তিরঙ্গা পদযাত্রা বাতিল করতে দিপকেকে পুলিশের নোটিশ, বন্ধ সেন্ট্রাল পার্ক
কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের ডাকা 'লেহরা দো তিরঙ্গা' কর্মসূচি ঘিরে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দিল্লি পুলিশ কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে প্রবেশের সবকটি পথ বন্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে পার্কের বাইরের এবং ভেতরের সার্কেলে সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
নয়াদিল্লি এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারার অধীনে জারি থাকা নিষেজ্ঞার কথা জানাতে দিপকের বর্তমান অবস্থানস্থলে যায় পুলিশের একটি দল। এনসিপি-এসপি মুখপাত্র আনিশ গাভান্দের বাসভবনে অবস্থানরত দিপকেকে আন্দোলন বাতিল করে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানায় পুলিশ।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ প্রদান এবং দিপকের কাছ থেকে সম্মতিপত্র নেওয়ার পর পুলিশ সদস্যরা তার অবস্থানস্থল ত্যাগ করেন।
এদিকে, নোটিশ দেওয়ার সময় দিপকে ও দিল্লি পুলিশের কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় দেখা যায়। সিজেপির সরাসরি লাইভস্ট্রিমে এমনটি দেখা গেছে। ভিডিওতে দিপকেকে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করতে দেখা যায় যে, কীভাবে জাতীয় পতাকা উন্মোচন করা বেআইনি হতে পারে। ডিপকে বলেন, 'আমরা কোনো স্পিকার বসাচ্ছি না কিংবা এটিকে প্রতিবাদ বলছি না; আমরা কেবল জাতীয় পতাকা উন্মোচন করার কথা বলছি। এখন কি সেটাও নিষিদ্ধ?'
নোটিশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও প্রশ্ন করেন, 'তিরঙ্গা কি বেআইনি?'
জবাবে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, 'এটি দেশের গৌরব।'
লেহরা দো তিরঙ্গা পদযাত্রা
দিল্লির যন্তর মন্তরের নির্ধারিত প্রতিবাদের স্থান বাতিলের পরদিন তালাবদ্ধ ফটক টপকে ভেতরে ঢোকার অভিযোগে গত মঙ্গলবার সকালে সিজেপির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। পরদিন বুধবার আদালত তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠান। সেদিনই মহারাষ্ট্র থেকে দিল্লিতে নামেন অভিজিৎ দিপকে।
সহকর্মীদের গ্রেপ্তার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা নানামুখী অভিযোগের প্রতিবাদ এবং প্রতিবাদের ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে যন্তর মন্তরের মর্যাদা ফেরানোর দাবিতে বুধবার সেন্ট্রাল পার্কে 'লেহরা দো তিরঙ্গা' পদযাত্রার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন দিপকে।
কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সেন্ট্রাল দিল্লি ও কনট প্লেস এলাকায় ৬ হাজারের বেশি অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করে দিল্লি পুলিশ। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষকে সুবিধাজনক স্থানে পদযাত্রার অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন কর্মকর্তারা।
এর আগে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির কর্মসূচির কারণে গত এক সপ্তাহ ধরেই রাজধানীতে প্রায় ২৬ হাজার কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) সদস্য মোতায়েন রয়েছে। ফলে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পুরো সেন্ট্রাল দিল্লিজুড়ে মোট নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩২ হাজারে।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবরের প্রতিবাদের দিনও কনট প্লেস, রাজীব চক, সেন্ট্রাল পার্ক, নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশন, যন্তর মন্তর ও পালিকা বাজারসহ পুরো নয়াদিল্লি জেলায় প্রায় ৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছিল।
