সৌদি আরামকোর তেল শোধনাগারে নতুন করে হামলা
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা আরামকোর জিজান তেল শোধনাগারে সোমবার হামলা চালানো হয়েছে। গত মাসে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথিদের হামলার ঠিক এক মাসের মাথায় এই ঘটনা ঘটলো, যদিও এ হামলার দায় এখনো স্বীকার করেনি কোনো গোষ্ঠী।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাতে জানা গেছে, পূর্ববর্তী হামলার কারণে আরামকোর উৎপাদন সক্ষমতা সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার পর, তারা উৎপাদন স্থাপনায় এই সাম্প্রতিক হামলার ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করছে। নতুন এই ঘটনার মাত্রা ছিল আগের হামলার মতোই।
জিজান হলো ইয়েমেন সীমান্তের নিকটবর্তী সৌদি আরবের একটি শিল্প নগরী, যা ইতোপূর্বেও বেশ কয়েকবার হুতিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। সেখানকার শোধনাগারটি দৈনিক সর্বোচ্চ ৪ লাখ ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য নকশা করা, যা এটিকে সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ শোধনাগারে পরিণত করেছে। এখানে পেট্রোলিয়াম, আল্ট্রা-লো-সালফার ডিজেল এবং অন্যান্য পরিশোধিত পণ্য উৎপাদিত হয়।
লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত হওয়ায় কৌশলগতভাবে এই স্থাপনাটি সৌদি পরিশোধিত পণ্য রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। 'কেপলার'-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৫ জুলাইয়ের হামলার ফলে শোধনাগারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে জিজান থেকে জুলাই মাসে দৈনিক প্রায় ২ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত পণ্য পরিবাহিত হয়েছে। ২৪ জুলাই দুটি ট্যাঙ্কার জাহাজ বন্দর ত্যাগ করার পর জলপথে আর কোনো পণ্য বোঝাইয়ের রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছে। ২০২২ সাল থেকে বড় ধরনের লড়াই বন্ধ রাখা এক যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা জুলাই মাসে রিয়াদের বিরুদ্ধে নতুন করে এই অঞ্চলে লড়াইয়ের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
ইয়েমেনে তীব্র হচ্ছে লড়াই
২০ জুলাই হুথিরা সৌদি বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে একটি সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে এবং সৌদি-সংযুক্ত জাহাজ, জ্বালানি অবকাঠামো ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশের নৌপথগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে শুরু করে। হুথিরা লোহিত সাগর উপকূলে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় ফ্রন্টে একটি সামরিক হামলা চালিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন মোখা বন্দর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী এলাকাগুলোর দিকে এগিয়ে যায়।
সাম্প্রতিক এই হামলা তারই ধারাবাহিকতা। ইয়েমেনি সংবাদমাধ্যম মোখা ও তাইজের আশপাশে সংঘর্ষের কথা জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি সামরিক সূত্রের বরাতে জানায়, শনিবার দুপুর থেকে রোববার ভোরের মধ্যে সেখানে লড়াইয়ে ১৪০ জনেরও বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৮৪ জন সরকারি সেনা ও ৫৭ জন হুথি যোদ্ধা রয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয়ের (ইউএন ওসিএইচএ) মতে, এই সংঘাত বৃদ্ধির ফলে মাত্র দুই দিনে প্রায় ১,৮০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে, অন্যদিকে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী উপকূলের দিকে হুথিদের অগ্রযাত্রা রুখতে চেষ্টা করছে।
