যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান, আপস না করার ঘোষণা; হরমুজে জাহাজে গুলি
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান, তবে আপস না করার ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা নতুন কিছু প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান। তবে চলমান আলোচনায় কোনো ধরনের ছাড় বা আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এসএনএসসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে 'আমেরিকানদের পক্ষ থেকে নতুন কিছু প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে'। তেহরান বর্তমানে প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, এই আলোচনার প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তেহরান সফর করেছেন।
কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের প্রতিনিধি দল আলোচনায় 'সামান্যতম আপস, পিছু হটা বা নমনীয়তা প্রদর্শন করবে না'। দেশটির জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা সর্বশক্তি দিয়ে লড়বে বলেও জানানো হয়।
লেবাননে হামলায় ফ্রান্সের শান্তিরক্ষী নিহত: হিজবুল্লাহকে দায়ী করলেন মাঁখো
লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে (ইউনিফিল) নিয়োজিত ফ্রান্সের এক সেনা নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। এই হামলার জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে দায়ী করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁখো।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট মাঁখো বলেন, 'সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ ও আলামত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই হামলার পেছনে হিজবুল্লাহ দায়ী।'
তিনি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার জন্য লেবানন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ফরাসি কন্টিনজেন্টের ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি এই ঘটনার তাৎক্ষণিক ও সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধে ২৩ জাহাজকে ফেরত পাঠানো হয়েছে: সেন্টকম
ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ঘোষিত 'নৌ-অবরোধ' কঠোরভাবে কার্যকর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। কোনো জাহাজ যাতে ইরানি বন্দরে প্রবেশ করতে বা বের হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে আরব সাগরে টহল জোরদার করেছে মার্কিন বাহিনী।
সেন্টকম জানায়, এই অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস ক্যানবেরা' আরব সাগরে নিয়মিত টহল দিচ্ছে। অভিযান চলাকালীন এ পর্যন্ত ২৩টি জাহাজ মার্কিন নির্দেশ মেনে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
এদিকে, এই অবরোধকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের এই নিরবচ্ছিন্ন অবরোধ বিদ্যমান 'যুদ্ধবিরতি সমঝোতার' সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
আমেরিকা ও ইসরায়েলকে 'নতুন পরাজয়ে'র হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির
ইরানের 'সেনা দিবস' উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় শত্রুশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার কঠোর ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে 'কুফরি ও অহংকারী শক্তির অগ্রপথিক' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এদের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ লড়াই চলবেই।
টেলিগ্রামে দেওয়া ওই বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ইরানি সেনাবাহিনী বিশ্বের সামনে শত্রুদের দুর্বলতা ও লাঞ্ছনাকে উন্মোচিত করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'আমাদের ড্রোনগুলো আমেরিকা ও জায়নবাদী (ইসরায়েল) অপরাধীদের ওপর বজ্রপাতের মতো আঘাত হানছে। আমাদের সাহসী নৌবাহিনী শত্রুদের নতুন পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করাতে পুরোপুরি প্রস্তুত।'
বর্তমান যুদ্ধকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আদর্শিক লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, এই সেনাবাহিনী জনগণের হৃদয় থেকে উঠে আসা 'জাতির সত্যিকারের সন্তান'।
বিপ্লবের পর থেকে প্রতিটি সংকটে সেনাবাহিনী তার সঠিক দায়িত্ব পালন করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বার্তায় তিনি তার নিহত পিতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, আলী খামেনি বিপ্লবের প্রথম দশক থেকেই সেনাবাহিনীকে রক্ষা এবং এর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন।
বার্তার শেষাংশে তিনি 'যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে' যারা প্রাণ হারিয়েছেন, সেই শহীদদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
হরমুজ প্রণালিতে দুই জাহাজে গুলিবর্ষণ, ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ইরান। শনিবার এই প্রণালি অতিক্রম করার সময় অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
এর আগে ইরানের নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে রেডিও বার্তার মাধ্যমে জানানো হয় যে, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটটি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কোনো জাহাজকে এটি অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক বার্তায় শত্রুদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, শত্রুদের 'নতুন ও তিক্ত পরাজয়' উপহার দিতে ইরানের নৌবাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত।
তথ্যসুত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী দফার আলোচনায় এখনো সম্মতি দেয়নি ইরান
তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানতে পেরেছে, ইরান এখন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরবর্তী দফার আলোচনায় বসতে রাজি হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'নৌ-অবরোধ' সংক্রান্ত ঘোষণা এবং সাম্প্রতিক বার্তা বিনিময়ে আমেরিকার 'অতিরিক্ত দাবি'র কারণে তেহরান পরবর্তী দফার আলোচনায় সায় দেয়নি।
ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, আলোচনা অব্যাহত রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে 'অতিরিক্ত দাবি' বর্জন করা একটি অপরিহার্য শর্ত; অন্যথায়, ইরান দীর্ঘমেয়াদী এবং নিষ্ফল আলোচনায় সময় নষ্ট করতে ইচ্ছুক নয়।
তাসনিমের প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের এই অবস্থান পাকিস্তানের মাধ্যমে মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
তিন দিনের তেহরান সফর শেষ করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরানে তিন দিনের একটি সফর সম্পন্ন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সফরের সময় তিনি ইরানের শীর্ষ নেতাদের এবং আলোচকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মুনির ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহির সঙ্গে আলোচনা করেন।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বলেছে, এই সফর মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের একটি আলোচনাভিত্তিক সমাধান সহজতর করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের 'অবিচল অঙ্গীকার' এবং অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রচারের ইচ্ছাকে তুলে ধরেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে আগ্রহী না ইরান, চায় স্থায়ী সমাধানের 'পূর্ণাঙ্গ' শান্তি চুক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর না বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, তেহরান এখন কোনো সাময়িক সমাধান নয়, বরং সকল অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে একটি 'সামগ্রিক প্যাকেজ' বা পূর্ণাঙ্গ চুক্তির ভিত্তিতেই কেবল আলোচনায় আগ্রহী।
অতীতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমস্ত আলোচনা মূলত দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কেন্দ্র করে আবর্তিত হতো। তবে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরান এখন টেবিলে একগুচ্ছ নতুন দাবি উত্থাপন করেছে। এই 'পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজের' মধ্যে রয়েছে—হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ, পারমাণবিক অধিকার, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, বিদেশে জব্দকৃত অর্থ ফেরত, ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি, যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আঞ্চলিক সম্পর্ক।
ইরানি নীতিনির্ধারকদের মতে, তারা যুদ্ধ, তারপর সাময়িক শান্তি এবং পুনরায় যুদ্ধের এই 'দুষ্টচক্র' থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। তারা এমন একটি স্থায়ী শান্তি চাইছে যার পেছনে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা থাকবে।
গত দুই দফার আলোচনা থেকে শিক্ষ নিয়ে বর্তমানে ইরানিরা যে নীতি গ্রহণ করেছে, তাকে 'সতর্ক ও পরিমাপযোগ্য বাস্তববাদ' হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, তারা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অতিমাত্রায় আশাবাদীও নয়, আবার পুরোপুরি নিরাশও নয়।
একদিকে যখন বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা এসেছে, ঠিক একই দিনে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক কঠোর বিবৃতিতে জানিয়েছে, যদি এই দফার আলোচনাও ব্যর্থ হয়, তবে তারা পরবর্তী পর্যায়ের যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
সব পক্ষই একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রত্যাশা করলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশই বলছে, যেকোনো মুহূর্তে তারা পুনরায় অস্ত্র তুলে নিতে প্রস্তুত।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইরান নিয়ে 'ভালো খবর' আছে: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ইস্যুতে 'কিছুটা ভালো খবর' এসেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করতে শান্তি আলোচনার বিষয়ে আশাবাদ তৈরি করছে।
তবে তিনি জানিয়েছেন, বুধবারের মধ্যে কোনো চুক্তি না হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ানো নাও হতে পারে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরান হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেয়। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পৃথক একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর এই ঘোষণা আসে।
তবে, পরবর্তীতে উভয় পক্ষের বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহন পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
শুক্রবার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প 'ভালো খবর' কী, তা বিস্তারিতভাবে জানাননি।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
পরিস্থিতি 'অনিশ্চিত' থাকায় এখনো হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলছে অনেক জাহাজ
টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক পরিবহন বিশেষজ্ঞ জন-পল রোদ্রিগ বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণা করলেও পরস্পরবিরোধী তথ্য এখনো অনেক জাহাজকে এই জলপথ ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখছে।
আল জাজিরাকে তিনি বলেন, 'ঘোষণার পর থেকেই জাহাজগুলো চলাচলের চেষ্টা করছে… কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অনেক জাহাজই ফিরে যাচ্ছে, কারণ পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।'
তিনি আরও বলেন, 'সব পক্ষ থেকেই পরস্পরবিরোধী তথ্য দেওয়া হচ্ছে।'
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য 'সম্পূর্ণভাবে খোলা'। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরের ওপর অবরোধ চালিয়ে গেলে প্রণালি খোলা থাকবে না।
রোদ্রিগের মতে, মায়ার্স্কের মতো বড় শিপিং কোম্পানিগুলো তখনই এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে, যখন ইরানের বর্তমান বাধা বা নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইরান রাজি, 'ধীরে-সুস্থে' ওদের ইউরেনিয়াম নিয়ে আসব: ট্রাম্প; হস্তান্তরের প্রশ্নই ওঠে না: তেহরান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছে ইরান। কিন্তু তার এই দাবিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। তারা জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের কোনো প্রতিশ্রুতি কাউকে দেওয়া হয়নি। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই আল জাজিরাকে এ কথা জানান।
ইব্রাহিম রেজাই বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা বা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের কোনো প্রস্তাবই তেহরান মেনে নেবে না। এটি তেহরানের জন্য একটি 'কৌশলগত রেড লাইন' বা চূড়ান্ত সীমারেখা।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকবার দাবি করেছেন, ইরান তাদের মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবে। শুক্রবার নিজের এক পোস্টে তিনি লেখেন, "যুক্তরাষ্ট্র সব পারমাণবিক 'ধুলা' (ইউরেনিয়াম) হাতে পেতে যাচ্ছে।"
একইদিন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসতে তেহরানের সঙ্গে কাজ করবে ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, "আমরা একসঙ্গেই এটি উদ্ধার করব। আমরা খুব ধীরেসুস্থে ইরানের ভেতরে যাব। এরপর বড় বড় যন্ত্রপাতি দিয়ে খনন চালিয়ে এই ইউরেনিয়াম বের করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসব।"
তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিমকে বাঘাই বলেন, "সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমাদের কাছে ইরানের মাটির মতোই পবিত্র। পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, কোনো অবস্থাতেই এটি কোথাও হস্তান্তর করা হবে না।"
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে 'প্রথাগত ফি' আরোপ করবে না ইরান
ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে তারা 'প্রচলিত ফি' আরোপ করবে না।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ী আল জাজিরাকে বলেন, তেহরান প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর কোনো ফি আরোপ করবে না।
রেজায়ী বলেন, ইরানের পার্লামেন্ট বর্তমানে একটি খসড়া আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে 'প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ' সম্পর্কিত ফি নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, এই জলপথ দিয়ে চলাচল কেবল ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই সম্ভব হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালি পেরিয়েছে ক্রুজ শিপ
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিক জানিয়েছে, একটি প্রমোদতরী (ক্রুজ শিপ) সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রথম যাত্রীবাহী জাহাজ, যা এই পথ দিয়ে চলাচল করল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটিতে কোনো যাত্রী ছিল না।
মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, মাল্টার পতাকাবাহী 'সেলেস্টিয়াল ডিসকভারি' প্রায় ৪৭ দিন ধরে দুবাই বন্দরে নোঙর করা ছিল। এটি প্রথম মার্চের শুরুতে সেখানে পৌঁছায়।
ওয়েবসাইটটি আরও জানিয়েছে, শুক্রবার জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং বর্তমানে ওমানের মাসকাটের দিকে যাচ্ছে। আজকের মধ্যেই সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
রাশিয়ার তেল ক্রয়ে ছাড়ের মেয়াদ বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে দেওয়া বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার গভীর রাতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট কয়েক দিন আগেই বলেছিলেন, এই ছাড়ের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। তার সেই বক্তব্যের কয়েক দিন পরই এই নতুন সিদ্ধান্ত এল।
মার্কিন অর্থ বিভাগ একটি নতুন সাধারণ লাইসেন্স ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত জাহাজে বোঝাই করা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহ ও বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, এই ছাড়ের মেয়াদ আগামী ১৬ মে পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
তবে ইরান, কিউবা এবং উত্তর কোরিয়া সংশ্লিষ্ট কোনো লেনদেনের ক্ষেত্রে এই ছাড় কার্যকর হবে না।
এর আগে গত মার্চ মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার তেল রপ্তানির ওপর থেকে বিধিনিষেধ সরিয়ে নিয়েছিলেন। মূলত ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তৈরি হওয়া অস্থিরতা মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
হরমুজ নিয়ে শি 'অনেক খুশি': ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং 'খুব খুশি যে হরমুজ প্রণালি খোলা আছে এবং দ্রুত খুলে যাচ্ছে।' নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, আগামী ১৪–১৫ মে চীনে অনুষ্ঠিতব্য তাদের বৈঠক 'বিশেষ' হবে এবং 'সম্ভাব্যভাবে ঐতিহাসিক' হতে পারে।
তিনি বলেন, 'অনেক কিছুই অর্জিত হবে!'
ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন তাদের মোট তেলের প্রায় ৩৮ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আমদানি করে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ইরানকে উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে চীন। একই সঙ্গে দেশটি যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর পক্ষেও সমর্থন জানিয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
জাহাজের জ্বালানির দাম কিছুটা কমেছে, তবে এখনো 'খুব বেশি': সামুদ্রিক খাতের বিশ্লেষকরা
সামুদ্রিক খাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম লয়েডস লিস্ট জানিয়েছে, জাহাজ চালাতে ব্যবহৃত ভেরি লো সালফার ফুয়েল অয়েল (ভিএলএসএফও)-এর গড় দাম কমে প্রতি টন ৮৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটির তথ্যমতে, যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ দাম থেকে এটি ১৯ শতাংশ কমেছে। তবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির গড় দামের তুলনায় এখনো এটি ৭৩ শতাংশ বেশি।
হাই সালফার ফুয়েল অয়েল (এইচএসএফও) জাহাজে ব্যবহৃত আরেক ধরনের ভারী জ্বালানি তেল। এর দামও সর্বোচ্চ ৭০৮ দশমিক ৫০ ডলার প্রতি টন থেকে ২৩ শতাংশ কমেছে। তবু বছরের শুরুর সময়ের তুলনায় এটি এখনো ৬৬ শতাংশ বেশি রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
হরমুজ পার হতে লাগবে আইআরজিসি-র অনুমতি, জব্দকৃত অর্থ অবমুক্ত করা চুক্তির অংশ: ইরানি কর্মকর্তা
হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল করতে পারবে, তবে এর জন্য ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সাথে সমন্বয় প্রয়োজন হবে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ অবমুক্ত করা এই চুক্তির একটি অংশ ছিল।
ইরানি ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাহাজ চলাচল কেবল ইরান কর্তৃক নির্ধারিত নিরাপদ লেন বা পথগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো সামরিক জাহাজকে এই প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।
তিনি উল্লেখ করেন, 'প্রণালিটি পুনরায় খোলার শর্ত হিসেবে ইরানের আটকে থাকা অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।' মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরানের প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব বিভিন্ন দেশে আটকে আছে, যা তেল ও গ্যাস রপ্তানি থেকে অর্জিত হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
মার্কিন অবরোধ শুরুর পর ২১টি জাহাজ ইরানে ফিরে গেছে: সেন্টকম
মার্কিন অবরোধ শুরুর পর পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরে ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে দেওয়া নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে ২১টি জাহাজ দিক পরিবর্তন করে ইরানে ফিরে গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, 'অবরোধ শুরুর পর থেকে ২১টি জাহাজ মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ মেনে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইরানে ফিরে গেছে।' সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারা এ তথ্য জানায়।
এই তথ্য প্রকাশের আগে ইরান জানিয়েছিল, তারা হরমুজ প্রণালি সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য আবার খুলে দিয়েছে। তবে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অঞ্চলে তাদের নৌ অবরোধ তুলে না নেয়, তাহলে এই জলপথ আবার বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এদিকে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে শিপিং কোম্পানিগুলো। শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি জাহাজ চলাচল করেছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
ইরানে প্রায় ১১ হাজার হামলা চালানো হয়েছে: আইডিএফ
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইরানে তাদের বোমাবর্ষণ নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, দেশটিতে প্রায় ১০ হাজার ৮০০টি হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা 'হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি' জানিয়েছে, গত ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানে ১ হাজার ৭০১ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। ওই দিনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন।
আইডিএফ আরও বলেছে, লেবাননে তারা ১৪ হাজার ৯০০টির বেশি গোলাবর্ষণ এবং ২ হাজার ৫০০টি বিমান হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৬৫টি বহুতল ভবনে আঘাত হানার কথাও জানিয়েছে তারা।
লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ছয় সপ্তাহের এই সংঘাতে দেশটিতে ২ হাজার ১০০ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ১০ লাখের বেশি মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
ট্রাম্পের দাবি 'মিথ্যা', মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ 'উন্মুক্ত থাকবে না': গালিবফ
সম্প্রতি ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘণ্টায় সাতটি দাবি করেছেন এবং ওই সাতটি দাবিই ছিল মিথ্যা।
গালিবফ আরও বলেন, 'তারা এই যুদ্ধে জয়ী হয়নি এবং এসব মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমেও তারা নিশ্চিতভাবেই কোনো সুফল পাবে না।'
হরমুজ প্রণালির বিষয়ে তিনি বলেন, মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে এই জলপথ 'উন্মুক্ত থাকবে না'। তিনি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে নাকি বন্ধ এবং এর নিয়মকানুন কেমন হবে, তা 'রণক্ষেত্রেই নির্ধারিত হবে, কোনো সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়'।
তিনি এক্স-এ লেখেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল 'নির্ধারিত রুট' অনুযায়ী এবং 'ইরানের অনুমোদন' সাপেক্ষে পরিচালিত হবে।
গালিবফ এবং বাঘাইয়ের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইংরেজিতে একটি পোস্ট দিয়ে জানিয়েছিলেন, যুদ্ধবিরতির বাকি সময়ের জন্য সকল বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি 'পুরোপুরি উন্মুক্ত' রয়েছে।
আরাগচির এই বক্তব্য ইরানের কিছু সংবাদমাধ্যম এবং কট্টরপন্থীদের সমালোচনার মুখে পড়ে। তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার এই মন্তব্যের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান।
গালিবফ তার পোস্টে আরও বলেন, 'তথ্যযুদ্ধ এবং জনমত গঠন করা যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তবে ইরানি জাতি এসব কৌশলে প্রভাবিত হবে না।'
তথ্যসূত্র: সিএনএন
চুক্তি না হলে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ না বাড়ানোর ইঙ্গিত ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী বুধবারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ নাও বাড়াতে পারেন। তার এই মন্তব্যের ফলে দেশটিতে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে থাকাকালীন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'সম্ভবত আমি এর মেয়াদ বাড়াব না।' আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে তিনি যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করবেন নাকি পুনরায় হামলা শুরু করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, 'সম্ভবত আমি মেয়াদ বাড়াব না, যার ফলে অবরোধ বহাল থাকবে এবং দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আবারও বোমা ফেলা শুরু করতে হবে।'
এই আলোচনার বিষয়ে অবগত ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদল এই সপ্তাহের শেষে পাকিস্তানে পৌঁছাবে এবং সম্ভবত সোমবার আলোচনায় বসবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই বৈঠকের বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এর আগে শুক্রবার দিনের শুরুর দিকে ট্রাম্প অবশ্য আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছিলেন, উভয় পক্ষ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
