‘আটক নয়, আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল’: মুক্তির পর ধ্রুব রাঠি; বললেন পুলিশকে কোনো মুচলেকা দেননি
দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগে হরিয়ানার গুরুগ্রাম থেকে আটক হওয়া জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি দাবি করেছেন, তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার বা আটক করেনি, বরং 'অপহরণ' করেছিল। শনিবার গভীর রাতে মুক্তির পর রবিবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই অভিযোগ তোলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এবং ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে রাঠি বলেন, 'আমাকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি, আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল।' এ ছাড়া পুলিশের কাছে তিনি কোনো মুচলেকা বা অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে আসা খবরও সরাসরি নাকচ করে দেন তিনি।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাঠিকে মুক্তি দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর কেন্দ্রীয় বিহার সোসাইটির নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করেছিল পুলিশ।
ভিডিও বার্তায় ধ্রুব রাঠি তার ভারতীয় পাসপোর্ট প্রদর্শন করে বলেন, তিনি কোনো বিদেশি নাগরিক নন এবং একজন সাধারণ ভারতীয় নাগরিক হিসেবে তার পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ১০ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে তিনি যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন দরজার বাইরে সন্দেহজনক আনাগোনা দেখে তার মা দরজা খোলেন। ইউনিফর্ম পরা কোনো পুলিশ সদস্য নয়, বরং সাদা পোশাকের প্রায় ২০ জন লোক হঠাৎ জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে পড়ে।
রাঠি বলেন, 'আমি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগেই এই লোকগুলো আক্ষরিক অর্থেই আমাকে অপহরণ করে। আমি এখানে অপহরণ শব্দটিই ব্যবহার করছি কারণ এটি কোনো বৈধ গ্রেপ্তার ছিল না। আমি যদি প্রতিবাদস্থলে যেতাম, তবে আমাকে আটক করা যেত। কিন্তু কোনো নেমপ্লেট ছাড়াই গুণ্ডা পাঠিয়ে আমাকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।'
তিনি আরও অভিযোগ করেন, 'একজন চিহ্নিত অপরাধীকে যেভাবে নেওয়া হয়, তারা আমাকে সেভাবে হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে নিয়ে যায়। শোবার ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে সিঁড়ি দিয়ে নামানো হয়েছে। এতে আমি গুরুতর আঘাত পেয়েছি এবং আমার সারা শরীরে ক্ষতের দাগ রয়েছে।'
আইনজীবীর সঙ্গে তাকে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
পরিস্থিতিকে 'অঘোষিত জরুরি অবস্থা' হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে দেশকে 'একনায়কতন্ত্রে রূপান্তরের' অভিযোগ তোলেন রাঠি। তিনি বলেন, 'কোনো গণতান্ত্রিক দেশে কি শুনেছেন—যে নাগরিক কোনো আইন ভাঙেনি, কেবল সত্যের পক্ষে ও উন্নত নির্বাচন কমিশনের দাবিতে কথা বলেছে, তাকে বেডরুম থেকে মা-বাবাকে মারধর করে এভাবে তুলে নেওয়া হয়? আমার সঙ্গে যদি এমনটা ঘটতে পারে, তবে কাল আপনার সঙ্গেও ঘটতে পারে।'
আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে অনশনের হুঁশিয়ারি দেওয়ায় পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুককে ধন্যবাদ জানিয়ে রাঠি বলেন, 'যত চাপই দেওয়া হোক না কেন, দেশের জন্য আমি একইভাবে আওয়াজ তুলে যাব। জয় হিন্দ।'
