গাজায় নিহত সাংবাদিক আনাস আল-শরিফের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল মেটা, মুছে গেল তার যুদ্ধ কভারেজের আর্কাইভ
গাজায় নিহত ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আনাস আল-শরিফের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে মেটা। পেজটি গাজা থেকে প্রকাশিত তার সংবাদের একটি বিশাল আর্কাইভ ছিল। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) তার এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, পেজটি বন্ধ অবস্থায় দেখে তার প্রতিনিধি দল "গভীরভাবে ব্যথিত"। পেজটি পুনরুদ্ধার করতে বা মেটা ও ইনস্টাগ্রাম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা করতে সক্ষম যে কাউকে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এতে তার অনুসারীদের 'আনাস জামাল৩৩' নামের একটি ব্যাকআপ অ্যাকাউন্টের দিকেও ইঙ্গিত করা হয়। অ্যাকাউন্টটি কেন বন্ধ করা হয়েছে সে বিষয়ে বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি এবং মেটা কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছে কি না তাও উল্লেখ করা হয়নি। মেটাও এখন পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট বন্ধের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
আনাস আল-শরিফ উত্তর গাজা থেকে প্রচারিত আল জাজিরার একজন প্রতিনিধি ছিলেন। তার সংবাদ কভারেজে এই ভূখণ্ডে ইসরায়েলের যুদ্ধ চলাকালীন বোমাবর্ষণ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, ক্ষুধা এবং বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর খবর উঠে এসেছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, ওই সময়ের তার সম্পূর্ণ কাজের সংগ্রহ ইনস্টাগ্রাম পেজটিতে সংরক্ষিত ছিল।
২০২৫ সালের ১০ আগস্ট গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালের কাছে সাংবাদিকদের ব্যবহৃত একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি নিহত হন। একই হামলায় আরও কয়েকজন সাংবাদিক প্রাণ হারান।
মৃত্যুর কিছু সময় আগে তিনি গাজা শহরে বাড়তে থাকা বোমাবর্ষণের খবর প্রচার করছিলেন। তার শেষ প্রতিবেদনে তিনি লিখেছিলেন, 'বোমাবর্ষণ থামছে না। বিগত দুই ঘণ্টায় শহরটিতে ইসরায়েলি আগ্রাসন আরও মারাত্মক রূপ নিয়েছে।'
এই অ্যাকাউন্ট বন্ধের ঘটনাটি মেটার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অভিযোগকে পুনরায় উসকে দিয়েছে। ফিলিস্তিন সম্পর্কিত কনটেন্ট মেটা যেভাবে পরিচালনা করে—বিশেষ করে পোস্ট সরিয়ে দেওয়া, অ্যাকাউন্ট সীমিত করা এবং ফিলিস্তিনপন্থী উপাদানের প্রচার কমিয়ে দেওয়া—তা নিয়ে সাংবাদিক, মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং ফিলিস্তিনি সমর্থকরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির সমালোচনা করে আসছেন।
আনাস আল-শরিফের পেজটি মুছে যাওয়ার ফলে সংঘাতে নিহত সাংবাদিকদের ডিজিটাল আর্কাইভ কীভাবে সংরক্ষণ করা যায় এবং গাজার সংবাদ কতদিন সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য থাকবে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
