যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেন যুদ্ধে অংশ নিলে 'দ্রুত ও যন্ত্রণাদায়ক' জবাব দেওয়া হবে: হুথিদের হুঁশিয়ারি
ইয়েমেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জড়ালে দেশটিকে 'দ্রুত ও যন্ত্রণাদায়ক জবাব' দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হুথি গোষ্ঠীর একজন জ্যেষ্ঠ নেতা। এদিকে, গোষ্ঠীটিকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব বলে খবর পাওয়া গেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুথি গোষ্ঠীর রাজনৈতিক দপ্তরের সদস্য মোহাম্মদ আল বুখাইতি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র যদি ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে জড়ায়, তাহলে পাল্টা জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে আমরা দেরি করব না। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও এ অঞ্চলে তাদের সব স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত ও যন্ত্রণাদায়ক জবাব দেওয়া হবে।'
এ ছাড়া সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এসব স্থাপনা থেকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
বুখাইতি বলেন, 'এসব স্থাপনা এখন বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।'
এর আগে গতকাল সোমবার রাতে রিয়াদের বাসিন্দারা বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এর কিছুক্ষণ আগে তাদের মুঠোফোনে আকাশপথে হামলার আশঙ্কা জানিয়ে একটি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির সবচেয়ে জনবহুল এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণকারী হুথি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, রিয়াদে তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, তারা খামিস মুশাইতের একটি সামরিক বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে একটি ড্রোনও পাঠিয়েছেন। শহরটি ইয়েমেন সীমান্তের কাছে অবস্থিত।
সারি আবারও আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ও যাত্রীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা ও যাতায়াত না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তবে পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দরকে এই সতর্কতার বাইরে রাখা হয়েছে। তার ভাষায়, সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দর এখন 'অনিরাপদ'।
নতুন করে এসব হামলা এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন শনিবার হুথিদের হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। ওই হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন।
রোববার আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন।
