পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি উৎপাদন করে থাকে।
বেপজা ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটিকে অনুমোদন দেয়। তারা ৩.৭২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ২৯ জন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিক কর্মরত আছেন।
মীরসরাইয়ে ১ হাজার ১৩৮.৫৫ একর জায়গার ওপর বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পরে প্রশাসনিক ও পরিচালনা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে একে অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল-২ নামে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়।
অর্থনৈতিক অঞ্চল-১-এ মোট ৪৭টি প্রতিষ্ঠানকে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে উৎপাদন শুরু করেছে।
অন্যদিকে, অর্থনৈতিক অঞ্চল-২-এ ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে লিজ টোব্যাকো মেশিনারি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে। খুব শিগগিরই আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও রপ্তানি শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাকি ১৪টি প্রতিষ্ঠানের কারখানা নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
