সাতক্ষীরায় অসময়ের তরমুজ চাষে বাজিমাত, এক বিঘায় দেড় লাখ টাকা লাভের দাবি
সাতক্ষীরায় অসময়ের তরমুজ চাষে লাভবান হচ্ছেন চাষীরা। তিন মাসের আবাদে এক বিঘা জমিতে দেড় লাখ টাকা লাভের দাবি কৃষকের। অল্প খরচে অধিক লাভ, তাই দিন দিন তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন সাতক্ষীরার কৃষকরা। কৃষি বিভাগ বলছে, লবণাক্ত অঞ্চল হলেও থেমে নেই চাষাবাদ, বাড়ছে আর্থসামাজিক উন্নয়ন।
সাতক্ষীরা সদরের গড়িয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক জামালউদ্দীন সরদার। এক বিঘার একটু বেশী জমিতে করেছেন অসময়ের তরমুজ চাষ, ফলন বাম্পার। খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। তিনি জানান, ক্ষেত থেকেই প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষক জামালউদ্দীন বলেন, 'প্রচুর ফলন হয়েছে। এখন পর্যন্ত এক লাখ পাঁচ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি। এখনো গাছে ফল রয়েছে। দুই লাখ টাকার বেশী বেচাবিক্রি হবে ধারণা করছি। পাইকার ব্যবসায়ীরা মাঠ থেকেই ক্রয় করে নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে পাঠায়। আমার তরমুজের বৈশিষ্ট্য বাইরে সবুজ ভেতরে হলুদ। মৌসুমের তরমুজের চেয়ে খেতে বেশী মিষ্টি।'
জামালউদ্দীনের বড় ভাই কৃষক আলাউদ্দীন সরদার। ছোট ভাইকে দেখে এবারই প্রথম এক বিঘা জমিতে করেছেন দুই জাতের তরমুজ চাষ। একটি বাইরে সবুজ ভিতরে হলুদ, অপরটি বাইরে হলুদ ভিতরে লাল।
কৃষক আলাউদ্দীন সরদার জানান, 'খরচ কম লাভ বেশী হওয়ায় দিন দিন অসময়ের তরমুজ চাষ বাড়ছে। আমি এবারই প্রথম চাষ করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে। আশা করছি লাভবান হবো।'
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলায় চলতি বছর ১৪৬ হেক্টর জমিতে অসময়ের তরমুজ চাষ হয়েছে। চাষবাদ হয়েছে মাছের ঘেরের পাড়ে ও মাঠে মাচান পদ্ধতিতে। গেল বছর আবাদ হয়েছিল ১২৩ হেক্টর জমিতে। এবছর ২৩ হেক্টর জমিতে বেশী আবাদ হয়েছে। ফলন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে হেক্টর প্রতি ৩০ থেকে ৩৩ মেট্রিক টন।
সাতক্ষীরা শহরের বাজার ঘুরে দেখা যায়, অসময়ের এই তরমুজ প্রতি কেজি খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা প্রতি কেজি।
তবে কৃষক জামালউদ্দীনের অভিযোগ করে বলেন, 'আমাদের মতো চাষীদের ঠকানো হচ্ছে। মাঠ থেকে ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ীরা বলেন, বাজারে ক্রেতা নেই দাম কম। অথচ কেউ ক্রয় করতে গেলেই বিক্রি হয় চড়া দামে। আমরা কৃষকরা দাম পাচ্ছি প্রতি কেজি ৪০-৪৫ টাকা। অথচ ব্যবসায়ীরা দ্বিগুণের বেশী লাভ করে বিক্রি করছে। আমরা দাম কম পাচ্ছি।'
পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, ক্রয়ের পর পরিবহন খরচের সঙ্গে লাভ রেখে খুচরা ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করা হয়। খুচরা ব্যবসায়ীরা আবার লাভ রেখে ক্রেতার হাতে বিক্রি করেন। হাত বদল হওয়ার কারণে মূলত দাম বেড়ে যায়।
৯০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে এক ফসল তুলে জমিতে অন্য ফসল চাষ করছেন কৃষকরা, হচ্ছেন অধিক লাভবান। কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির উপ পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, 'সাতক্ষীরা লবণাক্ত এলাকা হলেও কৃষিকাজে পিছিয়ে নেই। কৃষকরা চাষাবাদের মধ্য দিয়েই খাদ্য চাহিদা পূরণে সহযোগিতা করছেন। জেলায় দিন দিন তরমুজ আবাদ বাড়ছে। স্বল্প ব্যয় করে অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। ফলে আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটছে কৃষকের। কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে নানাভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।'