ইসরায়েলকে খামেনির জানাজায় বোমা মারার উসকানি দিলেন কট্টর ট্রাম্প সমর্থক লরা লুমার
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় ইসরায়েলকে বোমা হামলা চালানোর উসকানি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক এবং ডানপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট লরা লুমার। এই জানাজাকে তিনি একটি 'লক্ষ্যবস্তু সমৃদ্ধ পরিবেশ' (টার্গেট রিচ এনভায়রনমেন্ট) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
লরা লুমার দীর্ঘদিন ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। এর আগে ইরান সরকারের সঙ্গে সব ধরনের আলোচনা বা সমঝোতার বিরোধিতা করেছিলেন তিনি।
জানাজার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে খামেনির মরদেহ বর্তমানে হিমাগারে রাখা হয়েছে। এই খবরটি শেয়ার করে লুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, 'খামেনির জানাজা? একেই আমরা বলি টার্গেট রিচ এনভায়রনমেন্ট।' এরপর তিনি একটি বোমার ইমোজি যোগ করেন।
অন্য এক পোস্টে তিনি সরাসরি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) ট্যাগ করে লেখেন, 'সবচেয়ে মজার কাজটি করার সুযোগ এখন আইডিএফের সামনে রয়েছে।'
খামেনির জানাজায় হামলার প্রস্তাবের সমালোচনা করা এক মন্তব্যের জবাবে লুমার লেখেন, 'যুক্তরাষ্ট্র বা আইডিএফ একদল জিহাদির ওপর বোমা ফেলছে—এমন সুযোগে আমি কখনোই না বলবো না।'
লরা লুমার দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামের কঠোর সমালোচক এবং তিনি মুসলিমদের 'জিহাদি' বলে অভিহিত করে আসছেন। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনে যেকোনো ধরনের সমঝোতার ঘোর বিরোধী তিনি।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ইলহান ওমর ট্রাম্পকে অভিশংসনের প্রস্তাব দেওয়ায় লুমার তার তীব্র সমালোচনা করেন। এছাড়া রক্ষণশীল ভাষ্যকার টাকার কার্লসন ইসলামের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের কথা জানানোয় লুমার তারও সমালোচনা করেন।
খামেনির ঐতিহাসিক জানাজা
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, খামেনির জানাজা আগামী ৪ জুলাই তেহরানে শুরু হবে এবং ৯ জুলাই নিজ শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তার মেয়ে, জামাতা ও এক নাতিও নিহত হয়েছিলেন। বর্তমানে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করছেন।
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মহররমের শোক পালনের সুযোগ দিতে খামেনির দাফন প্রক্রিয়া ১০০ দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তেহরান কর্তৃপক্ষের ধারণা, দেশব্যাপী আয়োজিত এই জানাজায় অন্তত ২ কোটি মানুষ অংশ নেবেন।
