কাতারের উপহার দেওয়া ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এর প্রথম ফ্লাইট; ‘এমন উড়োজাহাজ যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করতে পারত না’: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতার সরকারের উপহার দেওয়া নতুন 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' হিসেবে ব্যবহৃত বিলাসবহুল বোয়িং উড়োজাহাজে প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করার সময় নতুন উড়োজাহাজটি এবং এর বিদেশি নির্মাতাদের প্রতি নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি উড়োজাহাজ তৈরি করতে পারত না।'
বুধবার উত্তর ডাকোটায় 'আমেরিকা ২৫০' উদ্যাপন উপলক্ষ্যে সফরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'এই প্রথম যাত্রা নিয়ে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত।'
কোনো শর্ত ছাড়াই উপহার হিসেবে দেওয়া এই নতুন উড়োজাহাজটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪০ কোটি মার্কিন ডলার। এটি গ্রহণকে কেন্দ্র করে আইনি, নৈতিক এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত নানা প্রশ্ন উঠেছে। উড়োজাহাজটির নতুন রঙের বিন্যাস করা হয়েছে—সাদা, লাল ও গাঢ় নীল। এছাড়া এতে এমন আরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার ফলে এটি বহু বছর ধরে ট্রাম্প যে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ব্যবহার করে আসছেন, তার সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, 'তারা মাত্রই কাজটি শেষ করেছে। তারা এটিকে একজন প্রেসিডেন্টের উপযোগী করে তুলেছে। অর্থাৎ, নিরাপত্তা-ব্যবস্থা এবং নানা ধরনের বিশেষ সুবিধা ও আধুনিক ব্যবস্থা এতে যুক্ত করা হয়েছে। এখন এটি অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তিসম্পন্ন, তবে সত্যিই অসাধারণ একটি উড়োজাহাজ।'
ভার্জিনিয়াভিত্তিক বোয়িং কোম্পানির নির্মিত এই উড়োজাহাজটি প্রথম থেকেই বিতর্কের জন্ম দেয়, যখন প্রকাশ্যে আসে যে ট্রাম্প এটি কাতারের কাছ থেকে গ্রহণ করবেন। প্রেসিডেন্ট প্রথম যখন এই উপহারের ঘোষণা দেন, তখন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানান, ট্রাম্প দায়িত্ব ছাড়ার পর উড়োজাহাজটি তার প্রেসিডেন্সিয়াল গ্রন্থাগারে দান করার পরিকল্পনা ছিল। পরে উড়োজাহাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরকে উপহার দেওয়া হয়। উড়োজাহাজটির চূড়ান্ত ব্যবহারের পরিকল্পনা কী হবে, সে বিষয়ে জানতে সিএনএন হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
নতুন যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ প্রায় দুই বছরের মধ্যে প্রস্তুত হওয়ার কথা রয়েছে। ততদিন পর্যন্ত ট্রাম্প এই উড়োজাহাজটি ব্যবহার করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, 'এ ধরনের উড়োজাহাজ আগে কখনো ছিল না।'
তিনি আরও বলেন, 'সত্যি বলতে, আমরা এমন একটি উড়োজাহাজ তৈরি করতে পারতাম না, কারণ এর জন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হতো, তা ব্যয় করতে আমরা রাজি হতাম না। তারা সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে।' এ কথা বলে তিনি কাতারের প্রশংসা করেন।
বুধবার ট্রাম্প আরও ব্যাখ্যা করেন যে, বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী তাকে বলেছিলেন, কাতারের এই উড়োজাহাজটিই সবচেয়ে উৎকৃষ্ট। এরপর তিনি কাতারের কাছে কিছু সময়ের জন্য উড়োজাহাজটি ব্যবহারের অনুমতি চান। প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, কাতারের আমির পরে উড়োজাহাজটি সাময়িক ব্যবহারের জন্য না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকেই উপহার হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
গত মাসে ট্রাম্প যৌথ ঘাঁটি অ্যান্ড্রুজে নতুন উড়োজাহাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। সে সময় তিনি এটিকে 'বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল উড়োজাহাজ' বলে অভিহিত করেন। এতে এমন চামড়ার আসন রয়েছে, যেগুলো সম্পূর্ণ সমতল করে শোয়ার উপযোগী করা যায়। আসনের নিরাপত্তা বেল্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি প্রতীক সংযুক্ত রয়েছে। ভেতরের দেয়াল ও কার্পেটের রং হালকা বাদামি এবং আলোর সাজসজ্জায় সোনালি রঙের বাতি ব্যবহার করা হয়েছে।
বুধবার উড়োজাহাজে থাকা সাংবাদিকদের পরিবেশন করা হয়েছিল হ্যাম ও পনির দিয়ে তৈরি ক্রোয়াসন্ট, সবুজ সালাদ এবং ফল। খাবার পরিবেশন করা হয় প্রেসিডেন্টের সরকারি প্রতীকসংবলিত ঐতিহ্যবাহী সোনালি ও সাদা রঙের পাত্রে।
গত মাসে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘদিনের 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' উড়োজাহাজকে বিদায় জানিয়ে বার্তা প্রকাশ করেন। ব্যাপকভাবে আধুনিকায়ন করা বোয়িং ৭৪৭–২০০ মডেলের ওই উড়োজাহাজটি ১৯৯০ সাল থেকে 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিল।
পুরোনো উড়োজাহাজগুলো এবং বোয়িংয়ের পরিবর্তন কাজ চলমান নতুন দুটি উড়োজাহাজের মধ্যে সময়ের ব্যবধান পূরণ করতে, বোয়িং ৭৪৭–৮০০ মডেলের দুটি উড়োজাহাজকে ভিসি–২৫বি সংস্করণে রূপান্তর করা হচ্ছে, যাতে সেগুলো 'এয়ার ফোর্স ওয়ান'-এর দায়িত্ব পালন করতে পারে। একই সঙ্গে এই কাতারি উড়োজাহাজটিও ব্যবহৃত হবে। বোয়িং বর্তমানে আরও দুটি উড়োজাহাজে পরিবর্তন আনার কাজ করছে, তবে সেগুলো প্রস্তুত হতে আনুমানিক আরও দুই বছর সময় লাগবে।
