সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্যে কেন মেলে না এলপিজি সিলিন্ডার?
দেশে এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) এখন আর কোনো বিলাসপণ্য নয়। বিশেষ করে শহর ও মফস্বল এলাকার লাখো পরিবার বর্তমানে রান্নার কাজে এটি ব্যবহার করছে।
গত দুই মাস ধরে এলপিজির মূল্য নিয়ে কারসাজি ও এর সরবরাহ সংকটের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। সরকার দাম বেঁধে দেওয়ার পরও বাস্তবে এর সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা। ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি ভোক্তা সাধারণের ওপর পড়ছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গতকাল রোববার ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছে এক হাজার ৩৫৬ টাকা, যা আগের মাসের তুলনায় ৫০ টাকা বেশি। আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন এই মূল্য কার্যকর হয়েছে।
ভোক্তারা বলছেন, তারা সরকার নির্ধারিত দামেই এলপিজি কিনতে চান। তবে যথাযথ তদারকি না থাকায় বাজারে সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্য কাজে আসছে না।
অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় খুচরা বিক্রেতারা নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করছেন। এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিইআরসির পরিচালক (গ্যাস) প্রকৌশলী মো. হেলাল উদ্দিন তালুকদার বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম নির্ধারণের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "দেশে এলপিজির মোট চাহিদার মাত্র অর্ধেক আমরা সরবরাহ করতে পারছি। এমন পরিস্থিতিতে দাম নির্ধারণ আসলে কাজে আসে না।"
তিনি স্বীকার করেন, খুচরা বাজার তদারকির ক্ষেত্রে বিইআরসির ক্ষমতা খুবই সীমিত।
"আমরা প্রতি মাসে নিয়ম অনুযায়ী এলপিজির দাম নির্ধারণ করি। তবে বাজার মনিটর করা আমাদের কাজ নয়। এলপিজি বাজার তদারকির জন্য আমরা বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে চিঠি দিই। কিন্তু সেখান থেকে খুব একটা সহায়তা পাওয়া যায় না", বলেন তিনি।
ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি কেনা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
রাজধানীর বনশ্রী এলাকার গৃহিণী শারমিন চৌধুরী বলেন, "গত দুই মাস ধরে আমাকে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য আড়াই হাজার টাকা দিতে হয়েছে। যে দামে এটি কিনতে হয়েছে, তা সরকারের নির্ধারিত দামের প্রায় দ্বিগুণ।"
একই অভিযোগ করেছেন মিরপুর এলাকার একটি ছোট রেস্তোরাঁর মালিক আবদুল করিম। তিনি বলেন, "আমার রান্নার খরচ এখন দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ডিলাররা বলে গ্যাসের সংকট আছে, তাই বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছি। এই অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের মতো ছোট ব্যবসাগুলো টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।"
এর আগে সর্বশেষ ৪ জানুয়ারি এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়। সেদিন বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল।
এলপিজির পাশাপাশি অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ২.৩৪ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ৬২.১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ৪ জানুয়ারি অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ২.৪৮ টাকা বাড়িয়ে ৫৯.৮০ টাকা করা হয়েছিল।
বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম সমন্বয় করে থাকে। এই মূল্য নির্ধারণে মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম এবং ডলার বিনিময় হারের পরিবর্তন বিবেচনা করা হয়।
তবে কার্যকর বাজার তদারকি না থাকায় ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত এসব দাম বাস্তবে কেবল ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
