লেবাননে সংঘাত অব্যাহত আছে, তাই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি স্থাপনা এখন 'বৈধ লক্ষ্যবস্তু': ইরানের স্পিকার
ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ এবং লেবাননে হামলা আরও জোরদার করতে ইসরায়েলকে ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেত দেওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো এখন 'বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে' পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
ইরানের মিত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরগুলোতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
গালিবাফ লিখেছেন, 'তারা যুদ্ধবিরতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়, সংলাপেও বিশ্বাস করে না। লেবাননসংক্রান্ত চুক্তি লঙ্ঘন এবং নৌ অবরোধের মাধ্যমে তারা দেখিয়েছে, তারা কেবল শক্তির ভাষাই বোঝে।'
এদিকে, দক্ষিণ লেবাননে চলমান হামলা বন্ধ না করলে পাল্টা আক্রমণের সম্মুখীন হতে হবে— এমন সতর্কতার পরই ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
জবাবে ইরানেও পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। মধ্য ও পশ্চিম ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
টেলিগ্রামে একাধিক পোস্টে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, রোববার (৭ জুন) স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। এতে সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সাইরেন বেজে ওঠে।
ইরানের গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নিশ্চিত করেছে, তারা ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের 'টায়ার ও নাবাতিহ অঞ্চলের নিপীড়িত জনগণের ব্যাপক হত্যা ও বাস্তুচ্যুতির' জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'আজ রাতের অভিযান ছিল একটি সতর্কবার্তা। যদি এই আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হয়, তবে এর জবাব হবে আরও ব্যাপক এবং এই অঞ্চলের সমস্ত আমেরিকান-জায়নবাদী লক্ষ্যবস্তু এর অন্তর্ভুক্ত হবে।'
