রেকর্ড তাপমাত্রায় পুড়ছে জার্মানি, বিপর্যস্ত জনজীবন
জার্মানি ও ইতালিতে তীব্র গরমে হাসফাঁস করছে মানুষ। পশ্চিম ইউরোপে যে তাপপ্রবাহে ইতোমধ্যে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, সেটি এবার পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক জায়গায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
ব্রিটেন, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও জার্মানিতে চলতি মাসে যে গরম পড়েছে, তা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এই তাপপ্রবাহ এখন জার্মানি পেরিয়ে পোল্যান্ডের দিকে যাচ্ছে। এর ফলে সেখানকার তাপমাত্রাও আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই সপ্তাহে রাতের বেলা এত বেশি গরম পড়ার সম্ভাবনা ২০ বছর আগের তুলনায় এখন ১০০ গুণ বেশি।
আবহাওয়াবিদ কার্স্টেন ব্রান্ট বলেন, "সপ্তাহান্তে জার্মানির কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ সবচেয়ে বেশি হবে। আর তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির অনেক ওপরে উঠতে পারে।"
জার্মানির জাতীয় আবহাওয়া অফিসের এক মুখপাত্র জানান, শুক্রবার ফ্রান্স সীমান্তের কাছে সারব্রুকেন শহরের আশপাশে ৪১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
আজ শনিবার প্রায় পুরো জার্মানিতেই তীব্র গরমের সতর্কতা জারি করা হয়। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, দেশের বেশিরভাগ এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে। কোথাও কোথাও তা ৪২ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে।
ফ্রান্সে এই তাপপ্রবাহে শিশু থেকে বয়স্ক অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ৪০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রার কারণে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা দেখা দিয়েছে ও স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে।
ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শনিবার ও রবিবারের জন্য মিলান, রোম, তুরিন, ভেনিস, জেনোয়া, ফ্লোরেন্স ও বোলোনিয়াসহ ১৮টি শহরে সর্বোচ্চ মাত্রার (রেড অ্যালার্ট) তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করেছে।
ইতালির আল্পস অঞ্চলের বোলজানো শহরে শুক্রবার ছিল জুন মাসের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ রাত। শহরের আবহাওয়াবিদ ডিটার পিটারলিন জানান, রাতভর তাপমাত্রা ২৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামেনি।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে কমলেও স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ এখনও থাকবে। আগামী কয়েক দিন হাসপাতালে রোগী ভর্তি হওয়ার সংখ্যাও বেশি থাকবে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তীব্র গরমের কারণে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার ফ্রান্সে দাবানলের ঘটনা বেড়েছে।
রয়টার্স ক্লাইমেট মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, 'ওমেগা ব্লক' নামের এক বিরল আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে ইউরোপজুড়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৩২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত বেড়ে গেছে। গ্রিক বর্ণ 'ওমেগা'-এর মতো আকৃতির এই ব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র গরম আটকে থাকে এবং এর প্রান্তে অপেক্ষাকৃত শীতল আবহাওয়া বিরাজ করে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহান্তের পর সবচেয়ে তীব্র গরম কমতে শুরু করবে। তবে রোববার ভারী বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
