পুতিনের ‘পোড়ামাটি নীতি’: ইউক্রেনকে কঠিন আঘাতে জর্জরিত করছে, ঘটাচ্ছে ধ্বংসযজ্ঞ
রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পঁচিশ বছরে ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়াকে তিনটি বড় যুদ্ধে জড়িয়েছেন। বর্তমান ইউক্রেন যুদ্ধের মতো আগের দুটি যুদ্ধেরও উদ্দেশ্য ছিল সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে রাশিয়ার পরাশক্তির মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
প্রতিটি যুদ্ধই শুরু হয়েছিল এক প্রকার তড়িৎগতির সমরাভিযান বা 'ব্লিৎসক্রিগ' ধাঁচের ভয়াল শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে—যার লক্ষ্য ছিল দ্রুত চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করা।
কিন্তু ১৯৯৯-২০০৯ সালের রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ প্রদেশ চেচনিয়ার যুদ্ধ হোক, কিংবা ২০১৫-২০২৪ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদকে রক্ষায় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চালানো বিমান অভিযান, অথবা বর্তমান ইউক্রেন যুদ্ধই হোক—প্রতিটি সংঘাতই শেষ পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট কৌশলেই পর্যবসিত হয়েছে: আর তা হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে শহরের পর শহরে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নির্বিচার ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো।
চেচনিয়ার রাজধানী গ্রোজনি যেহেতু রাশিয়ার এ ধরনের ধ্বংসাত্মক হামলার প্রথম শিকার হয়েছিল, তাই সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই পোড়ামাটি কৌশলটিকে 'গ্রোজনি মডেল' বা ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় 'ধ্বংসের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা' (পিস থ্রু অবলিটারেশন) বলে অভিহিত করে থাকেন।
ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক ম্যাক্স হেস মার্কিন একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, "এই টার্ম ব্যবহার করতে আমার খারাপ লাগছে, তবে আমার মনে হয় কিয়েভকে 'গ্রোজনি বানানোর' (গ্রোজনি-ফিকেশন) প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আর এটি এমন এক বিষয়, যা একসময় আমার কল্পনারও বাইরে ছিল।"
এই কৌশলের সর্বাধুনিক অধ্যায়টি শুরু হয় গত মঙ্গলবার, যখন রাশিয়ার অসংখ্য ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বেসামরিক আবাসিক এলাকাগুলোতে একযোগে তান্ডব চালায়। এই হামলায় শিশুসহ অন্তত ২১ জন বাসিন্দা নিহত হন। পরবর্তী তিন দিনে আরও অন্তত তিনটি শহরে অবিরাম বোমাবর্ষণ করা হয়, যেখানে প্রাণ হারান ১০০ জনেরও বেশি মানুষ। ইউক্রেনীয় টেলিভিশনের খবরে দেখা যায়, দেশটির দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলীয় শহর প্রিলুকির এক ধ্বংসপ্রাপ্ত অ্যাপার্টমেন্টের ধবংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকর্মীরা ২২টি মরদেহ উদ্ধার করছেন।
গত শনিবার ডানাবিশিষ্ট গ্লাইড-বোমার আঘাতে ইউক্রেনের জাপোরিজিয়ায় আরও ১৫ জন বেসামরিক লোক নিহত হন। এখানে ইউক্রেনের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক-ভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণ ও গবেষণা কেন্দ্র 'দ্য সুফান সেন্টার'-এর গবেষক কলিন পি ক্লার্ক পূর্বাভাস দিয়ে বলেন, "শহরগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো রাশিয়ার এই পাল্টা অভিযানের উদ্দেশ্য হতে পারে—অবশিষ্ট বেসামরিক বাসিন্দাদের বিতাড়িত করা এবং যেকোনো সামরিক দখলদারিত্ব প্রতিরোধে ইউক্রেনীয় প্রতিরোধকারীদের সক্ষমতা ও মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া।"
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক জেমস হিউজ একই ধরনের মূল্যায়ন ও এক হতাশাজনক পূর্বাভাস দিয়ে বলেন, "ইউক্রেনে এ পর্যন্ত কৌশলগতভাবে যা ঘটেছে, তা মূলত রাশিয়ার চেচেন যুদ্ধেরই এক বিশাল সংস্করণ। তবে এর কৌশলগত পরিণতিও প্রায় একই হতে যাচ্ছে—বিপুল প্রতিপক্ষের প্রাণহানি, অবকাঠামো ধ্বংস এবং জনশূন্যতার বিনিময়ে রাশিয়ার জন্য এক অত্যন্ত ব্যয়বহুল জয়।"
পুতিনের যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো প্রায় একই রকম থাকলেও, চেচেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ার যুদ্ধকৌশলে কিছুটা বিবর্তন এসেছে।
এশিয়া টাইমসের এই কলাম লেখক ড্যানিয়েল উইলিয়ামস লিখেছেন, "আমি ১৯৯৯ সালের শেষের দিকে এবং ২০০০ সালের শুরুর দিকে গ্রোজনির ওপর রাশিয়ার সেই তাণ্ডব কভার করেছিলাম। সেসময় রাশিয়ার বোমারু বিমানগুলো আকাশে চক্কর দিত এবং রকেট ও কামানের গোলা দিয়ে পুরো শহর গুড়িয়ে দেওয়া হতো।"
অক্টোবরে শুরু হওয়া সেই তাণ্ডবের মুখে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক চেচেন পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। তবে ডিসেম্বরের মধ্যে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, বিমান ও কামানের গোলা ছুড়েও চেচেন বাহিনীকে হঠানো সম্ভব হয়নি। সোভিয়েত সেনাবাহিনীর প্রাক্তন কর্মকর্তা আসলান মাসখাদভের নেতৃত্বাধীন প্রথাগত চেচেন বাহিনী কিংবা শামিল বাসায়েভের নেতৃত্বাধীন ইসলামপন্থী গেরিলা যোদ্ধা—কাউকেই এ কৌশলে পুরোপুরি পরাস্ত করা যায়নি।
অব্যাহত বিমান হামলার মুখে চোরাগুপ্তা আক্রমণ ও স্নাইপার হামলার কৌশল নেন চেচেন যোদ্ধারা। তাই নতুন বছরের শুরু থেকেই রুশ সৈন্যরা স্নাইপার লুকিয়ে আছে সন্দেহে চারপাশের বাড়িঘরের ওপর অবিরাম কামানের গোলাবর্ষণ করতো।
স্নাইপার হামলার জবাবে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের মুখে মাসখাদভের বাহিনীকে শেষ পর্যন্ত গ্রোজনি শহর ছেড়ে সরে যেতে হয়। আর ৩১ জানুয়ারি রাতে শামিল বাসায়েভ ও তাঁর অনুসারীরা এক বিপজ্জনক মাইনফিল্ড অতিক্রম করে পার্শ্ববর্তী আলখান-কালা শহরে পালিয়ে যান।
পালানোর সময় পেতে রাখা একটি মাইনে পা দিয়ে ফেলেন বাসায়েভ। বিস্ফোরণে গুরুতর জখম ওই বাম পা চিকিৎসকরা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। পরে তিনি ট্রাকে করে পাহাড়ি এলাকায় পালিয়ে যান।
রাশিয়া পরে দাবি করে যে তারা গ্রোজনির উত্তরে এক অভিযানে মাসখাদভকে এবং গাড়ির পাশে রাখা ট্রাক বোমার বিস্ফোরণে বাসায়েভকে হত্যা করেছে। তবে চেচেনদের দাবি ছিল, তাঁদের দুজনেই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। প্রতিপক্ষের 'শীর্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিহ্ন' বা ডিক্যাপিটেশন- এর এই কৌশল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতাদের কাছেও ব্যাপক পছন্দের হয়ে উঠেছে।
২০১৬ সালের শেষের দিকে পুতিন সিরিয়ার দিকে নজর দেন। দেশটির সাধারণ জনগণকে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দিতে ও সিরীয় বিদ্রোহী ও ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের বিচ্ছিন্ন করতে কেবল একটি এলাকা নয়, বরং একাধিক শহর একযোগে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে বিদ্রোহী দমনে ব্যাকুল প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে পুতিন শহরের ঐতিহাসিক প্রাচীন কেন্দ্রে বোমারু বিমান পাঠান। রাশিয়া সেসময় নিজেদের সম্পূর্ণ স্বাধীন মনে করেছিল, কারণ তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র দিয়ে সহায়তা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
আলেপ্পোর সেই প্রাচীন ঐতিহাসিক অঞ্চলটি 'জৈশ আল-ফাতাহ' বা 'বিজয়ী বাহিনী' নামক এক গেরিলা গোষ্ঠীর দুর্গে পরিণত হয়েছিল, যারা আসাদকে উৎখাতের চেষ্টা করছিল। যুদ্ধের আগে জার্মানির অর্থায়নে এবং প্রেসিডেন্ট আসাদের স্ত্রী আসমা আল-আসাদের পৃষ্ঠপোষকতায়— এই ঐতিহাসিক এলাকাটি ব্যাপকভাবে সংস্কার করা হয়েছিল।
রুশ বিমানগুলো মুহূর্তের মধ্যেই সেই প্রাচীন নগর কেন্দ্রটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই গণহত্যার বিরুদ্ধে তেমন কোনো তীব্র ক্ষোভ না থাকায়—রাশিয়া সেই সুযোগ নিয়ে সিরিয়ার অন্যান্য শহরেও নির্বিচারে বোমাবর্ষণ চালিয়ে যায়।
কিন্তু ২০২৪ সালে এসে পুতিনের নজর আবার ইউক্রেনের দিকে ঘুরে যায়, যেখানে তাঁর ঝটিকা অভিযান এক দীর্ঘ মেয়াদী ফাঁদে রূপ নেয় ইউক্রেনীয় বাহিনীর সফল প্রতিরোধের মুখে। এই অবস্থায়, পুতিন সিরিয়ায় মোতায়েন করা বোমারু বিমানগুলো রাশিয়ায় ফিরিয়ে আনেন ইউক্রেন ফ্রন্টে ব্যবহারের জন্য। এই সুযোগ বুঝে ইসলামপন্থী বিদ্রোহীরা ওই বছরের নভেম্বরে আলেপ্পোতে হামলা চালায় এবং ডিসেম্বরের শুরুর দিকে শহরটি দখল করে নেয়। এরপর এক ঝটিকা আক্রমণ অভিযানের মধ্য দিয়ে বিদ্রোহীরা পৌঁছে যায় রাজধানী দামেস্কে। ফলে বাশার আল-আসাদকে তাঁর স্ত্রী-সহ পালিয়ে যেতে হয় মস্কোতে।
এর আগে ২০২২ সালেই রুশ বাহিনী ইউক্রেনের আজভ সাগর তীরবর্তী উপকূলীয় শহর মারিউপোল চার মাস অবরুদ্ধ করে রাখে এবং সেখানে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। যার মাধ্যমে তারা পোড়ামাটি নীতির মাধ্যমে সেই 'গ্রোজনি সমাধান' প্রয়োগ করে। ধ্বংসাত্মক হামলায় বন্দর নগরীটি সম্পূর্ণ বেসামরিক মানুষশূন্য হয়ে যায়। এই অবস্থায় শহরের একটি বৃহৎ ইস্পাত কারখানায় সশস্ত্র প্রতিরোধকারীরা আটকা পড়েন। পরবর্তীতে তাঁরাও আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।
গত মঙ্গলবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে হামলার ক্ষেত্রেও একই রক্তক্ষয়ী কৌশলের পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। অধিবাসীদের চরম আতঙ্কিত করার এক পূর্ণাঙ্গ প্রচেষ্টায় রাশিয়া কিয়েভের ওপর এযাবৎকালের সবচেয়ে ভারী ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে। মোট ১৩০টি ড্রোন, ৪৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং অজ্ঞাতসংখ্যক ব্যালিস্টিক রকেট ছুড়ে আবাসিক এলাকাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতেও অন্যান্য শহরে আঘাত হানা হয়, যার ফলে চার শহরের প্রায় ১০০ জন নিহত হন। উত্তরাঞ্চলীয় শহর প্রিলুকিতে উদ্ধারকর্মীরা একটি চূর্ণবিচূর্ণ অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ২২ জন বাসিন্দার মরদেহ উদ্ধার করেন। উদ্ধারকারীরা জীবিতদের খোঁজে ওপরের বিপজ্জনক তলাগুলোতে উঠে সন্ধান চালাচ্ছেন বলে ইউক্রেনীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো জানিয়েছে।
এ ধরনের ভয়াবহ বোমাবর্ষণ কেবল পদাতিক বাহিনীর আক্রমণের আগে কিয়েভ বা অন্যান্য শহরকে দুর্বল করার কোনো সাধারণ প্রচেষ্টা নয়। বরং আলেপ্পো ও সিরিয়ার বাকি অংশের মতোই, মাটিতে সশরীরে প্রবেশের বিকল্প হিসেবে রুশ বাহিনী এই কৌশল গ্রহণ করেছে। ইউক্রেনের নিপ্রো নদী বরাবর কয়েক মাস ধরে আটকে থাকা এবং চরম ক্ষয়ক্ষতির শিকার হওয়া রুশ সেনাদের পক্ষে পশ্চিমে বড় ধরণের কোনো অগ্রগতি অর্জন করা আপাতত অসম্ভব। ফলে কিয়েভে বোমাবর্ষণই তাদের নতুন বিকল্প কৌশল।
ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ার চলমান সংঘাত নিয়ে কাজ করা ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাংক 'ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার' বলছে, "রুশ সামরিক বাহিনী যদি দ্রুত কৌশলে কিয়েভ দখল করতে না পারে, তবে তারা শহরটি অবরুদ্ধ করে ফেলবে এবং ইউক্রেনীয়দের মনোবল ভেঙে দিতে গ্রোজনি ও আলেপ্পোর মতো ভয়াবহভাবে কামানের গোলাবর্ষণ ও রকেট নিক্ষেপের
ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করবে।"
পুতিন এই নীতিতেই অটল থাকতে ইচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে ইউক্রেন এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈরী মনোভাব— পুতিনকে এই ধ্বংসাত্মক কৌশল বজায় রাখতে আরও উৎসাহিত করতে পারে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের এখন "নতুন প্রেসিডেন্ট খোঁজার সময় এসেছে"। তিনি জেলেনস্কিকে সতর্ক করে বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা তাঁর "এখনই বন্ধ করা উচিত।"
জ্বালানি খাতের রপ্তানি আয় থেকে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালানোর সামর্থ্য পাচ্ছে রাশিয়া, ইউক্রেন ও পশ্চিমাদের এমনটাই বক্তব্য। এই অবস্তায়, রাশিয়ার তেল শিল্পের স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালায় কিয়েভ। এতে পুতিনের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎসটি শুকিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, এসব স্থাপনায় আঘাত হানার কারণে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ব্যাহত হচ্ছে। আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমাতে ট্রাম্প মস্কো থেকে ডিজেল কিনতে চাইছেন।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত পুতিন সরকারের বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলোকে দুর্বল করে দিচ্ছে। একইসঙ্গে ইউক্রেনকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী ইউরোপীয় ইউনিয়নকে মারাত্মকভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নভেম্বরের নির্বাচনে যদি ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি হেরে যায়, তবে ট্রাম্প নিজের তৈরি দুটি রাজনৈতিক বিপর্যয়ের (অব্যাহত মূল্যস্ফীতি এবং চরম অপ্রিয় ইরান যুদ্ধ) দায় নেওয়ার চেয়ে—জেলেনস্কিকে বলির পাঠা বানিয়ে তাঁর ঘাড়ে দোষ চাপানোর সহজ পন্থাকেই বেছে নেবেন। আর সেটিরই প্রেক্ষাপট প্রস্তুত করে রাখছেন।
লেখক : ড্যানিয়েল উইলিয়ামস দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস এবং মিয়ামি হেরাল্ডের সাবেক আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর সাবেক গবেষক। ও/আর বুকস থেকে প্রকাশিত 'ফরসেকেন: দ্য পারসিকিউশন অব ক্রিশ্চিয়ানস ইন টুডে'স মিডল ইস্ট' বইয়ের রচয়িতা তিনি। বর্তমানে তিনি রোমে কর্মরত।
