যে দেশে পোষা বিড়ালের সংখ্যা যত বেশি, সেখানকার মানুষ তত বেশি সুখী: গবেষণা
গবেষকরা যখন বিভিন্ন দেশের মানুষের সুখ বা জীবনসন্তুষ্টি নিয়ে গবেষণা করেন, তারা সাধারণত স্বাস্থ্য এবং ধনসম্পদের মতো বিষয়গুলোকে পরিমাপক হিসেবে দেখেন। তবে 'পিএলওএস ওয়ান' জার্নালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় ভিন্ন এক উপাদানও বিবেচনা করা হয়েছে তা হলো বিড়াল।
বিড়াল ও কুকুরের মতো পোষা প্রাণীগুলো সাধারণত মানুষের মানসিক সুস্থতার জন্য ইতিবাচক। তবে বিড়ালের ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে—তাদের শরীরে 'টক্সোপ্লাজমা গন্ডি' নামের একটি পরজীবী থাকে, যা মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। এর সাথে সম্পর্ক রয়েছে রাস্তায় তীব্র রাগ বা ক্ষোভ (রোড রেজ), বিষণ্ণতা এবং মেজাজের অন্যান্য পরিবর্তনের।
মানবস্বাস্থ্যে বিড়ালের এই পরস্পরবিরোধী প্রভাবের বিষয়টি মাথায় রেখে গবেষকরা প্রশ্ন তোলেন: বিড়াল কি মানুষের সার্বিক সুখের জন্য ইতিবাচক নাকি বিপরীত?
৯৩টি দেশের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি বিড়ালের উপস্থিতি এবং মানুষের সুখের মধ্যে একটি ইতিবাচক সম্পর্কের সন্ধান পেয়েছে।
গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক হাভিয়ের আই. বোরাজ-লেয়ন জানান, 'জাতীয় পর্যায়ে বিড়ালের আধিক্যের সাথে মানুষের ব্যক্তিগত ও মানসিক সুস্থতার মেলবন্ধন দেখা গেছে।'
মেক্সিকো সিটির 'ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সাইকিয়াট্রি রামোন দে লা ফুয়েন্তে মুনিজ'-এর বিহেভিওরাল বায়োলজি ল্যাবের এই গবেষক নিজেকে একজন একনিষ্ঠ বিড়ালপ্রেমী হিসেবেও পরিচয় দেন। তবে গবেষক দলটি আরও দেখেছে, যেসব দেশে এই পরজীবীর আক্রমণের হার বেশি, সেসব দেশের মানুষ সামগ্রিকভাবে কিছুটা কম সুখী।
অবাক করার মতো বিষয় হলো, যেসব দেশে বিড়ালের সংখ্যা বেশি, সেসব দেশে আবার পরজীবীর সংক্রমণের হার তুলনামূলক কম দেখা গেছে। গবেষকদের ধারণা, এর কারণ হতে পারে ধনী বা উন্নত দেশগুলোতে মানুষ বিড়ালকে সাধারণত ঘরের ভেতরে পোষে, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত খাবার দেয় এবং পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। যার ফলে পরজীবী ছড়ানোর সুযোগ কমে যায়।
বোরাজ-লেয়ন বলেন, 'আমাদের এই ফলাফলকে বিড়ালকে ভয় পাওয়ার কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা না করার পরামর্শ দেব।' তিনি আরও জানান, 'তার নিজের পোষা বিড়াল 'হোমেরিতা' দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে তার সঙ্গী ও বন্ধু ছিল। বরং এই ফলাফলটি দায়িত্বশীলভাবে পোষা প্রাণী প্রতিপালনের গুরুত্বকেই সামনে তুলে ধরে।'
গবেষণাটির একটি সীমাবদ্ধতা হলো— লেখকরা নিশ্চিত করে বলতে পারেন না যে বিড়ালের কারণেই সুখ বেড়েছে নাকি পরজীবীর কারণেই অসুস্থতা বা অসন্তুষ্টি তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষণ করা দেশগুলোর মধ্যে ফিনল্যান্ড ছিল সবচেয়ে সুখী দেশ, যেখানে মাথাপিছু বিড়ালের সংখ্যা গড় হারের চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রেও বিড়ালের ঘনত্ব এবং মানুষের সুখের মাত্রা গড় হারের চেয়ে বেশি ছিল।
তবে গবেষকরা বলেছেন, এই গবেষণা ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে বিড়াল পুষলে সে সুখী হবে কি না তা নিশ্চিত করে না—সেটি কেবল ব্যক্তির নিজের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করে।
