কয়লা পরিবহনে বিঘ্ন: বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমানোর ব্যাখ্যায় যা বলেছে আদানি পাওয়ার
ভারতে রেলপথে কয়লা পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার কারণে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ১,৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দিনের বেলা অফ-পিক সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আদানি পাওয়ার।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে আদানির জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান 'ফাইভ-ডব্লিউ কমিউনিকেশনস'-এর মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানায়, ভারতীয় রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় তীব্র জট এবং কয়লা লোডিং বা বোঝাইয়ের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপের কারণে, গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লাবাহী ট্রেনের (রেক) স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আদানি পাওয়ার বলেছে, "এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে কম কয়লা সরবরাহ পৌঁছাচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে উৎপাদন সামঞ্জস্য করতে বাধ্য হচ্ছে।"
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের (পিজিবি) পরিসংখ্যানে আজ দিনভর আদানি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমানোর এই প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
পিজিবির তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৮টায় ১,৪৩৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে আদানি সরবরাহ করেছে মাত্র ৮২৮ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ সরবরাহ দিনের বেশিরভাগ সময় ৯২০ মেগাওয়াটের আশপাশে থাকার পর— বিকেল ৫টায় তা বেড়ে ১,০৬১ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আজ সকাল ১০টায় ৯২৩ মেগাওয়াট, সকাল ১১টায় ৯২৪ মেগাওয়াট, দুপুর ১২টায় ৯১৩ মেগাওয়াট, দুপুর ১টায় ৯২১ মেগাওয়াট, দুপুর ২টায় ৯২০ মেগাওয়াট এবং বিকেল ৩টায় ৯৪৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। বিকেল ৪টায় এই সরবরাহের পরিমাণ ছিল ৯২৪ মেগাওয়াট।
আদানি পাওয়ারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সন্ধ্যার পিক আওয়ারে বা সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ধরে রাখতে তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবেই দিনের বেলা অফ-পিক সময়ে সরবরাহ কমিয়ে রাখছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, "ফলে সন্ধ্যার চরম চাহিদার সময়ে বিদ্যুতের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রটি অফ-পিক অর্থাৎ দিনের বেলা বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা সীমিত রেখেছে।"
গতকাল মঙ্গলবারও (১ সেপ্টেম্বর) ১,৪৩৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে, বিকেল ৫টায় কেন্দ্রটি থেকে মাত্র ৮২৭ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা ৬টায় ৮৬১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৭টায় সরবরাহ বেড়ে ১,৩১৪ মেগাওয়াট, সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ১,৩১৫ মেগাওয়াট এবং রাত ৮টায় ১,৩১২ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়।
আদানি পাওয়ার জানায়, সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) অবহিত রাখা হয়েছে এবং কয়লাবাহী ট্রেনের স্বাভাবিক চলাচল যত দ্রুত সম্ভব পুনর্বহাল করতে ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা সমন্বয় করে কাজ করছে।
কোম্পানিটি আশা প্রকাশ করে বলেছে, "আমরা ধারণা করছি খুব দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে" একই সঙ্গে কয়লা সরবরাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর পড়া নেতিবাচক প্রভাব—যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে সম্ভাব্য সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
দেশে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায়, বাংলাদেশ এমনিতেই বড় ধরনের বিদ্যুৎ ঘাটতির মুখোমুখি রয়েছে। এই সংকটময় সময়ে আদানির কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায়—দেশের চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতির ওপর নতুন করে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
