ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণকাজে স্থিতাবস্থা জারি আপিল বিভাগের
বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আপিল বিভাগ।
রোববার (৯ আগস্ট) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
মনজিল মোরসেদ জানান, মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে এইচআরপিবির করা জনস্বার্থের মামলায় ২০১২ সালে হাইকোর্ট রায় দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করলে শুনানি শেষে রোববার আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
তিনি বলেন, শুনানিতে সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল মহাস্থানগড়ে আগত নারীদের নামাজের স্থান ও ওয়াশরুম নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। মহাস্থানগড়ের সীমানার ভেতরে নির্মাণকাজে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এসব স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দিতে রায় সংশোধনের আবেদন জানান তিনি।
মহাস্থানগড়ের সীমানার মধ্যে যেকোনো ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা বহাল থাকায় আপিল বিভাগ এ বিষয়ে স্থিতাবস্থা জারি করেন।
যেভাবে শুরু
২০১০ সালে মহাস্থানগড়ের সীমানার ভেতরে তৎকালীন মাজার কমিটি মসজিদ নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করলে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এরপর মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে এইচআরপিবি।
রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট একটি কমিটি গঠন করে মহাস্থানগড় সংরক্ষণে করণীয় বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। ওই কমিটি মহাস্থানগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা সংরক্ষণের স্বার্থে এর পূর্ব পাশে, অর্থাৎ পার্শ্ববর্তী এলাকায় মসজিদ নির্মাণের সুপারিশ করে।
পরে শুনানি শেষে হাইকোর্ট মহাস্থানগড়ের সীমানার মধ্যে যেকোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন।
সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে রোববার আপিল বিভাগ মহাস্থানগড়ে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে স্থিতাবস্থা জারি করেন।
