হরমুজ প্রণালি নয়, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত: রুবিও
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচক দল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরানকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কোনো প্রস্তাব দেয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি কেবল তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগের সঙ্গে জড়িত।
ইরান সংঘাত নিয়ে মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে আইনপ্রণেতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে রুবিও এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, 'বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যা কিছু আলোচনা হচ্ছে, সেখানে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি সম্পূর্ণ শর্তসাপেক্ষ। অর্থাৎ, যে কারণে প্রথমে এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, সেই বিষয়েই অগ্রগতি হতে হবে। আর সেই কারণ হলো তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি।'
ইরান ইস্যুতে আয়োজিত দুটি শুনানির মধ্যে এটি ছিল প্রথম। সেখানে মার্কো রুবিওকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়।
যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে মার্কো রুবিও বলেন, ইরান কেবল তখনই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পেতে পারে, যদি তারা তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পরিত্যাগ করতে রাজি হয়।
তিনি বলেন, 'ইরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদনের কারণে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। তাদের পারমাণবিক কার্যক্রমের কারণেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। যদি তারা এসব কার্যক্রম বন্ধ করতে সম্মত হয়, তাহলে সেই অঙ্গীকার ও চুক্তি মেনে চলার ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে।'
পরবর্তীতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বরাদ্দ–সংক্রান্ত একটি শুনানিতেও হাজির হন মার্কো রুবিও। এছাড়া বুধবার আরও দুটি শুনানিতে তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও উদ্বেগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করা রুবিও ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ছিলেন। আইনপ্রণেতারা আশা প্রকাশ করেন, তাদের সাবেক সহকর্মী ইরান সংঘাতের অবসান ঘটানোর একটি সুস্পষ্ট কৌশল তুলে ধরবেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি এই সংঘাতের সূচনা হয়েছিল।
শুনানির একপর্যায়ে নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট সিনেটর কোরি বুকারের সঙ্গে তর্কের সময় রুবিও বলেন, 'যুদ্ধ শেষ।' তবে বুকার তার এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হননি।
যুদ্ধ শেষ করতে কি কোনো সমঝোতা হবে?
ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, যদি এই যুদ্ধ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে পারে, তাহলে এর মূল্য সার্থক হবে। তিনি আরও বলেছেন, জ্বালানির দাম কমবে এবং শিগগিরই সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি ভালো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।
ইরান এমন একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি চায়, যাতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মাধ্যমে তারা তেল বিক্রির আয় থেকে কয়েকশ কোটি ডলারে প্রবেশাধিকার পায়। তবে আলোচনা চললেও ওয়াশিংটন ইরান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ অব্যাহত রেখেছে।
এ ধরনের কোনো চুক্তি কবে হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি রুবিও। তবে তিনি দাবি করেন, ইরান তার প্রচলিত অস্ত্রশক্তিকে পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য একটি 'ঢাল' হিসেবে গড়ে তুলছিল।
রুবিও বলেন, 'তারা মূলত একটি প্রচলিত সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে তার আড়ালে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে রক্ষা করতে চেয়েছিল।' তার মতে, এ কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ শুরু করাকে জরুরি মনে করেছিল।
তিনি আরও জানান, যুদ্ধের প্রথম দিন নিহত বাবার (আয়াতুল্লাহ খামেনি) স্থলাভিষিক্ত হয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হওয়া আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি কোনো না কোনো পর্যায়ে আলোচনায় ক্রমশ বেশি সম্পৃক্ত হচ্ছেন—এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
