চট্টগ্রাম বন্দরের ৮৪-৯১% পণ্য পরিবহন করে বিদেশি জাহাজ: নৌপরিবহনমন্ত্রী
দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজের ওপর অতি-নির্ভরতা এখনো কাটেনি। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিবাহিত আমদানি কার্গোর প্রায় ৮৯ শতাংশ এবং রপ্তানি কার্গোর ৮৪ শতাংশই বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে পরিবহন করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই তথ্য জানান।
নৌপরিবহনমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে মোট ৭ লাখ ১ হাজার ৩৬৩ টিইইউস (২০ ফুট মাপের কনটেইনার ইউনিট) আমদানি কার্গো পরিবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে পরিবহন করা হয়েছে ৬ লাখ ২২ হাজার ৭৯৭ টিইইউস, যা মোট আমদানি কার্গোর প্রায় ৮৯ শতাংশ।
একই সময়ে মোট ৩ লাখ ৯২ হাজার ২২০ টিইইউস রপ্তানি কার্গো পরিবাহিত হয়। এর মধ্যে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে পরিবাহিত হয়েছে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৩১৮ টিইইউস বা প্রায় ৮৪ শতাংশ। এছাড়া আলোচ্য সময়ে রপ্তানি করা খালি কনটেইনারের ৯১ শতাংশই ছিল বিদেশি জাহাজের দখলে। মোট ২ লাখ ৯৫ হাজার ১৫১ টিইইউস খালি কনটেইনারের মধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজার ৭০ টিইইউস বিদেশি জাহাজে পরিবাহিত হয়েছে।
দেশীয় জাহাজের বহর বাড়ানোর উদ্যোগ
সংসদে নৌমন্ত্রী জানান, দেশের জাতীয় স্বার্থে দেশীয় পতাকাবাহী সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। তিনি বলেন, 'আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনে দেশীয় পতাকাবাহী জাহাজের অংশ বাড়ানো সম্ভব হলে বিদেশি জাহাজ ভাড়া ও সংশ্লিষ্ট ফ্রেইট বাবদ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার বহিঃপ্রবাহ কমানো সম্ভব হবে।'
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সামুদ্রিক পরিবহন খাতে দেশের সক্ষমতা বাড়বে। এ লক্ষ্যে সরকার দেশীয় পতাকাবাহী সমুদ্রগামী জাহাজের বহর সম্প্রসারণে কাজ করছে। নতুন জাহাজ সংগ্রহে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা, জাহাজ মালিকদের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশীয় জাহাজের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি সংসদকে জানান।
