ব্যাংক রেজল্যুশন আইন: বাতিল হচ্ছে বিতর্কিত পরিচালকদের মালিকানায় ফেরার সুযোগের ধারা
ব্যাংক খাতের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত 'ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬'-এর বিতর্কিত ১৮ (ক) ধারাটি বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে। একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুরোনো ও বিতর্কিত পরিচালকদের ব্যাংকের মালিকানায় ফেরার সুযোগ দিতে এই ধারাটি যুক্ত করা হয়েছিল।
ব্যাপক সমালোচনার মুখে এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ধারাটি বাতিলের জন্য সংসদে বিল উত্থাপন করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ১৩তম জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী 'ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬' সংসদে উত্থাপন করেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি পরিচালিত হয়।
উত্থাপিত বিলে 'ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬'-এর ১৮ (ক) ধারাটি বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই বিধানে বলা ছিল, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে দুর্বল বা সংকটাপন্ন ব্যাংকের সাবেক শেয়ারহোল্ডাররা পুনরায় মালিকানা ফিরে পাওয়ার আবেদন করতে পারবেন।
মূলত এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এমন ব্যক্তিদেরও ফেরার পথ তৈরি করা হয়েছিল, যাদের বিরুদ্ধে ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করার এবং অর্থ লুটের অভিযোগ রয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্যাংক পুনর্গঠনের সময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল রাখা, মূলধন ও তারল্য সংকট মোকাবিলা করা, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সরকারের আর্থিক দায় কমানোর লক্ষ্যে একটি বাজারভিত্তিক বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এই ১৮ (ক) ধারাটি যুক্ত করা হয়েছিল।
তবে ধারাটি যুক্ত করার পর এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মালিকানা ফিরে পাওয়ার জন্য কোনো আবেদন করেনি বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বাস্তবতায় সরকার বিতর্কিত এই ধারাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সংসদে সংশোধনী বিলটি উত্থাপন করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ এপ্রিল 'ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬' জাতীয় সংসদে পাস হয়। সে সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এই ১৮ (ক) ধারার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন।
তারা বলেছিলেন যে, এই বিধানের আড়ালে ব্যাংক লুটেরারা পুনরায় সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর মালিকানা ফিরে পেতে পারে, যা পুরো আর্থিক খাতের জন্য বিপর্যয়কর হবে।
