মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন ফাতিমা মানসুরি
সেপ্টেম্বরের সংসদ নির্বাচনে উদার-মধ্যপন্থী দল 'অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি' (পিএএম)-এর জয়লাভের পর মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ (মোহাম্মদ বিন হাসান আল-আলাউই) গত মঙ্গলবার ফাতিমা এজাহরা আল মানসুরিকে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
রাজপ্রাসাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাজা মানসুরিকে একটি নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। এল মানসুরির 'অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি' (পিএএম) ২০০৮ সালে রাজার এক উপদেষ্টার হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়।
দলটি সামাজিক আধুনিকীকরণ এবং ধর্মনিরপেক্ষ ধারার নীতি প্রচারের মাধ্যমে শুরু থেকেই ইসলামপন্থী 'জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি' (পিজেডি)-র বিপরীত এক শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি বা ভারসাম্যের প্রতীক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরেছে।
মরক্কো একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র, যেখানে পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ও ব্যাপক ক্ষমতা রাজার হাতেই সংরক্ষিত। মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে (প্রতিনিধি সভা) সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া রাজনৈতিক দল থেকেই রাজা সরকারপ্রধান নিয়োগ দিয়ে থাকেন।
বিদায়ী জোট সরকারের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল 'পিএএম' এবার শীর্ষ স্থান দখল করেছে। নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান এবং দুইবারের সরকারি বাজেট ব্যবস্থাপক ফৌজি লেকজাকে দলে ভেড়ানোর পদক্ষেপটি এই বিজয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
আইনজীবী এল মানসুরি, যিনি বিদায়ী সরকারের আবাসন মন্ত্রী এবং মারাকেশের মেয়র ছিলেন, একটি জোট সরকার গঠনের আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন এবং রাজার অনুমোদনের জন্য মন্ত্রীসভার সদস্যদের তালিকা জমা দেবেন।
'কোনো শর্ত বা বাধা নেই'
আগামী ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল পর্তুগাল ও স্পেনের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করবে মরক্কো। সেই টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তুতি প্রকল্পের শেষ ধাপ তদারকি করবে নতুন এই সরকার।
এ ছাড়া যুবসমাজের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া অসন্তোষ দূর করতে তারা বিভিন্ন অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়ন করবে। উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে স্প্যানিশ এনক্লেভ 'সেউতা' সীমান্তে হাজার হাজার যুবকের ভিড় এবং গত বছর 'জেন-জি'-দের নেতৃত্বাধীন প্রাণঘাতী বিক্ষোভের মাধ্যমে এই যুব-অসন্তোষের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
নির্বাচনে পিএএম ৯৭টি আসন পেয়ে বিজয় অর্জন করেছে। উদার-মধ্যপন্থী ন্যাশনাল র্যালি অব ইনডিপেনডেন্টস (আরএনআই) পেয়েছে ৬৬টি আসন এবং রক্ষণশীল জাতীয়তাবাদী দল 'ইস্তিকলাল' পেয়েছে ৬৫টি আসন।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় পিএএম আরএনআই-এর সাথে নতুন জোটে না থাকার বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিল। খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে লাগাম টানতে ব্যর্থ হওয়াসহ নানা নীতিগত ঘাটতি নিয়ে দল দুটি একে অপরের ওপর দোষারোপ করেছিল।
তবে বৃহস্পতিবার এল মানসুরি জানান, জোট গঠনের আলোচনার ক্ষেত্রে কোনো "কঠোর শর্ত বা বাধা" থাকবে না। তিনি বলেন, 'আমরা পেছনের অধ্যায় মুছে ফেলে সামনে এগিয়েছি।'
সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং ৫৪টি আসনে জয়ী দল পিজেডি-র নেতা আবদেলইলাহ বেনকিরান জানিয়েছেন, তার দল বিরোধী দল হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবে।
পাশাপাশি তিনটি বামপন্থী দল তুলনামূলক কম সংখ্যক আসন লাভ করেছে।
জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থার সূচক হিসেবে নজর রাখা ভোটার উপস্থিতির হার এবার নেমে এসেছে প্রায় ৩৮ শতাংশে, যা পাঁচ বছর আগের গত নির্বাচনে ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ। উল্লেখ্য, ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ওই নির্বাচনে মধ্যপন্থী ইসলামপন্থী দল পিজেডি বড় ধরণের পরাজয়ের সম্মুখীন হয়।
রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ একজন নারী উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়েছেন এবং মরক্কোর বেশ কিছু শীর্ষ প্রাতিষ্ঠানিক পদে নারীদের দেখা গেছে। বিদায়ী সরকারেও চারজন নারী মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
