দেবীদের কাছ থেকে তরবারি পেয়ে ‘ধর্মীয় আগ্রাসন’ ঠেকাতেন রাজারা—দাবি ভারতের নতুন পাঠ্যবইয়ে
সপ্তম শতাব্দী থেকে শুরু হওয়া 'ধর্মীয় আগ্রাসন' ঠেকাতে ভারতের অনেক রাজা ও রাজকুমার কালী ও দুর্গাসহ অন্য দেবীদের কাছ থেকে তরবারি পেয়েছিলেন বলে দেশটির ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের (এনসিইআরটি) নবম শ্রেণির নতুন এক সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত 'আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড-পার্ট ২' বইটির 'রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স' (প্রতিরোধ ও ঘুরে দাঁড়ানো) শীর্ষক অধ্যায়ে সপ্তম শতাব্দী থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে ধারাবাহিক আগ্রাসনের বিবরণ তুলে ধরা হয়।
পাঠ্যবইয়ের ওই অধ্যায়ে বলা হয়েছে, 'বিশ্বাস করা হয়, বাস্তারের শাসক অন্নমরাজা দেবী মাণিক্যদেবীর (দন্তেশ্বরী) কাছ থেকে তার তরবারি পেয়েছিলেন। অন্যদিকে কুমার কম্পন (বিজয়নগর) মাদুরাইয়ের সুলতানি বাহিনীর বিরুদ্ধে দেবীর দেওয়া একটি তরবারি ব্যবহার করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। একইভাবে ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, শিবাজীও দেবী তুলজা ভবানীর কাছ থেকে একটি তরবারি পেয়েছিলেন।'
বইটিতে যুদ্ধক্ষেত্রে ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং দেবী পূজার দীর্ঘদিনের রীতির বর্ণনাও রয়েছে। এর আগে গত জুন মাসে বইটির প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়।
অধ্যায়টিতে বলা হয়, সপ্তম শতাব্দী থেকে ভারতীয় উপমহাদেশ ভূখণ্ড বিস্তার ও ধর্মীয় কারণে একের পর এক বহিরাগত আগ্রাসনের শিকার হয়। এতে ভারতীয় শাসক ও বিভিন্ন জনগোষ্ঠী কীভাবে এবং কখন আরব, তুর্কি, মুঘল ও ইউরোপীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তা বিশদে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া শিখ গুরুদের ওপর মুঘলদের নৃশংসতার ঐতিহাসিক নজিরের বিষয়েও বইটিতে মন্তব্য করা হয়েছে। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই তাদের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে এনসিইআরটি প্রধান দীনেশ সাকলানি জানিয়েছেন, মাধ্যমিক স্তরে সমাজবিজ্ঞান শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করা।
তিনি বলেন, 'এই পর্যায়ে সমাজবিজ্ঞান শিক্ষা শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণ ও আলোচনার সক্ষমতা গড়ে তুলবে, সমালোচনামূলক অনুসন্ধানে উৎসাহিত করবে, বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি বোঝাপড়া বাড়াবে এবং সামাজিক ও নাগরিক জীবনে আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অংশ নিতে সক্ষম করবে।'
তিনি আরও বলেন, 'এই লক্ষ্য সামনে রেখেই মাধ্যমিক পর্যায়ের নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বই তৈরি করা হয়েছে।'
