অর্থবছরের ১০ মাসে এডিপির অর্ধেক টাকাও খরচ করতে পারেনি মন্ত্রণালয়-বিভাগগুলো
চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হার সামান্য বাড়লেও টাকার অঙ্কে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অর্থবছরের ১০ মাস পার হলেও মোট বরাদ্দের অর্ধেক অর্থও ব্যয় করতে পারেনি মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো।
শনিবার প্রকাশিত বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এডিপিতে ব্যয় হয়েছে ৮৬ হাজার ৫১৬ কোটি ৮ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৯৩ হাজার ৪২৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে ব্যয় কমেছে ৬ হাজার ৯০৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে ব্যয় কমেছে ৩৮ হাজার ৭৯৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ওই অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এডিপিতে ব্যয় হয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা কর্মকর্তারা 'স্বাভাবিক পরিস্থিতি'র সময় হিসেবে বিবেচনা করছেন।
আইএমইডির কর্মকর্তারা জানান, গত অর্থবছরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে প্রশাসনিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক প্রকল্প পরিচালক ও ঠিকাদার সরে যান। এতে এডিপি বাস্তবায়ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বাস্তবায়নের হার ছিল ৪৯ দশমিক ২৬ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে সরকার ও সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়নসহ মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকার পরিবর্তনের পর অনেক প্রকল্প পরিচালককে পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ দুর্নীতির অভিযোগে সরে গেছেন, আবার নতুন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগেও সময় লেগেছে। পাশাপাশি বহু প্রকল্প পুনঃসংশোধন করতে হওয়ায় কার্যক্রম পুনরায় শুরুতে বিলম্ব হয়েছে।
এছাড়া সম্প্রতি অনুমোদিত নতুন সরকারি ক্রয়নীতির কারণে অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগ দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করতেও অতিরিক্ত সময় নিয়েছে। এসব কারণেই নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী এডিপির অর্থ ব্যয় সম্ভব হয়নি বলে জানান কর্মকর্তারা।
এদিকে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চলমান প্রকল্পগুলো নতুন করে পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—এমন প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আগামী মাসের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩০০ চলমান প্রকল্পের পর্যালোচনা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এ কারণে অনেক প্রকল্পের বরাদ্দ আটকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে অর্থবছরের বাকি সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের গতি আরও ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা।
