বিশ্বকাপে দল নেই, চীনের ফুটবলভক্তদের ভরসা তাই ‘লাল কার্ড প্রিয়’ রেফারি
এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে খেলছে না চীন। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে তাই একজন রেফারিকেই দেশের তারকা প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন চীনা ফুটবলভক্তরা।
৪৬ বছর বয়সী এই রেফারির নাম মা নিং। তাকে নিয়ে ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হচ্ছে নানা ভাইরাল মিম। এমনকি চীনের বড় বড় ব্র্যান্ডগুলোও তাকে স্পনসর করছে, যার মধ্যে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লেনোভো এবং ইলেকট্রনিকস জায়ান্ট হাইসেন্সও রয়েছে।
মা নিং মূলত তার কঠোর স্বভাবের জন্য পরিচিত। ২০১৫ সালে সাংহাইয়ে একটি ম্যাচে তিনি রেকর্ডসংখ্যক ৯টি হলুদ কার্ড এবং ৩টি লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন। রেফারিং ক্যারিয়ারের এই ঘটনা তাকে 'কার্ডমাস্টার' উপাধি এনে দিয়েছিল।
চার বছর আগে কাতারে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ মঞ্চে পা রেখেছিলেন মা নিং। সেবার তিনি মাঠের বাইরে থেকে রেফারিকে সহায়তা করা চতুর্থ অফিশিয়াল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবার তার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ।
রেডনোট (ইনস্টাগ্রামের মতো চাইনিজ প্ল্যাটফর্ম) এবং চীনের অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মা নিংকে নিয়ে তৈরি পোস্টগুলো লাখ লাখ মানুষ দেখছেন। অনেক ব্যবহারকারী তাকে সমর্থন জানাচ্ছেন, আবার অনেকেই চীনের ফুটবলের দুরবস্থা নিয়ে আক্ষেপ করছেন।
রেডনোটে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, 'আমাদের মা নিং আছে, তোমাদের কে আছে?'
আরেকজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, 'অন্যান্য দেশের সমর্থকেরা যখন তাদের দলের খেলা দেখবে, আমরা তখন দেখব আমাদের রেফারি কীভাবে কার্ড দেখাচ্ছেন।'
মা নিং বর্তমানে ১০ দিনের এক অফিশিয়ালস ক্যাম্পের জন্য মিয়ামিতে রয়েছেন। সেখানে তার সঙ্গে আরও দুজন চীনা প্রতিনিধি রয়েছেন—সহকারী রেফারি ঝউ ফেই এবং ভিডিও সহকারী রেফারি ফু মিং। ঝউ এবং ফু—উভয়েরই কাজ হলো মাঠের বাইরে থেকে মূল রেফারিকে সহায়তা করা।
২০১১ সাল থেকে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার অনুমোদিত রেফারি হিসেবে কাজ করছেন মা নিং।
বিশ্বকাপের এই যাত্রা ভক্তদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে মাত্র দুই সপ্তাহ আগে রেডনোটে একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন মা নিং। আর এর মধ্যেই তিনি ১ লাখ ৯৭ হাজার ফলোয়ার পেয়ে গেছেন।
এই প্ল্যাটফর্মে তার প্রথম পোস্টে দেখা যায়, তিনি পরনের রেফারির টি-শার্টের সামনের পকেট থেকে একটি ছোট লাল বই বের করছেন। এটি মূলত প্ল্যাটফর্মটির চীনা নাম এবং তার সেই বিখ্যাত 'রেড কার্ড' দেওয়ার প্রবণতাকেই রসিকতার ছলে তুলে ধরেছিল।
পরের একটি পোস্টে একটি ভিডিও শেয়ার করেন তিনি। সেখানে দেখা যায়, তিনি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য নিজের স্যুটকেস গোছাচ্ছেন এবং জিমে ব্যায়াম করছেন। নাটকীয় আবহসংগীতের এই ভিডিওতে অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে লেনোভোর একটি ট্যাবলেটও দেখা গেছে।
ওই ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, 'আমি আত্মবিশ্বাস ও স্থিরতার সঙ্গেই এই দায়িত্ব নিচ্ছি। বিশ্বকাপ, আমরা আসছি।'
২০০২ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়েছিল চীন। তবে সেবার একটি পয়েন্টও না পেয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় তারা। এরপর আর কখনোই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠতে পারেনি দেশটি।
গত দুই দশকে চীনা ফুটবল তীব্র আর্থিক সংকট এবং ব্যাপক দুর্নীতির কারণে চরমভাবে ভুগেছে। দুর্নীতির দায়ে দেশটির অনেক খেলোয়াড়, রেফারি এবং ক্লাব কর্মকর্তাকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধও করা হয়েছে।
