সৌদি আরবের এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি হুথিদের
সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। একই সঙ্গে বিমানটির পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের কিছু ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে তারা।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও সৌদি আরবের গণমাধ্যম মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। তবে ঘটনার বিষয়ে অবগত দুইজন ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন, সৌদির একটি বিমান ভূপাতিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালির একটি দ্বীপসহ বেশ কিছু ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর ফলে লোহিত সাগরে সৌদি তেলের চালান চলাচলে বাধা সৃষ্টির সক্ষমতা বেড়েছে তাদের। এর পাশাপাশি হুথি এবং ইরাকের ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনী সৌদির তেল স্থাপনাতেও আঘাত হেনেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালির একটি দ্বীপসহ বেশ কিছু এলাকা দখল করেছে। এতে লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের তেল পরিবহনে বাধা দেওয়ার সক্ষমতা আরও বেড়েছে তাদের। এ ছাড়া হুথি এবং ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সৌদি আরবের তেল উৎপাদন স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে।
হুথিরা যদি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে থাকে, তাহলে এটি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এক দশক ধরে চলা সংঘাতে এখন পর্যন্ত সৌদি আরব অনেকটাই নির্বিঘ্নে ইয়েমেনজুড়ে বিমান হামলা চালাতে পেরেছে।
হুথিদের সামরিক গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, ইয়েমেনের তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ মারিব এলাকায় বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহীরা এলাকাটি দখলের চেষ্টা করে আসছে। হুথিরা দাবি করেছে, স্থানীয়ভাবে তৈরি একটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তারা যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করেছে।
প্রকাশিত ভিডিওতে মরুভূমির একটি অংশ পুড়ে কালো হয়ে যেতে দেখা যায়। সেখানে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ডানা ও ইঞ্জিনের মতো দেখতে কিছু ধ্বংসাবশেষও দেখা গেছে। কয়েকটি দৃশ্যে বিমানের লেজের একটি অংশে সৌদি আরবের জাতীয় পতাকা দেখা যায়।
দাবিটি নিশ্চিত হলে, এক দশক ধরে চলা যুদ্ধে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের প্রথম এফ-১৫ হারানোর ঘটনা হবে এটি। এর আগে আরও কয়েকটি বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুথিরা। তবে সৌদি আরব বলেছে, সেগুলো কারিগরি ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছিল।
ইয়েমেনে ২০২২ সাল থেকে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চলছে। হুথিরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সৌদি-সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। সৌদি আরব এখনো সরকারি কর্মীদের বেতন দেয়, যার মধ্যে হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকার কর্মীরাও রয়েছেন।
ইরান-সমর্থিত হুথিরা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। গাজায় যুদ্ধবিরতির আগে হুথিরা ১০০টির বেশি জাহাজে হামলা এবং ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময় গত বছর এবং চলতি বছর হুথিরা সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। তবে এখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে তারা আবার হামলা শুরু করেছে। পারস্য উপসাগরের এই সরু প্রবেশপথ দিয়ে অতীতে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহেরর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো।
