হরমুজে আরও মাইন পেতেছে ইরান: অ্যাক্সিওস
ইরানের ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে আরও মাইন পেতেছে বলে জানিয়েছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং এ বিষয়ে অবগত একটি সূত্র।
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথে সামরিক অচলাবস্থা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে; যেখানে একদিকে ইরান মাইন স্থাপন ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তার নৌ-অবরোধ আরও কঠোর করছে।
নতুন এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দেন—কোনো ইরানি নৌযানকে মাইন স্থাপন করতে দেখা গেলে যেন কোনো দ্বিধা ছাড়াই সেটিকে 'গুলি ও ধ্বংস' করা হয়।
এই প্রণালিতে নতুন করে মাইন পাতা হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে যে বিঘ্ন ঘটছে, তা আরও গভীর হতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা ইতোমধ্যে একে বৈশ্বিক বাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঘটনা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে—যা ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটকেও ছাড়িয়ে গেছে।
স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে এই পথে জাহাজ চলাচল একক সংখ্যায় (প্রতিদিন ১০টির কম) নেমে এসেছে, যেখানে আগে প্রতিদিন ১০০-এর বেশি জাহাজ চলত।
যুদ্ধ শুরুর পর এটি দ্বিতীয়বার, যখন ইরান এই প্রণালিতে মাইন পেতেছে। প্রথম দফায় পাতা সব মাইন শনাক্ত ও অপসারণ করা হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের এই মাইন পাতা কার্যক্রম শনাক্ত করেছে এবং তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের বসানো মাইনের সংখ্যা জানলেও তা প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর হোয়াইট হাউসও কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার মার্কিন বিমানবাহী রণতরি 'ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ' এবং এর দায়িত্বে থাকা স্ট্রাইক গ্রুপ মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ওই এলাকায় পৌঁছেছে।
এটি হবে ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা তৃতীয় মার্কিন বিমানবাহী রণতরি—যা ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরও জোরদার করবে এবং ট্রাম্প যদি পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে চান তবে তাকে আরও সামরিক বিকল্প দেবে।
সেন্টকম বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ৩৩টি জাহাজকে অন্য পথে সরিয়ে দিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নৌবাহিনী বর্তমানে মাইন পরিষ্কারের জন্য হরমুজ প্রণালি তে 'আন্ডারওয়াটার ড্রোন' পরিচালনা করছে।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার আদেশ দিয়েছেন যে এই প্রচেষ্টা যেন অব্যাহত থাকে, তবে তা 'তিনগুণ মাত্রায়' বৃদ্ধি করতে হবে।
