ফিলিস্তিন অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেসকা আলবানিজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র
ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার ফ্রান্সেসকা আলবানিজের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এক ফেডারেল বিচারক এই নিষেধাজ্ঞাকে আলবানিজের বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করার এক সপ্তাহ পর ওয়াশিংটন এই সিদ্ধান্ত নিল।
বুধবার মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংক্ষিপ্ত আপডেটে জানানো হয়, আলবানিজের নামটি এখন 'আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) সংক্রান্ত তালিকা থেকে অপসারণ'-এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আলবানিজের স্বামী ও মেয়ের দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জাজ রিচার্ড লিওন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করার পর এই ঘোষণাটি এল। গত ফেব্রুয়ারিতে দায়ের করা ওই মামলায় যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলিদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থানের শাস্তি হিসেবেই তার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
বিচারক লিওন তার পর্যবেক্ষণে দেখতে পান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মূলত ওই জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞের 'প্রকাশিত ধারণা বা বার্তার' কারণে তার বক্তব্যকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন আলবানিজের বিরুদ্ধে 'পক্ষপাতদুষ্ট ও বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ড' এবং 'ল'ফেয়ার' বা আইনি মারপ্যাঁচে জড়ানোর অভিযোগ তুলে এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। আলবানিজ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সুপারিশ করেছিলেন। বিচারক লিওন তার সিদ্ধান্তে বলেন, "এটি অবিসংবাদিত যে আইসিসি-র কার্যক্রমের ওপর তার সুপারিশের কোনো বাধ্যতামূলক কার্যকারিতা নেই—এগুলো স্রেফ তার ব্যক্তিগত মতামত ছাড়া আর কিছু নয়।"
বুধবারের এই ঘোষণা নিয়ে আলবানিজ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে এর আগে তিনি বলেছিলেন যে, এসব নিষেধাজ্ঞা মূলত তার 'মিশনকে দুর্বল করার লক্ষ্যে' করা হয়েছিল। গত সপ্তাহে বিচারকের স্থগিতাদেশকে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি তার স্বামী ও মেয়েকে তার পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য এবং যারা সহায়তা করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
এর আগে গত জুলাই মাসে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট আলবানিজের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেয়। তখন তিনি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন যেখানে গাজায় ইসরায়েলের 'গণহত্যামূলক যুদ্ধে' সংশ্লিষ্ট থাকার জন্য ৪৮টি কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। এই তালিকায় মাইক্রোসফট, গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট এবং অ্যামাজনের মতো মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর নামও ছিল।
আলবানিজ ২০২২ সালের মে মাস থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের মনোনীত একজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ বা র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ট্রাম্পের শাসনামলে ওয়াশিংটন প্রায়শই ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্যান্য প্রগতিশীল আন্দোলনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে নিষেধাজ্ঞাকে ব্যবহার করে আসছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও ট্রাম্প প্রশাসন গাজা অবরোধ ভাঙার প্রচেষ্টায় থাকা নৌবহরের (ফ্লোটিলা) চার জন কর্মীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করা হয়েছে যে, আয়োজকরা 'হামাসকে সমর্থনের' জন্য ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন।
এছাড়া নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কারণে ওয়াশিংটন আইসিসি-র বিচারক ও কৌঁসুলিদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। উল্লেখ্য, দ্য হেগ-ভিত্তিক ওই আদালতের কৌঁসুলি করিম খান ২০২৪ সালে গাজায় 'মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের' দায়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
