জ্বালানি তেলের দামের পূর্বাভাস আবারও বাড়াল গোল্ডম্যান স্যাকস
গোল্ডম্যান স্যাকস আবারও তেলের দাম নিয়ে তাদের পূর্বাভাস সংশোধন করে বাড়িয়েছে। মার্কিন এই বিনিয়োগ ব্যাংকটি এখন বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলার এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৮৩ ডলার হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে।
এই প্রতিবেদনটি লেখার পর্যন্ত বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেল প্রতি ১০৬.৬৮ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই ৯৫.৩৫ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছিল। মূলত ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থগিত থাকা এবং তা পুনরায় শুরুর অনিশ্চয়তার কারণেই বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা।
সপ্তাহান্তে প্রকাশিত এক নোটে গোল্ডম্যানের বিশ্লেষকরা বলেছেন, "অর্থনৈতিক ঝুঁকি আমাদের মূল প্রাক্কলনের চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ তেলের দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি, পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য, পণ্যের ঘাটতি এবং এই নজিরবিহীন ধাক্কার মাত্রা বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।"
গোল্ডম্যান স্যাকসের মতে, এই ধাক্কা তেলের চাহিদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে শুরু করবে এবং প্রকৃতপক্ষে তা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ব্যাংকটির বিশেষজ্ঞ দল ধারণা করছে, চলতি প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা প্রতিদিন ১৭ লাখ ব্যারেল কমবে। এ ছাড়া ২০২৫ সালের তুলনায়, ২০২৬ সালে তেলের চাহিদা দৈনিক প্রায় ১ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেতে পারে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এই বিনিয়োগ ব্যাংক তাদের নোটে আরও লিখেছে, "মজুত থেকে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। তাই সরবরাহ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের চাহিদা আরও ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।" এছাড়া ব্যাংকটি প্রাক্কলন করেছে যে, চলতি মাসে মধ্যপ্রাচ্যে দৈনিক তেল উৎপাদনের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল।
এদিকে, আইএনজি গ্রুপের পণ্য বিশ্লেষকরা আজ সকালে লিখেছেন, "শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির অভাবের অর্থ হলো বাজার প্রতিদিন আরও সংকুচিত হচ্ছে, যার ফলে তেলের দাম আরও উচ্চ স্তরে পুনর্নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন। বাজারের প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেলের এই বিশাল ঘাটতি মেটানোর বিকল্প পথ খুব কমই আছে।"
সরবরাহ সংকটের কারণে তেলের দাম অনিবার্যভাবে বাড়বে, যা চাহিদার সম্ভাবনাকেও ম্লান করে দেবে বলে জানিয়েছেন আইএনজির বিশ্লেষক ওয়ারেন প্যাটারসন এবং ইওয়া ম্যানথে। তারা উল্লেখ করেছেন, "স্বল্প মেয়াদে বাণিজ্যিক বা কৌশলগত রিজার্ভ এই ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করছে। তবে এটি যত দীর্ঘ হবে, চাহিদার তত বেশি সংকোচন দেখা যাবে। আর সেই চাহিদা কমাতে হলে তেলের দাম আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে।"
