ইরান যুদ্ধে এক মাসে দু’বার বিধ্বস্ত হয় তার যুদ্ধবিমান, দু’বারই বেঁচে ফেরেন এই মার্কিন পাইলট
যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের ভাগ্য কতটা বৈচিত্র্যময় হতে পারে, তার এক অনন্য ও অবিশ্বাস্য উদাহরণ তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর এক পাইলট। চলমান ইরান যুদ্ধে মাত্র ৩০ দিনের ব্যবধানে দুবার তাঁর যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে এবং দুবারই তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
যুদ্ধের শুরুর দিকে কুয়েতের আকাশসীমায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত 'ফ্রেন্ডলি ফায়ার' বা নিজেদের বাহিনীর ভুল বোঝাবুঝির শিকার হন এই পাইলট। সে সময় কুয়েতি বিমানবাহিনীর একটি ফাইটার জেট ভুলবশত যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি 'এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল' যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে ভূপাতিত করে। ওই ঘটনায় বিমানের ছয়জন ক্রু সদস্যের মধ্যে এই পাইলটও ছিলেন, যিনি সে সময় প্যারাশুট দিয়ে নিরাপদে মাটিতে নেমে আসতে সক্ষম হন। জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিবেদক শন নেলর প্রথম তাঁর 'দ্য হাই সাইড' সাবস্ট্যাকে এই খবরটি প্রকাশ করেন।
কুয়েতের সেই ঘটনার মাত্র ৩০ দিন পর, ৩ এপ্রিল এই পাইলট আবারও একটি এফ-১৫ই বিমান নিয়ে ইরানের আকাশে মিশন পরিচালনা করছিলেন। ওই সময় আকাশ থেকে ছোঁড়া ইরানের একটি সারফেস-টু-এয়ার (ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য) ক্ষেপণাস্ত্র তার বিমানে আঘাত হানে। ফলে দ্বিতীয়বারের মতো তিনি বিমান থেকে প্যারাশুটের সাহায্যে লাফিয়ে পড়তে বাধ্য হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, তাঁর সঙ্গী 'ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার'কে উদ্ধার করতে দুই দিন সময় লেগেছিল; যিনি জাগ্রোস পর্বতমালার পাদদেশে শত্রুদের চোখ ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে ছিলেন।
উদ্ধার অভিযানের পর হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন জয়েন্ট চিফসের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন তাঁদের প্রশংসায় বলেছিলেন, 'শত্রুভাবাপন্ন এলাকায় অবরুদ্ধ থাকার সময় পাইলট এবং ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন এবং শত্রুদের এড়িয়ে গেছেন, তা কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন করা যায় না।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'তাদের সাহসিকতা ও যুদ্ধক্ষেত্রে টিকে থাকার মানসিকতা আমাদের উদ্ধার বাহিনীর ওপর তাদের আস্থারই প্রতিফলন, পাশাপাশি তাদের প্রশিক্ষণ ও বেঁচে ফেরার ইচ্ছাশক্তির ফল।'
এই ঘটনাটি নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
মার্কিন বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডেভিড ডেপটুলা (যিনি ১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে আকাশ অভিযানের প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন) সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর একই সামরিক অভিযানে কোনো পাইলট দুবার বিমান বিধ্বস্তের পরও বেঁচে ফিরেছেন—এমন ঘটনা তার জানা নেই।
ডেপটুলা বলেন, 'এটি অত্যন্ত বিরল একটি কাকতালীয় ঘটনা।' পুরো বিষয়টিকে প্রকৃতির এক বিস্ময় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন, 'এটি যেন একই মানুষের ওপর দুবার বজ্রপাত পড়ার মতো।'
