বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের বিপক্ষে মেক্সিকোর জয়: ভক্তদের উল্লাসে সৃষ্টি হলো ‘ভূমিকম্প’
বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচে মেক্সিকোর দুটি গোলের পর ভক্তদের গণ-লাফালাফিতে আশপাশের অঞ্চলে 'উল্লেখযোগ্য' কম্পন সৃষ্টি হয়েছে। সিসমোলজিস্টরা জানিয়েছেন, সমর্থকদের সম্মিলিত উল্লাসের ফলে এই কম্পন অনুভূত হয়।
মেক্সিকোর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ফর আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কম্প্রিহেনসিভ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট (সাসলা) জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচে গোল হওয়ার পর ভক্তদের উল্লাস ও চিৎকার ওই এলাকায় কম্পন তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ সংস্থাটি লিখেছে, জুলিয়ান কুইনোনেস এবং রাউল হিমেনেজের গোলের সময় বেশ কিছু সিসমোগ্রাফে এই কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।
ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে মেক্সিকো বিশ্বকাপের শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে। এই জয়ের পর মেক্সিকো সিটির রাস্তায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ উৎসবে মেতে ওঠে। এ সময় ভিড়ের চাপে তিনজনের মৃত্যু হয়।
সিসমোলজিস্টদের মতে, এটি মূলত 'মানুষের প্ররোচিত ভূমিকম্প'। সাধারণত বিশাল বহুতল ভবন নির্মাণ, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন কিংবা ফ্র্যাকিং-এর মতো কাজ থেকে এমন কম্পন তৈরি হয়। এর আগে বড় কোনো খেলা কিংবা ২০২৩ সালে টেলর সুইফটের কনসার্টের মতো বড় আয়োজনেও এমন ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম 'সিসমো অ্যালার্ট মেক্সিকানা' জানিয়েছে, এটি কোনো প্রাকৃতিক ভূমিকম্প নয়। বিপুল সংখ্যক মানুষ একই সাথে লাফিয়ে ওঠার পর মাটিতে পড়ার ফলে যে ক্ষণস্থায়ী তরঙ্গ তৈরি হয়েছে, তা থেকেই এই কম্পন সৃষ্টি হয়।
সংস্থাটি আরও জানায়, সিসমোগ্রাফের কাছে কেউ হাঁটলেও তা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। সেখানে অনেক মানুষ একসাথে লাফ দিলে সেটি শনাক্ত করা আরও সহজ। এই যন্ত্রগুলো বিশ্বের অন্য প্রান্তের ভূমিকম্পও শনাক্ত করতে পারে, তাই এদের সংবেদনশীলতা অত্যন্ত বেশি।
২০২৪ সালে 'সিসমোলজিক্যাল রিসার্চ লেটারস' সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, বড় আয়োজনে এমন এক ধরনের কম্পন সংকেত তৈরি হয় যা প্রাকৃতিক কম্পনের মতোই। যেমন, ২০২৩ সালে টেলর সুইফটের এক কনসার্টে ৭০ হাজার ভক্তের উল্লাসের ফলে সৃষ্ট শক্তিশালী কম্পন স্টেডিয়ামের ৯ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা নেটওয়ার্ক স্টেশনগুলোতে ধরা পড়েছিল। বিজ্ঞানীরা একে মূলত সংগীতের তালে ভক্তদের নড়াচড়ার প্রভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
গবেষকরা আশা করছেন, এই ধরনের কৃত্রিম কম্পন থেকে প্রাপ্ত তথ্য উন্নত মানের সিসমোগ্রাফ তৈরিতে সাহায্য করবে। এটি ভূগর্ভস্থ গঠন বুঝতে এবং কম্পন সহনশীল ভবন ও অডিটোরিয়াম নির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
