Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Thursday
June 18, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
THURSDAY, JUNE 18, 2026
ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ চেয়েছিলেন ট্রাম্প; উল্টো নিজেই পেয়ে গেলেন ‘সারপ্রাইজ’

আন্তর্জাতিক

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
18 June, 2026, 11:55 am
Last modified: 18 June, 2026, 11:56 am

Related News

  • ইরান এখন চাইলেই যেকোনো সময় হরমুজ বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে: মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন
  • ট্রাম্পের ইরান চুক্তিতে ক্ষোভে ফুঁসছেন নেতানিয়াহু; চটেছেন মিত্ররাও, করছেন ব্যক্তিগত আক্রমণ
  • যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভিয়েতনামের চেয়েও বড় পরাজয় ইরান
  • ইরানের মিনাবে বালিকা বিদ্যালয়ে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ’ হামলা করেনি: ট্রাম্প
  • চুক্তির খসড়া প্রকাশ: ৩০০ বিলিয়নের তহবিল, নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ বড় ছাড় পাচ্ছে ইরান

ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ চেয়েছিলেন ট্রাম্প; উল্টো নিজেই পেয়ে গেলেন ‘সারপ্রাইজ’

চুক্তিটি দেখে মনে হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে ইরান শুধু টিকেই যায়নি, বরং তাদের উদযাপন করার মতো অনেক কিছুই আছে।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
18 June, 2026, 11:55 am
Last modified: 18 June, 2026, 11:56 am
ইরানের রাজধানী তেহরানে ট্রাম্প ও হরমুজ প্রণালির ছবি সংবলিত বিলবোর্ড। ছবি: রয়টার্স

মাত্র ১৫ সপ্তাহ আগের কথা। ইরান যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, তা নিয়ে বড়াই করার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, 'নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না।'

কিন্তু দুই দেশের মধ্যে হওয়া এই চুক্তিকে মোটেও কোনো আত্মসমর্পণের নথির মতো মনে হয়নি। প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বুধবার চুক্তিটির প্রতিটি অনুচ্ছেদ পড়ে শোনান এবং সব কটির পক্ষেই সাফাই গান। চুক্তিটি দেখে মনে হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে ইরান শুধু টিকেই যায়নি, বরং তাদের উদযাপন করার মতো অনেক কিছুই আছে।

ইরানের লাভ আর আমেরিকার ছাড়

এই চুক্তির ফলে ইরান আবারও কোটি কোটি ডলারের তেল বিক্রির সুযোগ পাবে, যা ধুঁকতে থাকা তেহরান প্রশাসনের ওপর থেকে বড় ধরনের চাপ কমাবে। 

অন্যদিকে, সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ভাষা দেখে মনে হচ্ছে, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ওপর সার্বভৌমত্ব প্রয়োগের জন্য ইরান হয়তো কোনো স্থায়ী চুক্তিতেও পৌঁছাতে পারে। অথচ মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, যুদ্ধের আগে যেমন অবাধে জাহাজ চলত, তার বাইরে অন্য কোনো শর্ত 'অগ্রহণযোগ্য'। 

বুধবার সন্ধ্যায় ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং ট্রাম্পের সই করা এই সমঝোতা স্মারকে এমন একটি পথের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে ইরান বছরের পর বছর ধরে আটকে থাকা তাদের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফিরে পেতে পারে।

ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, এই অর্থ কেবল 'ভালো আচরণের' শর্তেই ছাড়া হবে। কিন্তু ১১ বছর আগে বারাক ওবামাও ঠিক একই ছাড় দিয়েছিলেন, যার জন্য ট্রাম্প আজীবন তার কড়া সমালোচনা করে আসছেন।

ট্রাম্পের লক্ষ্য বনাম অর্জন

ট্রাম্প প্রায়ই সাংবাদিকদের বেশ রাগান্বিত হয়েই মনে করিয়ে দেন যে যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বড় বড় অর্জন রয়েছে। মার্কিন বাহিনী ইরানের সাধারণ মানের নৌবাহিনীকে ডুবিয়ে দিয়েছে, তাদের ছোট বিমানবাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করেছে, প্রতিরক্ষা শিল্প কাঠামোর বিশাল অংশ ধ্বংস করেছে এবং অনেক ক্ষেপণাস্ত্রঘাঁটি ও মোবাইল লঞ্চার গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

কিন্তু এসব ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য ছিল না। প্রচারণার শুরুতে তিনি বলেছিলেন, তার লক্ষ্য—ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করা, শাসনামলের পতন ঘটানো এবং পরে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের তেলশিল্পের ওপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই চুক্তির খুঁটিনাটি নিয়ে কাঁটাছেঁড়া শুরু হবে। ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির কট্টরপন্থীরা ইতিমধ্যে আপত্তি জানাতে শুরু করেছেন। ইসরায়েলকেও এই আলোচনা থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। এখন তাদের ভয়, ট্রাম্প তাদের হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করবেন, যা ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নির্মূল করার ইসরায়েলি পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে হাজার হাজার কোটি ডলার খরচ করেছে। ১৩ জন মার্কিন সেনা এবং ৩ হাজারের বেশি ইরানি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই সংঘাত থেকে কী শিক্ষা পাওয়া গেল, তা নিয়ে ইতিহাসবিদরা হয়তো আগামী বছরগুলোয় তর্ক করবেন।

কেন তড়িঘড়ি করে যুদ্ধ শেষ করতে চাইলেন ট্রাম্প?

কেন এত দ্রুত এই যুদ্ধ শেষ করতে হলো, তার সবচেয়ে বাস্তব ও স্পষ্ট উত্তর হয়তো ট্রাম্প নিজেই দিয়েছেন। বুধবার ফ্রান্সে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি হার্বার্ট হুভারের মতো হতে চাননি।

আমেরিকার ৩১তম প্রেসিডেন্ট হুভার সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, 'আমি কখনোই তার মতো হতে চাইনি। তিনি এমন এক প্রেসিডেন্ট ছিলেন, যার সময়ে গ্রেট ডিপ্রেশন শুরু হয়। আমি কোনো অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখতে চাইনি।' 

পরে তিনি এ-ও উল্লেখ করেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে বিশ্বে তেলের মজুত ফুরিয়ে যেতে শুরু করত।

ঠিক এই অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং তেলের বাজারে সংকট তৈরি করাটাকেই ইরানিরা যুদ্ধের শুরু থেকে নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে দেখেছিল। তারা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই কৌশল কাজে লাগিয়েছে—হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা, হোটেল ও বিমানঘাঁটিগুলোতে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথাতেই প্রমাণ হলো যে ইরানের এই কৌশল দারুণ কাজে লেগেছে।

পরবর্তী ধাপে কী করবে ইরান?

এটি যদি ইরানের কৌশলের প্রথম ধাপ হয়, তবে ইতিহাস বলছে দ্বিতীয় ধাপে তারা হয়তো শুধু সময়ক্ষেপণের পথ ধরবে। আগের আলোচনাগুলোতে ইরানিরা প্রতিটি অনুচ্ছেদ নিয়ে দর-কষাকষি করা, পরিদর্শনের ক্ষেত্রে নতুন বাধা তৈরি করা বা 'পারমাণবিক গবেষণা'র নতুন সংজ্ঞা দিয়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার শিল্প নিখুঁতভাবে রপ্ত করেছিল। সাবেক মার্কিন আলোচকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির চেয়ে দক্ষ খুব কম মানুষই আছেন।

অন্যদিকে, যুদ্ধ থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে চাওয়া ট্রাম্প হয়তো একটি দীর্ঘ ও ধীরগতির প্রক্রিয়ার পথই তৈরি করে দিচ্ছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক জ্বালানি (যা এখন গত বছরের মার্কিন বিমান হামলার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে) দেশ থেকে বের করার বিষয়ে তিনি খুব একটা চিন্তিত নন। বুধবার তিনি এ-ও স্বীকার করেন যে এই আলোচনা সম্ভবত নির্ধারিত ৬০ দিনের চেয়েও বেশি সময় নেবে।

ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত আরও কিছু অর্জনের দাবি করতে পারবেন কি না, তা বলার সময় এখনো আসেনি। যদি আলোচনার পরবর্তী ধাপে তিনি ইরানিদের তাদের পারমাণবিক জ্বালানির মজুত দেশের বাইরে পাঠাতে বাধ্য করতে পারেন (যেমনটা প্রেসিডেন্ট ওবামা ২০১৫ সালে করেছিলেন) এবং প্রায় দুই দশকের জন্য সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে পারেন (যা ওবামা পারেননি), তবেই তিনি দীর্ঘমেয়াদি কোনো বিজয়ের দাবি করতে পারবেন।

যুদ্ধ যদি শেষ পর্যন্ত ইরানের নেতৃত্বকে দুর্বল করে দেয় এবং দেশটিতে বিক্ষোভ ও অভ্যুত্থানের জন্ম দেয়, তবে ট্রাম্প কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন। সংঘাতের শুরুতে তিনি ঠিক এমনটাই আহ্বান জানিয়েছিলেন।

কিন্তু আপাতত মনে হচ্ছে ঠিক উল্টো ঘটনাই ঘটছে। বলা যায়, ট্রাম্প উল্টো ইরানের নতুন নেতৃত্বকেই শক্তিশালী করেছেন। যুদ্ধ শুরুর প্রথম হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, তার ছেলে আহত ও লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা মোজতবা খামেনি এখন দৃশ্যত নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রশাসন চালাচ্ছেন।

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি), যারা বছরের পর বছর পারমাণবিক কর্মসূচির তদারকি করে আসছে, তারাই এখনও শক্ত হাতে এটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে বলে মনে হচ্ছে। তবে কয়েক দিন আগে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের যুক্তি দিয়েছিলেন যে এই শান্তি চুক্তির মাধ্যমে ট্রাম্প আইআরজিসিকে এখন দেশ চালানোর কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।

ওবামা আমলের কর্মকর্তাদের ক্ষোভ ও সমালোচনা

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সীমাবদ্ধতা এবং ত্রুটি নিয়ে ট্রাম্প বছরের পর বছর ধরে সমালোচনা করে আসছিলেন। ওবামা প্রশাসনের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এখন ট্রাম্পের সেই সমালোচনার জবাব দেওয়ার মোক্ষম সুযোগ পেয়েছেন।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বুধবার অনলাইনে লিখেছেন, 'যুদ্ধবিরতির একমাত্র "অর্জন" হলো সম্ভবত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া—যা যুদ্ধ শুরুর আগেও খোলাই ছিল। আর এখন মনে হচ্ছে, এই প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে আমরা ইরানকে তাদের অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতে ছাড় দিয়ে উল্টো তাদেরই টাকা দেব। ইরান এখন প্রমাণ করে দিয়েছে যে তারা তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ আটকে দেওয়ার বা ধীর করার ক্ষমতা রাখে, যার ওপর বিশ্বের একটি বড় অংশ নির্ভরশীল।'

২০১৫ সালের চুক্তির অন্যতম রূপকার ব্লিঙ্কেন বলেন, 'সামনের দিনগুলোতে ইরান নিশ্চিতভাবেই নিরাপদ পারাপারের জন্য ফি আদায়ের নতুন নতুন উপায় খুঁজে বের করবে, যা তাদের শাসনব্যবস্থাকে আরও পাকাপোক্ত করতে সাহায্য করবে।'

ট্রাম্পের দলেই অসন্তোষ

কিছু রিপাবলিকান হয়তো সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে ট্রাম্পের 'আলোচনার মাধ্যমে শান্তি' (পিস-থ্রু-নেগোসিয়েশন) কৌশল শেষ পর্যন্ত কাজে আসতে পারে। কিন্তু ইরানবিরোধী কট্টরপন্থী এবং ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির অনেক সমর্থকই এই চুক্তিকে সমর্থন করতে পারছেন না।

গত মাসে ট্রাম্পের বিরোধিতার কারণে প্রাইমারি নির্বাচনে হেরে যাওয়া লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, 'রোনাল্ড রিগ্যান হয়তো কবরে বসেও ছটফট করছেন।'

তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা একটুও 'কমানো যায়নি'। উল্টো এই যুদ্ধ ইরানিদের শিখিয়ে দিয়েছে যে হরমুজ প্রণালি এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর তাদের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ক্যাসিডি এই যুদ্ধকে 'কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতির ভুল' বলে আখ্যা দিয়েছেন।

উত্তর কোরিয়ার পথে হাঁটবে ইরান?

তবে এর চেয়েও বড় ঝুঁকি হয়তো অন্য জায়গায়। যখন ইরানের নেতারা ৪০ দিনের বোমাবর্ষণের ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে শুরু করবেন এবং শীঘ্রই আসতে থাকা শত শত কোটি ডলারের তেলের রাজস্ব কীভাবে খরচ করবেন তা নিয়ে ভাববেন, তখন তারা হয়তো নিজেদের আগের পারমাণবিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির খুব কাছাকাছি গিয়েও কখনো সেই সীমা অতিক্রম করেনি। তাদের ধারণা ছিল, বোমা তৈরির 'দোরগোড়ায়' (থ্রেশহোল্ড) থাকার ক্ষমতাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আক্রমণ থেকে বিরত রাখতে যথেষ্ট। এই কৌশলের কারণে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে (এনপিটি) থাকতে পেরেছে এবং দাবি করতে পেরেছে যে তাদের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। অথচ তারা ভালো করেই জানত যে চাইলে কয়েক মাসের মধ্যেই তারা একটি অস্ত্র তৈরি করে ফেলতে পারবে। কিন্তু এই কৌশলের পরিণতি হলো—২০২৫ সালের জুনে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা হলো।

এর ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে। তারা বোমা বানানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এবং ২০০৬ সালে তাদের প্রথম সফল পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমানে তাদের হাতে ৬০ বা তার বেশি পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত রয়েছে। পারমাণবিক বিশ্লেষকদের নজর এড়ায়নি যে, ইদানীং ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে কোনো ধরনের হুমকি দিচ্ছেন না।

রোববার ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে ইরান এখন উত্তর কোরিয়ার মডেল অনুসরণ করতে পারে কি না।

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনকে ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন, পরে তাকে নিরস্ত্রীকরণে রাজি করাতে তিনবার ব্যর্থ বৈঠকও করেছিলেন। সেই কিম সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, 'তার কাছে ভয়ংকর সব পারমাণবিক অস্ত্র আছে।' 

তবে এমনটা হতে দেওয়া মোটেও ঠিক হয়নি মন্তব্য করে তিনি উল্টো প্রশ্ন ছড়েন—উত্তর কোরিয়া কি প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন নাকি ওবামার আমলে পরমাণবিক বোমা বানিয়েছিল? (যদিও উত্তর কোরিয়া তাদের প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষাটি চালিয়েছিল প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে।)

তবে ট্রাম্প এই প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি যে, তার আক্রমণের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ইরানকে উত্তর কোরিয়ার মডেল অনুসরণে বাধ্য করতে পারে কি না। উল্টো তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার এই চুক্তি ইরানকে থামিয়ে দেবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উচিত ইসরায়েলকে পারমাণবিক ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য তাকে ধন্যবাদ দেওয়া।

ট্রাম্প বলেন, 'যা-ই লাগুক না কেন, গত ৪৭ বছরে (১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লব থেকে) কেউ এটা করতে পারেনি। আর আমরা এটা করেছি। আমরা একদম সঠিক উপায়েই এটা করেছি।'

ইতিহাস হয়তো একসময় ট্রাম্পকে সঠিক প্রমাণ করতে পারে, তবে সেই দাবি করার সময় এখনো আসেনি। বুধবার সকালে দেওয়া তার নিজের বক্তব্য থেকেই হয়তো তিনি নিজেও এটি বুঝতে পেরেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, যদি এই চুক্তি না টেকে, তবে তার কাছে বিকল্প পরিকল্পনা আছে। তিনি 'আবার বোমা হামলায় ফিরে যাবেন।'

Related Topics

টপ নিউজ

ট্রাম্প / ইরান / যুক্তরাষ্ট্র ইরান চুক্তি / আত্মসমর্পণ

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ছবি: রয়টার্স
    দুই চুক্তিতে ২৭০ কোটি ডলারে বিক্রি হচ্ছে ধুঁকতে থাকা ‘পিৎজা হাট’
  • কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। ছবি: রয়টার্স
    কাটছে ভিসা জটিলতা, কেপ ভার্দের সেই গোলরক্ষকের মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনছে মার্কিন প্রশাসন
  • ছবি: রয়টার্স
    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তহবিল, অর্ধেকের বেশি অর্থায়ন ইতোমধ্যেই নিশ্চিত
  • ইলাস্ট্রেশন: টিবিএস
    প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ইভি খাতে বড় বিনিয়োগ চাইবে ঢাকা
  • হোয়াইট হাউসে আয়োজিত ইউএফসি ম্যাচে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
    হোয়াইট হাউসে ইউএফসি ম্যাচে স্নাইপার-ড্রোন হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে দিল এফবিআই; টার্গেট ছিলেন ট্রাম্প, মাস্ক ও নেতানিয়াহু
  • ম্যাচের ৭৬ মিনিটে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক আদায় করে নিলেন লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত
    বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকেই সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডে ভাগ বসালেন মেসি

Related News

  • ইরান এখন চাইলেই যেকোনো সময় হরমুজ বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে: মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন
  • ট্রাম্পের ইরান চুক্তিতে ক্ষোভে ফুঁসছেন নেতানিয়াহু; চটেছেন মিত্ররাও, করছেন ব্যক্তিগত আক্রমণ
  • যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভিয়েতনামের চেয়েও বড় পরাজয় ইরান
  • ইরানের মিনাবে বালিকা বিদ্যালয়ে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ’ হামলা করেনি: ট্রাম্প
  • চুক্তির খসড়া প্রকাশ: ৩০০ বিলিয়নের তহবিল, নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ বড় ছাড় পাচ্ছে ইরান

Most Read

1
ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

দুই চুক্তিতে ২৭০ কোটি ডলারে বিক্রি হচ্ছে ধুঁকতে থাকা ‘পিৎজা হাট’

2
কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। ছবি: রয়টার্স
খেলা

কাটছে ভিসা জটিলতা, কেপ ভার্দের সেই গোলরক্ষকের মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনছে মার্কিন প্রশাসন

3
ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তহবিল, অর্ধেকের বেশি অর্থায়ন ইতোমধ্যেই নিশ্চিত

4
ইলাস্ট্রেশন: টিবিএস
অর্থনীতি

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ইভি খাতে বড় বিনিয়োগ চাইবে ঢাকা

5
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত ইউএফসি ম্যাচে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

হোয়াইট হাউসে ইউএফসি ম্যাচে স্নাইপার-ড্রোন হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে দিল এফবিআই; টার্গেট ছিলেন ট্রাম্প, মাস্ক ও নেতানিয়াহু

6
ম্যাচের ৭৬ মিনিটে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক আদায় করে নিলেন লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত
খেলা

বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকেই সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডে ভাগ বসালেন মেসি

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net